শ্রমিক সংকটে পাাকা ধান ঝড়ে যাচ্ছে মাঠে, হতাশায় কৃষকরা

0
23

রহিম রেজা, রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি।।

ঝালকাঠির রাজাপুরে চলতে মৌসুমে ধান কাটা শুরু হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবসাগরে নিন্মচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠির রাজাপুরে সম্প্রতি অসময়ের ঝড়ো বৃষ্টিতে নিচু এলাকার পাকা ও আধা পাকা ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হলেও শ্রমিক সংকটে তা কেটে ঘরে তুলতে পারছে না। শুধু রাজাপুুর নয়, উপকূলীয় এ জেলায় চলতি মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলন হলেও হঠাৎ করে ঝড়ো বৃষ্টির প্রভাবে অধিকাংশ জমির পাকা ও আধা পাকা ধান নিয়ে বিপাকে রয়েছে কৃষকরা। জেলার প্রধানত ৪৩টি উপজেলা ঝালকাঠি সদর, রাজাপুর, কাঁঠালিয়া ও নলছিটির বোরো প্রধান এলাকায় চাষিরা এখন ধান কাটার সময় শ্রমিক সংকটে পড়েছে। পাকা ধান ক্ষেতেই পেকে ঝরে যাচ্ছে।

এ জেলায় ৫০ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমে আমনের আবাদ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরও ধানের বাজার ভাল থাকায় বোরো চাষিরা লাভের স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু চাষিরা দৈনিক ৫’শ থেকে ৭’শ টাকা মজুরি দিয়েও কৃষি শ্রমিক পাচ্ছে না। আর এ কারণে মাঠের ধান মাঠে ঝরে গিয়ে উৎপাদন হারাচ্ছে চাষিরা। কৃষি বিভাগ দাবি করেছে আগামীতে পদ্মা সেতু নির্মান হলে দক্ষিন অঞ্চলের মধ্যে ঝালকাঠি জেলায়ও বিভিন্ন এলাকায় মিল কারখানা গড়ে উঠবে। তখন কৃষি শ্রমিক সংকট আরও বড় আকার ধারন করবে।আর কৃষি বিভাগ সেই দিক বিবেচনা করে কৃষকদের দলবদ্ধ করে চাষাবাদকে যান্ত্রিকতার আওতায় আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই কৃষকদের উপস্থিতিতে কম্বাইন্ড হারবেষ্টার, ডিপার মেশিন- এই যন্ত্রগুলি দিয়ে কৃষকের মাঠের ধান কর্তন করে মাঠ দিবস করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে যন্ত্রের উপকারিতা ও অর্থ নৈতিক সাশ্রয় বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে। কয়েকজন কৃষক জানান, এবছর বোরো আবাদ ভালো হয়েছে কিন্তু দৈনিক ৭’শ থেকে ৭’শ টাকা মজুরি দিয়েও কৃষি শ্রমিক পাচ্ছি না। আর এ কারণে মাঠের ধান মাঠে ঝরে গিয়ে উৎপাদন হারাচ্ছি আমরা চাষিরা। ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক জানান, কৃষি শ্রমিকের সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখেই চাষাবাদে কৃষকদের যান্ত্রিকতায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য রিপার মেশিন ও কম্বাইন্ড হারবেষ্টার সহ কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় শুরু করা হয়েছে। কৃষকরা জানান, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আমানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের সেই স্বপ্ন কষ্টার্জিত ধান এখন কাঁদা পানিতে লেপ্টে আছে।

আশানুরূপ ফলন থেকে এবার কৃষকরা বঞ্চিত হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। বর্ষা অব্যাহত থাকলে ক্ষেতের ধান সঠিকভাবে কেটে ঘরে তোলা অসম্ভব বলে মনে করছে কৃষকরা। জেলা কৃষি সম্প্রসাধরন অফিস জানিয়েছে, এ জেলায় ৫০ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমে আমনের আবাদ করা হয়েছে। কয়েক দিনের বর্ষণে প্রায় ২৩শ’ ৭০ হেক্টর জমির আমন ধান হেলে পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ধানের খড়কুটা পচে যাওয়ায় ও কর্দমাক্ত হওয়ায় গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিবে বলেও মনে করছে কৃষকরা। কৃষকরা লোকসান মুখে পড়বে বলেও ধারনা তাদের। ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক জানান, কৃষকদের পাকা ধান কাটা এবং নিচু জমির পানি সরিয়ে দেয়ার পরামর্শ নেয়া হচ্ছে। শ্রমিক সংকটে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

মোঃ আঃ রহিম রেজা

রাজাপুর, ঝালকাঠি।