সাংবাদিক হত্যাচেষ্টা: প্রকাশ্যেই চলে লোমহর্ষক নির্যাতন (ভিডিও)

0
689

বরিশাল। । 

বরিশালে ডিবিসি টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন সুমন হাসানকে নির্যাতনের ঘটনায় ৮ ডিবি সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে রিপোর্ট অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) গোলাম রউফ।

মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ চকবাজারের পুরাতন বিউটি হলের সামনে ডিবি পুলিশ একটি বাসায় মাদকের অভিযান চালালে সাংবাদিক সুমন হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। অভিযানের বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের সাথে কথা বলতে চাইলে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে ৮ পুলিশ সদস্য মিলে সুমনের উপর চড়াও হয়। এসময় সুমনকে বেধড়ক মারধর ও অন্ডকোষ চেপে ধরে অজ্ঞান করে ফেলে। পরবর্তীতে ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে জ্ঞান ফিরলে পুনরায় তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে বরিশালের সিনিয়র সাংবাদিকরা উপ পুলিশ কমিশনার গোলাম রউফকে অবহিত করলে তিনি বিষয়টি সমাধানের জন্য সকলকে তার কক্ষে নিয়ে আসেন। এসময় সুমনের সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও সুমনের কাছে নির্যাতনের কথা শুনে উপ পুলিশ কমিশনার গোলাম রউফ ও উত্তম কুমার পাল দুঃখ প্রকাশ করেন। তারা নির্যাতনের সাথে জড়িত ডিবি পুলিশের এসআই আবুল বাশার ও তার টিমকে তাৎক্ষনিক ক্লোজড ও ওই টিমের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে রিপোর্ট অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও জানান তারা।

নির্যাতনের শিকার বেসরকারী টেলিভশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের ক্যামেরা পার্সন সাংবাদিক সুমন হাসান উপ পুলিশ কমিশনার (ডিবি) উত্তম কুমার পাল ও (দক্ষিণ) গোলাম রউফকে বলেন, ‘বিউটি হল সংলগ্ন একটি বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় পুলিশের কাছে অভিযানের বিষয়টি জানতে চাইলে ডিবি পুলিশের এসআই আবুল বাসার, তার টিমের সদস্য সাইফুল, মাসুদ ও আলতাফসহ ওই টিমের সকলে আমার সাথে চড়াও হয়। এসময় আমি সাংবাদিক পরিচয় দিলে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে আমার উপর। একপর্যায়ে তারা আমাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে এবং ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়ার জন্য জোড় জবরদস্তি করতে থাকে। এসময় ডিবি পুলিশ আমার বাসায় মাদক দিয়ে ধরিয়ে দেয়াসহ ক্রসফায়ারের হুমকি দেয়া হয়। তবে আমি বিনা অপরাধে সেখানে না যাওয়ার জন্য বললে তারা আমার অন্ডকোষ চেপে ধরে এবং সাথে সাথেই আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। তারপর আমাকে ডিবি অফিসে নিয়ে বুকের উপর লাথি দেয়াসহ নানা কায়দায় নির্যাতন শুরু করা হয়।’

এদিকে সুমনকে নির্যাতনের খবর শুনে বরিশালের সিনিয়র সাংবাদিকরা ডিবি অফিসে গেলে কতিপয় অতি উৎসাহী পুলিশ সদস্যর সাথে সেখানে বসে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন সংবাদ কর্মীকে লাথি, কিল-ঘুষিও দেয়া হয় যা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও প্রমান পেয়েছেন। তবে এত ঘটনার পরেও সবকিছুই অস্বীকার করেছেন ডিবি পুলিশের ওই টিমের প্রধান এসআই আবুল বাশার। তিনি জানিয়েছেন, সুমনের শরীরে কোন হাত দেয়া হয়নি। উল্টো সুমন আমাদের মারধর করেছে।

নির্যাতনকারী ডিবি সদস্যরা

বরিশাল মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের সহকারি কমিশনার নাসির উদ্দিন মল্লিক জানান, বিষয়টি অতীব দুঃখ জনক। প্রাথমিকভাবে নির্যাতনের প্রমান পাওয়ায় এসআই আবুল বাশারসহ তার টিমের মোট ৮ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। যার মধ্যে দুইজন এএসআই ও বাকিরা কনস্টেবল।

এদিকে এই ঘটনায় বরিশালের সাংবাদিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বরিশাল প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ সকল সাংবাদিক সংগঠন তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এছাড়াও বুধবার সাংবাদিক সুমন হাসানের উপর হামলার ঘটনায় বরিশাল ফটো সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ সকালে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন