সম্পাদককে হত্যার হুমকি“মাদক ব্যবসায়ী রিয়াজের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরী”

0
79

বরিশাল অফিস॥ থানায় অভিযোগের একদিন পরই ভাড়াটে সন্ত্রাসীদিয়ে সম্পাদক এম. লোকমান হোসাঈনকে হত্যার হুমকি প্রদান করেছেন কাশিপুরের রিয়াজ উদ্দিন। গত শনিবার মাদক ব্যবসায়ী রিয়াজের বিরুদ্ধে থানায় হত্যার হুমকি প্রদান এর অভিযোগ এনে প্রকাশক ও সম্পাদক এম.লোকমান হোসাঈন  জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

আজ (রবিবার) ২৫ জুন ০১৭ইং তারিখ ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে হাত-পা কেটে হত্যা করবেন বলে মুঠোফোনে হুমকি প্রদান করেন। এম লোকমান হোসাঈন, বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের সময়ের বার্তা পত্রিকার, প্রকাশক ও সম্পাদক।

পত্রিকাটির সম্পাদক এম.লোকমান হোসাঈন জানান, গত ২২ জুন ২০১৭ খ্রি: বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৮ মিনিটের সময়ে, অফিসে অবস্থান কালীন (সময়ের বার্তা,কার্যলায়,ফকির বাড়ী রোড় বরিশাল)  তার ব্যবহৃত (০১৭২৬-৪৭৮২০৮) মোবাইল ফোনে (০১৭২৬-৪৭৮৫৯১) নাম্বার থেকে একটি কল আসে।

তিনি নিজেকে কাশিপুর চৌমাথা এলাকার রিয়াজ উদ্দিন পরিচয় দিয়ে সম্পাদক ও পত্রিকার সংবাদকর্মীকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে।

এসময় রিয়াজ হুমকি দিয়ে বলে, একদিনের মধ্যে আমাদের দেখিয়ে দিবে। কাশিপুর এলাকায় ঢুকতে দিবে না এবং হাত পা ভেঙ্গে দিবে। মুঠোফোনে তিনি পরোক্ষ ভাষায় আমাদের হত্যার হুমকি প্রদান করেছেন।

এমতাবস্থায় আমার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি, নিরাপত্তাহীন বোধকরছি। ৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ড কথা হয় তার সাথে, তিনি যেসব কথা বলেছেন তার রেকর্ডিং রয়েছে আমার কাছে। হুমকির পর ২৩ জুন ০১৭ইং শুক্রবার তারিখে রিয়াজ তার ব্যক্তিগত সেইসবুক আইডি দিয়ে অশ্লিল ভাষায় আমাকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বক্তব্য পোস্ট করেছেন।

 

আজ রবিবার ২৫/০৬/০১৭ ইং সময় ১টা ২৯ মিঃ এ পূণরায় আমার ব্যবহৃত (০১৭২৬-৪৭৮২০৮) মোবাইল ফোনে (০১৯৯৭১০২৩৩৩) নাম্বার থেকে একটি কল আসে যিনি নিজেকে আবু সালেহ্ মোহাম্মদ কিবরিয়া পরিচয় দিয়ে হুমকি প্রদান করে বলেন, কাশিপুর এলাকার এক ব্যক্তির হাত যে ভাবে কেটে দিছি।

ঠিক সেই ভাবে আজ রাত ৮টার মধ্যে আমার হাত-পা কেটে দিবে এবং হত্যা করবেন বলে হুমকি প্রদান করেন ও অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে। উক্ত রিয়াজ উদ্দিন ০২ নং ইউনিয়ন কাশিপুর চৌমাথার বাসীন্দা। পিতাঃ মৃত সেকান্দার আলী ওরফে সেকান্দার ডাক্তার। সাং ০৭ নং ওয়ার্ড গণপাড়া,কাশিপুর,বরিশাল।

বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের উদ্ধতন কতৃপর্ক্ষে সহযোগিতা কামনা করছেন। রবিবার দুপুরে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। ডায়েরী নং ১১৮৩/০১৭

এবিষয় বরিশালের বিভিন্ন পত্রিকার‌, সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতারা মাদক ব্যবসায়ী রিয়াজ উদ্দিনকে বিচারের আওতায় এনে শাস্তির দাবী করেছন।

উল্লেখ্য,কিছুদিন পূর্বে রিয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত এমন অভিযোগ এনে এম.লোকমান হোসাঈন এর সম্পাদিত দৈনিক “আজকের সময়ের বার্তা” পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়।
সংবাদটি পাঠকদের অনুরুধে পূণরায় দেয়া হলো।

মূল বাড়ি মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া ইউনিয়ন এলাকায়। নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হওয়ায় পারি জমায় বরিশালে। কাশিপুর ইউনিয়ন চৌমাথা এলাকার নানা বাড়ীতে নেয় ঠাই। একসময়ে নানা বাড়ী থেকে ধারদেনা করে বিদেশে পারি জমায় রিয়াজ উদ্দিন। বিদেশে আশানুরুপ সুবিধা করতে না পেরে কিছুদিন পর আবার দেশে ফেরে। দেশে এসেই মিশে যায় স্থানীয় কিছু জমি বিক্রিকারী দালালদের সাথে।

আর সেই জমির দালালীর সাইনবোর্ড ব্যবহার করে কাশিপুর চৌমাথায় গড়ে তুলেছে রিয়াজ বাহিনীর রমরমা মাদক বানিজ্য। এমনটাই অবিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয়দের মাধ্যমে। রিয়াজ উদ্দিন কাশিপুর চৌমাথা ও কাশিপুর ইউনিয়ন এলাকার চিহিৃত কিছু মাদক ব্যবসায়ীদের অর্থ যোগান দিয়ে ব্যবসা করাচ্ছেন বলেও জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,ইয়াবার ডিলার রিয়াজ বরিশালের বিভিন্ন স্থান থেকে জমি কিনতে আসা মানুষদের নানান ভাবে জিম্মি করে বেশী টাকায় জমি ক্রয় করিয়ে দিতেন। যা থেকে জমির আসল মালিকদের কাছ থেকে কিছু কমিশন পেতেন। যা দিয়ে কোন মতে সংসার চালাতো। এক পর্যায় জমির দালালী করে ভাল টাকা জমিয়েছেন। বর্তমানে জমি ক্রয়-বিক্রয় না থাকাতে বেছে নেন মাদক ব্যবসা। বর্তমানে মাদকই একমাত্র পথ, অল্প পুজিতে বেশী আয়ের রাস্তা। জমি দালালীর কিছু টাকা জমিয়ে ওই টাকা স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের পার্টনার হিসাবে ছিল।

 

স্থানীয়রা আরও জানান, রিয়াজ উদ্দিন বাহিনীর মূল টার্গেট উঠতি বয়সী স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা। রিয়াজ বাহিনীর মাধ্যমে মাদকে আসক্ত একাধিক শিক্ষার্থীর অভিবাক বলেন, রিয়াজ কাশিপুরের উঠতি বয়সী বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকদের অর্থের লালসা দেখিয়ে মাদক ব্যবসায় জড়াচ্ছেন। ইতিপূর্বে এলাকার লোকজন রিয়াজ ও তার বাহিনীকে মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করলে ওই এলাকাতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। জানা গেছে, রিয়াজ ওই এলাকার প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করেই এই ব্যবসা চালাচ্ছেন। এমনকি বরিশাল এয়ারপোর্ট থানা পুলিশদের ম্যানেজ করার কথাও লোকমুখে শোনা যায়। যে কারনে রিয়াজ উদ্দিনের ভয়তে ওই এলাকাতে কেউ মুখ খোলতে পারছে না। সূত্র মতে, কোন অভিবাক রিয়াজ ও তার বাহিনীদের মাদক ব্যবসা করারয় নিষেধ করলে বা কোন যুবক মাদক ব্যবসা করতে অপরাগত করলে তাদের মাদক দিয়ে ধড়িয়ে দেবার হুমকি দেন। কাশিপুরের  সোহেল ওরফে গাজা সোহেলের কথামত আল-আমিন নামে এক যুবক দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসা করে আসছিল।

 

উল্লেখ্য কাশিপুর ইউনিয়নের লাকুটিয়া (সাবেক পুলিশ ফাঁড়ি) এলাকার গাজা সোহেলকে দালাল রিয়াজ উদ্দিন পাইকারী মাদক ক্রয় করার জন্য অর্থসহযোগিতা করে বলেও নির্ভরযোগ্য সুত্রের দাবী। গাজা সোহেল কিছুদিন পূর্বে বরিশাল নগর ডিবি পুলিশ হাতে বিপুল পরিমান ইয়াবা’সহ আটক হয়। সোহেল পুলিশের হাতের আটকের পরপরেই মাদক ব্যবসার হাল ধড়েন রিয়াজ। এদিকে সোহেল আটকের পর কাশিপুর বিল্বাবাড়ীর, সিমেন্ট’র পুল (আরআরএফ পুলিশ লাইন্স) এলাকার বাসীন্দা আল-আমিনকে রিয়াজের নিয়ন্ত্রেণে মাদক ব্যবসা করার জন্য অনুরোধ করেন কিন্তু আল-আমিন নিজেই আলাদা মাদক ব্যবসা শুরু করেন। আল-আমিনের অন্যান্য সহযোগিরা জানান, গাজা সোহেলকে আটকের পরপরি আল-আমিনকে চৌমাথার রিয়াজ তার আন্ডারে মাদক ব্যবসা করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

 

যদি তার নিয়ন্ত্রেণে ব্যবসা না করে তাহলে পুলিশে ধড়িয়ে দিবেন বলে হুমকি দেয়। কিন্তু আল আমিন নিজেই আলাদা ব্যবসা করবেন বলে রিয়াজকে সাব জানিয়ে দেয় এবং আল-আমিন কাশিপুর মুর্খাজিরপুল, সিমের্ন্টর পুল, নগরীর নতুন বাজার, সাধুর বটতলা ও বিএম কলেজ এলাকাসহ বিভিন্ন অলিগলিতে মাদক ব্যবসার প্রসার ঘটাচ্ছেন । কিছুদিন আগে বরিশাল এপিবিএন পুলিশ ২১ পিস ইয়াবা’সহ আল-আমিনকে আটক করে। আল-আমিন আটকের সূত্র ধরেই অন্যান্য সহযোগিরা রিয়াজের নিয়ন্ত্রেণে থাকা বিল্বাবাড়ী এলাকার মাদক ব্যবসায়ী মুশারফ (মুশা গাজীর) ছেলে রাজীব, ছালাম এর ছেলে শিপন ও জাহাঙ্গীরের ছেলে জাহিদকে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল এয়ারর্পোট থানার পুলিশ ওই তিন জনাকে ইয়াবা’সহ আটক করেছে। তবে রিয়াজ উদ্দিন থানা পুলিশ ম্যানেজ করে ৩ জানকেই ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।