সংখ্যালঘু উচ্ছেদের মিশনে ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জম!

0
34

এম. লোকমান হোসাঈন ॥  আওয়ামীলীগ মানেই হিন্দু সম্পদায়ের একটি বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক! ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে হিন্দু সম্পদায় আওয়ামীলীগ এর উপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেই নৌকা মার্কা ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে একাধিকভার বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে পেয়েছেন।

এর বিনিময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে হিন্দু সম্পদায় পেয়েছেন জানমালের নিরাপত্তা সহ একটি স্বাধীন দেশে বসবাস করতে যে যে সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন তার পুরাটাই পেয়েছেন হিন্দু সম্পদায়রা। এমনটাই দাবী করছেন স্থানীয় সচেতন মহল সহ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ বন্ধুবর ভারতও। সেই বিশ্বাসের ঘরে হানা দিতে এবার উঠে পরে লেগেছেন হিন্দু সম্পদায়ের সম্পত্তি আত্মসাতকারী এম. মোয়াজ্জেম হোসেন নামের একজন ভূমিদস্যু।

জালজালিয়াতির মাধ্যমে একরের পর একর সম্পত্তি দখল করে উচ্ছেদের চেষ্টা করানো হচ্ছে উজিরপুরের বাসিন্দা সুকদেব কুমার শিয়ালী, চিত্তরঞ্জন শিয়ালী, রণজিৎ শিয়ালী সহ একাধিক হিন্দু সম্প্রদায়কে। স্থানীয়দের অভিযোগ একজন জাহাজের ক্যাপ্টেন সংখ্যালঘুদের জমি জবর-দখল করে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন ক্যাপ্টেন এম. মোয়াজ্জেম হোসেন। এই ভূমিদস্যুখ্যাত মোয়াজ্জেম হোসেনের হাত থেকে রক্ষা পাননি হিন্দু সম্পদায়ের পাশাপাশি মুসলমানরাও।

শুধু তাই নয় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদেরও হারাতে হয়েছে নিজেস্ব পৈর্তৃক সম্পত্তি। আর নিরীহ হিন্দু সম্পদায়কে বিভিন্ন মামলা দিয়ে করানো হচ্ছে উচ্ছেদ। এমনকি মোয়াজ্জেম হোসেনের ক্যাডার বাহীনির হাত থেকে জীবন রক্ষায় দেশের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশী পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকেই।

 

স্থানীয়দের মতামত, মোয়াজ্জেম হোসেনের মত একজন ভুমিদস্যু যদি এমপি হন তাহলে এই উজিরপুরের পুরো এলাকার বাসিন্দা হিন্দু সম্পদায়ের ভিটা ছাড়া করবেন মোয়াজ্জেম। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ আসনে (উজিরপুর-বানারীপাড়া) নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ক্যাপ্টেন এম মোয়াজ্জেম হোসেন।

 

ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, এক সময়ের জাহাজের ক্যাপ্টেন পদে চাকরি করে আলাদিনের চেরাগ পেয়ে বর্তমানে শিল্পপতি দাবিদার এই এম মোয়াজ্জেম হোসেন। হঠাৎ করে বিশাল বিত্ত বৈভবের মালিক বনে যাওয়া এম মোয়াজ্জেম হোসেন গত ২/৩ মাস ধরে নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসন থেকে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রচার করছেন।

এমনকি নিজেকে বড় ধরনের আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে জানান দিয়ে তোরণ নির্মাণ, ব্যাপক পোষ্টারিং ও ফেস্টুন সাটিয়েছে। এম মোয়াজ্জেম হোসেন সংখ্যালঘু পরিবারদের সম্পত্তি দখল ও দখলের চেষ্টা এবং সংখ্যালঘুদের নানান ভাবে হয়রানি করার বিষয় স্বীকারও করেন।