শাস্তি বাড়িয়ে দ্রুত বিচার আইন সংশোধনে সংসদে বিল

0
31

সময়ের বার্তা ।।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে প্রণীত দ্রুত বিচার আইন সংশোধন করে শাস্তি বাড়ানোর প্রস্তাব সংসদে উঠেছে। সংশোধিত আইনে অপরাধের শাস্তি পাঁচ বছর কারাদণ্ড থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বিলটি সংসদে তোলেন। এর নাম আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) আইন- ২০১৮।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ২০০২ সালে আইনটি প্রণয়ন করে দুই বছরের জন্য কার্যকর করা হয়। কিন্তু এরপর থেকে প্রথমে বিএনপি, পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং সবশেষে আওয়ামী লীগ সরকার বারবার এর মেয়াদ বাড়িয়েছে।

আবার বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় প্রথমে আওয়ামী লীগ এবং পরে বিএনপি এমন আইনকে নিপীড়নমূলক দাবি করে আসছে।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৩ এপ্রিল আইনটি সংশোধন করে পাঁচ বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ায় বর্তমান সরকার।

আইনটি সংশোধনের কারণ ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেন, ‘আইনে ধারা ৪ এর উপ-ধারা (১) এ বিধৃত শাস্তির পরিমাণ কম থাকায় আইনটি সময়োপযোগীকরণ এবং দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অধিকতর উন্নতির লক্ষ্যে এ আইনের বিধৃত শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।’

উত্থাপনের পর বিলটি সাত দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

২০০২ সালের এ সংক্রান্ত আইনের ৪(১) ধারায় ‘আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ’ এর জন্য সর্বনিম্ন দুই বছর এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান ছিল।

এই সাজা বাড়িয়ে বাড়িয়ে সর্বনিম্ন দুই বছর ও সর্বোচ্চ সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আইনে কোনো ব্যক্তি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কাছ জোরপূর্বক চাঁদা, সাহায্য বা অন্য কোনো নামে অর্থ বা মালামাল দাবি বা আদায় বা আদায়ের চেষ্টা করলে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে।

স্থল, রেল, জল বা আকাশপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা, যানবাহনের ক্ষতি করা; সরকারি, বেসরকারি সম্পত্তিতে হামলা করলেও এই আইনের অধীনে সাজা দেওয়া যাবে।

সংশোধিত আইনে আদালত গঠনের বিধানেও পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনের ৮(২) ধারায় সরকার কর্তৃক নিযুক্ত প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে আদালত গঠন করার কথা বলা আছে।

এই বিধান পা্ল্টে সরকারের বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটকে আদালতের বিচারক নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।