শ্রমিকদের চাকুরীচ্যুতির প্রতিবাদে বিজিএমইএ ভবনের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবস্থান

0
126

ঢাকা অফিস॥ নব গঠিত শ্রমিক ইউনিয়ন বন্ধের চক্রান্ত রুখে দাঁড়াও বে-আইনীভাবে শ্রমিকদের চাকুরীচ্যুতির প্রতিবাদে বিজিএমইএ ভবনের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচী ১৮ সেপ্টেম্বর’ সোমবার সকাল ১০.৩০ ঘটিকার সময় বিজিএমইএ ভবনের সামনে কিউ পয়েন্ট ফ্যাশন্স শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (প্রস্তাবিত) এর উদ্যোগে ইউনিয়ন বন্ধের অপচেষ্টা, কর্মরত শ্রমিকদের চাকুরীচ্যুত ও স্থানীয় সন্ত্রাসী দিয়ে ভয়ভীতি নির্যাতনের প্রতিবাদে গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচী অনুষ্ঠিত।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়নের সভাপতি রাজিয়া সুলতানা। বক্তব্য রাখবেন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অন্তর, সংহতি বক্তব্য রাখবেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ফারুক খান, গ্রীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, কিউ পয়েন্ট ফ্যাশন্স শ্রমিক মোঃ ওয়াসিম, আলম, মাসুদ, সোহেল রানা, বুলবুলিসহ প্রমুখ ।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, জামুর মুচিপাড়া, হেমায়েতপুর, সাভারে অবস্থিত কিউ পয়েন্ট ফ্যাশন্স লিঃ এর শ্রমিকরা গত ৩১ আগষ্ট শ্রম দপ্তরে একটি শ্রমিক ইউনিয়ন দাখিল করেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ ইউনিয়নের বিষয়টি জানতে পেরে কর্মরত শ্রমিকদের ভয়ভীতি, চাকুরীচ্যুত, মারধর এমনকি যাতায়াত পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। শ্রমিকদের জানিয়ে দেয় এ কারখানায় তাদের আর কোন প্রয়োজন নাই। বক্তারা আরও বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ- শ্রমিক কর্মচারী, বিজিএমইএ, কলকারখানা অধিদপ্তর, শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সাথে একাধিকবার চুক্তি করলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ আদৌও একটি চুক্তিও বাস্তবায়ন করেন নাই। কারখানার পিএম বাবু হাওলাদার, এডমিন এইচআর কমপ্লায়েন্স মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান শ্রমিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, চরথাপ্পর এমনকি স্থানীয় সন্ত্রাসী দ্বারা হুমকি দিয়ে থাকে।

কারখানা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের প্রচলিত শ্রম আইনকে তোয়াক্কা না করে তাদের ইচ্ছা-খুশীমত কারখানা পরিচালনা করে শ্রমিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অব্যাহতিপত্রে স্বাক্ষর রেখে বের করে দেয়। এ কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের স্থায়ী কোন নিয়োগ পত্র প্রদান করা হয় না। নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ সুবিধাদী দেওয়া হয় না। শ্রমিকদের নৈমত্তিক, বাৎসরিক, মেডিকেল ছুটি কোন কিছুই কারখানা কর্তৃপক্ষ কার্যকর করে না। গত ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নারী শ্রমিক সমাবেশ ও লাল পতাকা বিক্ষোভ মিছিল করে এবং ১৩ সেপ্টেম্বর বিজিএমইএ তে অভিযোগ দায়ের করে এছাড়াও যুগ্ম শ্রম পরিচালকের বরাবরে একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়।

এখন পর্যন্ত শ্রমিকদের ব্যাপারে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও বিজিএমইএ সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে কোন ধরনের আগ্রহ প্রকাশ করে নাই। বক্তারা হুশিয়ার করে বলেন কারখানা কর্তৃপক্ষ কর্মকান্ড বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর সর্বশেষ সংশোধনী-২০১৩’র ১৯৫ ধারা অসৎ শ্রম আচরনের শামীল এবং যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অবিলম্বে সকল শ্রমিকদের চাকুরীতে পুনঃবহালসহ তাদের আইনানুগ প্রাপ্যাদী পরিশোধের আহ্বান জানান। অন্যথায় ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকরা শ্রম মন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ স্মারকলিপি কর্মসূচীতে যেতে বাধ্য হবে। বার্তা প্রেরক