সময়ের বার্তার সম্পাদক সহ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে’র সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত

0
574

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অনলাইন প্রেস ইউনিটির সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, সত্য সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক হয়রানি মামলার শিকার হয়। এই বর্তমানের উত্তরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি প্রয়োজন। তা না হলে সাংবাদিকতা ক্রমশ হুমকির মুখে পতিত হবে।

২২ মার্চ বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল না বানিয়ে টাকা আত্মসাতের সংবাদ প্রকাশ করায় বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের সময়ের বার্তার সম্পাদক সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা উপরোক্ত কথা বলেন।

শত শত সংবাদকর্মীর উপস্থিতিতে এসময় বক্তব্য রাখেন অনলাইন প্রেস ইউনিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ভাইস চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, শান্তা ফারজানা, যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল হক পুনম, শরীফ রুবেল, বিএমএসএফ সদস্য সোহাগ আরেফিন প্রমুখ। বক্তারা এসময় হয়রানি মূলক মিথ্যে মামলা প্রত্যাহার, বিনা ওয়ারেন্টে অফিস থেকে গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকের মুক্তি দাবী করেন।

 

উল্লেখ্য, বরিশাল থেকে প্রকাশিত স্বাধীনতার স্বপক্ষের গণমানুষের দৈনিক আজকের সময়ের বার্তা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক। উক্ত পত্রিকাটি এম লোকমান হোসাঈনের সম্পাদনায় নিয়মিতভাবে দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে আসছি। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল জেলা পরিষদের বেশ কিছু দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হয়।

 

উক্ত সংবাদের জের ধরে পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মোঃ ফরহাদ হোসেন ফুয়াদ ও যুগ্ম সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৩০/০১/২০১৯ ইং তারিখ বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম বাদী হয়ে বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বিজ্ঞ বিচারক মোঃ কবির উদ্দিন প্রামানিক এর আদালতে ১০ কোটি টাকার মানহানির একটি মামলা দায়ের করেন। এসময় উক্ত মামলায় ২০১৮ সনের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৪৬ এর ২৫/২৯ ধারায় এবং দঃ বিঃ আইনের ৫০০,৫০১, ৫০২ ও ১০৯ ধারা উল্লেখ করেন। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এফ.আই.আর হিসাবে নেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

 

যাহার নালিশী মামলা নং- এমপি ২৩/২০১৯ (কোতয়ালী),তারিখঃ- ৩০/১/২০১৯। এর কিছুদিন পর অর্থাৎ মার্চ মাসের ১৩ তারিখ উক্ত মামলাটির নথি (নালিশী, আদেশ) সরিয়ে দিয়ে একটি নতুন নথি স্থলাভিষিক্ত করেন। যাহার নালিশীতে দঃবিঃ আইনের ৫০০/৫০১/৫০২/১০৯ ধারার পাশাপাশি আরো নতুন কিছু ধারা যেমন- ৩৮৫ /৩৮৬/ ৩৮৭ /৩৭৯ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কোন ধারা উল্লখ করা হয়নি।

 

এই মামলার নাম্বারটা ও দেখা যায় এম.পি-২৩/২০১৯ ( কোতয়ালী)। এবং আদেশে দেখা যায় যে, এই মামলাটি দায়ের হয়েছে ৩০/১/২০১৯ তারিখে। যেখানে সংশ্লিষ্ট ধারায় অর্থাৎ, দঃবিঃআইনের ৩৮৫/৩৮৬/৩৮৭/৩৭৯/৫০০/৫০১/৫০২ ধারায় অপরাধ আমলে গ্রহন করে এফ.আই.আর এর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ৩০/১/২০১৯ তারিখের দায়েরকৃত নালিশীতে দঃবিঃআইনের ৩৮৫/৩৮৭/৩৭৯ ধারা আদৌ ছিলনা। এমনকি উক্ত ৩০/১/২০১৯ তারিখের ফাইলিং রেজিস্টারেও এই ৩৮৫/৩৮৭/৩৭৯ ধারার কোন অস্তিত্ব নেই।

অর্থাৎ, সম্পুর্ণ বে-আইনী ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই ধরনের ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ড স্বয়ং বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব কবির উদ্দিন প্রামানিক সাহেব করেছেন। এমতবস্থায় সম্পাদক সহ সকল সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারি চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে।

যে কারনে তাঁরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে অনলাইন প্রেস ইউনিটি সহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ১ সপ্তাহের আলটিমেটাম দিয়ে বলেছেন, ৭ দিনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না করলে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মঈদুল ইসলাম, বরিশালের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কবির উদ্দীন প্রামাণিকের অব্যহতির দাবীতে তথ্য মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদানের পাশাপাশি অনশনের কর্মসূচী দেয়া হবে।