লাখো রোহিঙ্গার ভিড়ে বাবাকে খুঁজে ফিরছে ফরিদ

0
355

সময়ের বার্তা ডেস্ক।।

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ত্রাণ হিসেবে পাওয়া চালের বস্তা নিয়ে জড়ো হয়েছেন কয়েকজন রোহিঙ্গা পুরুষ। জটলার মধ্যে হঠাৎ ঢুকে পড়ে ১০-১২ বছর বয়সী এক শিশু। শিশুটি বোধহয় ত্রাণ চুরি করতে এসেছে-এই ভাবনা থেকে তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে জটলা থেকে বের করে দেওয়ার উপক্রম হয়।

হঠাৎ শিশুটি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে আর কাতর কণ্ঠে তার বলতে থাকে, ‘আঁই চোর ন, আঁর বাপরে তোয়াইরদি। আঁর ছোড ভাইয়রে হাটি ফালাইয়্যি। আঁর বাপ বরমারতুন আইত পাইরগ্যি কি না ন জানি। আইঁ তোয়াই চাইরদি।’ (আমি চোর নই, আমার বাবাকে খুঁজছি। আমার ছোট ভাইটাকে কেটে ফেলেছে। আমার বাবা বার্মা থেকে আসতে পেরেছে কি না জানি না। আমি খুঁজে দেখছি। )

সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) উখিয়ার কুতুপালংয়ের আমতল এলাকায় চোখে পড়ে শিশুটির এমন আহাজারি।

কথা হয় ফরিদ উল্লাহ নামের শিশুটির সঙ্গে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু জেলার ওয়াইব্যাক গ্রামের হাফেজ সৈয়দ আলমের ছেলে সে। ১৫ দিন আগে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে মা, ভাইবোনদের নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ফরিদ।

মিয়ানমারে ফরিদের চোখের সামনে তার পাঁচ বছরের ছোট ভাইকে কেটে ফেলেছে সেনাবাহিনী।

নৃশংস এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করা ফরিদ মা, ভাই-বোনদের নিয়ে পালাতে গিয়ে হারিয়ে ফেলেছে তার ৬০ বছরের বৃদ্ধ বাবাকে। বাবাও মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কিংবা মগদের হাতে প্রাণ দিয়েছে কি না জানে না ফরিদ। তবে তার বিশ্বাস, বাবা বেঁচে আছেন। পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন।

আর তাই ফরিদ এখন ক্যাম্পে আর জটলায় খুঁজে ফিরছে বাবাকে। খুঁজতে গিয়ে চোখের সামনে নিজের ভাইয়ের বয়সী কাউকে দেখলে আটকাতে পারে না চোখের পানি।

ফরিদ জানায়, তার বাবা কোরআনের হাফেজ। মাদ্রাসা শিক্ষক। সেও কোরআনের ১৫ পারা শেষ করেছে। তিন ভাই, এক বোনের মধ্যে সবার ছোট ভাই আকরাম উল্লাহকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কেটে ফেলেছে।