সমুদ্রের অপটিক ফাইবার কেবল এখন কুয়াকাটায় “তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ”

0
57

এম জাকির হোসাইন, কুয়াকাটা।।

জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখার সক্ষমতা নিয়ে চলছে কুয়াকাটায় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনের শেষ পর্যায়ের কাজ। ১৫০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে চলছে এ কাজ। গভীর সমুদ্র থেকে অপটিক ফাইবার কেবল বসানোর জন্য কুয়াকাটা সৈকতে ক্যানেল তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। ইতোমধ্যে স্টেশনের ইন্টারনাল কেবল ল্যান্ডিংয়ের কাজ পর্যটন মোটেল পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে। সৈকত থেকে অবশিষ্ট কাজ শেষ হতে এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অপটিক মেরিন সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

বিএসসিসিএল সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত সমুদ্রের তলদেশে দিয়ে ২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ কেবল স্থাপন করা হয়েছে। ফ্রান্স থেকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা, মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশে এ কেবল সংযুক্ত হতে যাচ্ছে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের অদূরে অবস্থানরত মেরিন জাহাজ থেকে অপটিক ফাইবার কেবল ল্যাংন্ডিয়ের কাজ চলছে। এস্কাভেটর দিয়ে সৈকতে ক্যানেল তৈরি করে বসানো হচ্ছে অপটিক ফাইবার কেবল। এ কাজ চলবে পর্যটন মোটেল পর্যন্ত। ইন্টারনাল ল্যান্ডিং কেবলের সাথে সংযোগ দিতে কাজ করছে মালয়েশিয়া ও জাপানের প্রকৌশলীরা।

বুধবার বিকেলে সৈকতে পরিদর্শনকালে দেখা হয় কুয়াকাটা সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনের ম্যানেজার সুবরং কিশোর দাস’র সাথে। তিনি জানালেন, ল্যান্ডিং স্টেশন, সংযোগ লাইন স্থাপন ও ফাংশনাল বিল্ডিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গভীর সমুদ্র থেকে কেবল ল্যান্ডিংয়ের কাজ চলছে। স্টেশন পর্যন্ত পুরো কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় দুই মাস লেগে যেতে পারে।

কুয়াকাটা সৈকতে অপটিক ফাইবার কেবল ল্যান্ডিংয়ের কাজ চলাকালে কথা হয় অপটিক মেরিন সার্ভিসের প্রধান ক্যাপ্টেন ইজাজ’র সাথে। কাজের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সময় দিয়ে বলেন, ‘উই হ্যাভ স্টারটেড ল্যান্ডিং অপটিক্যাল ফাইবার কেবল টু কানেক্ট উইথ দ্যা ইন্টারনাল ল্যান্ডিং কেবল অব দ্যা সাবমেরিন স্টেশন। দিস ওয়ার্ক উইল টেইক সেভেন ডেইজ টু কমপ্লিট। টু ডেইজ আর গোইং অন।’ (সাবমেরিন স্টেশনের অভ্যন্তরীণ কেবলের সাথে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল সংযোগ দিতে আমরা কাজ শুরু করেছি। এ কাজ সম্পন্ন হতে সাত দিন লেগে যাবে। আজ দ্বিতীয় দিন চলছে।)

কুয়াকাটার আমাখোলা পাড়ায় ১০ একর জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনটি। ৬৬০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে ২০১৩ সালে নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। সাবমেরিন ল্যান্ডিং স্টেশনটির মাধ্যমে বিশ্বের অবাধ তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হবে বাংলাদেশ। ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করে এ খাত থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব পাবে সরকার। স্টেশনটির কার্যক্রম শুরু হলে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা ভোগ করবে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এ সাবমেরিন কেবল স্টেশনটি চালু হওয়ার কথা রয়েছে।