সাংসদ পঙ্কজকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন আ’লীগ নেতা সঞ্জয়, দেখুন ভিডিও সহ

0
265

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথের সংবাদ সম্মেলনের পরপর পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন কাজীর হাট থানা শাখার আওয়ামীলীগের সহ প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শ্রী সঞ্জয় চন্দ্র। সঞ্জয়ের দাবী গতকাল এমপি পঙ্কজ দেবনাথ সাংবাদিক ঢেকে  একটি মন গড়া সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বুধবার সন্ধায়  বরিশাল প্রেসক্লাব ও বরিশাল রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি-সম্পাদক বরাবর একটি লিখিত পত্র জমা দেন কাজীর হাট থানা শাখার আওয়ামীলীগের সহ প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শ্রী সঞ্জয় চন্দ্র।

এই আ’লীগ নেতা সময়ের বার্তার কার্যালয়ে এসে ভিডিও বক্তব্যে বলেন, ‘এমপি পঙ্কজ দেবনাথের পিতা এক সময়ে মতিনাথের সুপারির আড়ৎ এর কয়েলদার ছিলেন, দ্বিতীয়ত, বর্তমান পৌর মেয়র আলহাজ্ব কামাল খানের কর্মচারীও ছিলেন। সর্বশেষ ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত এমপি পঙ্কজ দেবনাথ তার স্ত্রীর টাকা দিয়ে সংসার চালাতো। এছাড়াও উক্ত ভিডিও বক্তব্যে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন সময়ের বার্তাকে। ভিডিওটি সময়ের বার্তার অনলাইন সংস্করণসহ ইউটিউব ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে।

লিখিত পত্রে উল্লেখ করেন, তিনি চলতি মাসের  ৪ তারিখ বরিশালের একটি  রেস্টুরেন্টে এম.পি পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।  উক্ত সংবাদ সম্মেলনের  প্রতিবাদে গতকাল মেহেন্দীগঞ্জ সংবাদ সম্মেলন করেছেন এম.পি পঙ্কজ দেবনাথ।

সেই সংবাদ সম্মেলনকে চ্যালেঞ্জ করে এম.পি পঙ্কজ দেবনাথকে টকশো’র আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাশাপাশি সঞ্জয় পুনরায় সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে উল্লেখ করেন। তবে কবে কখন কোথায় সে বিষয়  পরবর্তীতে জানাবেন বলে উল্লেখ করেন। ৪ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনে সঞ্জয় উল্লেখ করেন, বরিশাল ৪ নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই দলীয় সাংসদ পঙ্কজের হাতে এ পর্র্যন্ত বেশি নির্যাতিত হয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ পঙ্গু, কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে আছেন। তাদের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে বহিরাগতদের দ্বারা শাসন করছেন হিজলা মেহেন্দিগঞ্জ ও কাজিরহাট থানা এলাকা। বরিশালের শহরের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই নির্যাতিত নেতা সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথের সন্ত্রাসের লোমহর্ষক নানা কাহিনীসহ দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির দালিলিক প্রমাণসহ ফিরিস্তি তুলে ধরেন। নির্যাতিত সঞ্জয় চন্দ্র দলীয় সাংসদের নিজ হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার পর গত তিন বছর বরিশাল শহরে আশ্রয় নিয়ে আছেন। ওই সংবাদ সম্মেলন ডাকার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- সাংসদ পঙ্কজ অনিয়মের মাধ্যমে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য ও আত্মীয়করণ করার প্রেক্ষাপটে দায়ের করা একটি মামলার তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কালক্ষেপন নিয়ে মিডিয়াকে অবহিত করা।

 

সঞ্জয় চন্দ্রের অভিযোগ- মেহেন্দিগঞ্জে ৯টি কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে দলীয় সাংসদ প্রভাব বিস্তার করে ২০১৫ সালে ১৮ জন শিক্ষককে নিয়োগ পাইয়ে দেন। এর মধ্যে তার আপন ভাইয়ের স্ত্রী কল্যাণী দেবনাথ রয়েছেন। এই নিয়োগ বাণিজ্যে প্রায় অর্ধকোটি টাকা দেনদেন হয় বলে তিনি দাবি করেন। বিতর্ক এড়াতে ২০০৯ সালে তাদের নিয়োগ দেখানোর ক্ষেত্রে ভুয়া ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও নিয়োগ কমিটির একজনের স্বাক্ষর জাল করার প্রমাণ উপস্থাপন করেন। এই অবৈধ নিয়োগের বিরুদ্ধে পঙ্কজ নাথের ভাইয়ের স্ত্রী কল্যাণী দেবনাথ ও বিদ্যানন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল মিয়াসহ ৪১ জনকে আসামি করে ২০১৭ সালের ৫ মার্চ দুর্নীতি দমন আইনে একটি মামলা দায়ের হয়। ২০১৮ সালের শুরুতে দুদক মামলাটি তদন্ত শুরু করে এবং ২০১৯ সালের মার্চ মাসে ৪ জনকে অভিযুক্ত করে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়।

 

কিন্তু প্রতিবেদনে সন্তষ্ট না হয়ে মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। এনিয়ে তিন দফা তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন হলেও মামলাটির সুরহা মিলছে না। মামলার বাদী সঞ্জয় চন্দ্র তৎসময়ে কাজিরহাট বিদ্যানন্দনপুর ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর ছিলেন। এনিয়ে ঘাটাঘাটি করায় ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল সঞ্জয় চন্দ্রর ওপর হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। এসময় হাতুড়িপেটা তার দুটি পা একটি হাত অকেজো করে দেওয়া হয়। পরে তাকে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে এই সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা নিজ এলাকায় যাতায়াত বন্ধ করে বরিশালে আশ্রয় নেন। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় দফা তাকে তুলে নিয়ে মেহেন্দিগঞ্জ নতুন ডাকবাংলোর ভেতর সাংসদ পঙ্কজ নিজেই পিটিয়ে অর্ধমরা করে নদীতে ফেলে দেন। নির্যাতিত এই নেতার বর্ণানায় উঠে আসে নির্বাচনী এলাকায় পঙ্কজের রোষানলে পড়ে কিভাবে প্রায় ৩০ জন দলীয় নেতাকর্মী হামলা ও নাজেহালের শিকার হন। নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রেখে পঙ্কজ তিন থানা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেন। ফলে ত্যাগী নেতা দলে কোনঠাসা হয়ে পড়ে, ইচ্ছা না থাকলেও জোরপূর্বক দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধ্য করতেন।

 

অথচ গোটা দলসহ প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদে নিজের অনুসারীদের বসিয়ে পঙ্কজ রাজত্ব কায়েম করেন। ২০১৪ সালে নির্বাচিত এই সাংসদকে যেন পুনরায় দলীয় মনোনয়ন না দেওয়া হয় সেই দাবিতে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবে এই এলাকার নেতাকর্মীরা কনভেনশনের আয়োজন করে তাদের ওপর হামলা মামলার চিত্র তুলে ধরেছিলেন। তবুও পঙ্কজ ২০১৮ সালে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে যান এবং সাংসদ নির্বাচিতও হন। বিদ্রোহী নেতা সঞ্জয় চন্দ্র দলীয় সাংসদের জুলুমবাজির অতিষ্ঠ হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করেন এবং এলাকার সার্বিক চিত্রপট তুলে ধরেছিলেন। এর আগে সঞ্জয় বরিশাল আ’লীগের বর্ধিত এক সভায় উপস্থিত হয়ে তার ওপর সন্ত্রাসী হামলার বর্ণানা দিয়ে সুবিচার চেয়েছিলেন। তার আক্ষেপ এতেও কোন সুফল পাননি। ১/১১’র শাসনামলে দুর্নীতি মামলায় দন্ডাদেশপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের মধ্যে একমাত্র ব্যক্তি পঙ্কজ একদিকে দলীয় নেতাদের পিটিয়েছেন, অন্যদিকে চরের জমি দখল ও টেন্ডারবাজিসহ দলীয় তহবিল গঠনের নামে অর্থ আত্মসাত করেন।

 

এসব কর্মকান্ডে নিজের স্বজনদের অগ্রভাগে রেখেছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে উদাহরণস্বরুপ তুলে ধরা হয়- মেহেন্দিগঞ্জের গবিন্দপুর ইউনিয়নের চরে দেড় হাজার একর জমি থেকে বছরে প্রায় চার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আলিমাবাদ ইউনিয়নের শ্রীপুরের গাগড়িয়ার চরে তার চাচাত ভাই রাম কৃষ্ণ নাথ হাজার হাজার একর জমির ভুয়া খতিয়ান খুলে ঘর তৈরী করে তা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করেন। এছাড়াও রাতের আঁধারে ভুয়া রেজুলেশন করে স্কোডিং দেখিয়ে চরাঞ্চলের জমিতে ৮’শ বন্দবস্তোর কার্ড অনুমোদন দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। ডিও লেটার দ্বারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বালুমহলের টেন্ডার বন্ধ করে তার চাচাত ভাই রিপন দেবনাথ ও আপন ভাই মনজ কুমার দেবনাথের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করছেন। বরিশালে জেলা পরিষদের ইজারা দেওয়া ৬টি ঘাট জবরদখল করায় সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হওয়া সহ বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন। এদিকে উক্ত সংবাদ সম্মেলনের বিপক্ষে গতকাল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন এমপি পঙ্কজ দেবনাথ। পঙ্কজ দেবনাথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রকাশিত সংবাদের সাথে তার জীবনের বাস্তবতার কোন মিল নেই। মনগড়া ও চটকদার সংবাদ পরিবেশন মাধ্যমে তাকে হেয় করার এই ষড়যন্ত্র নতুন নয়। তার দাবি এসবই ঘটছে বরিশাল থেকে। জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের নীতিগত দ্বন্দ্ব থেকেই দলের একটি অংশ ষড়যন্ত্রের জাল বপন করে সময় বিশেষ তাকে হেয় করার সুযোগ নেয়। সর্বশেষ দলীয় সমর্থিত একজন নরসুন্দরকে ব্যবহার করে আক্রোশমুলক নানা অভিযোগ মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়েছে।

বুধবার সকালে তার নির্বাচনি এলাকা মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা শহরের ‘মুক্তিযোদ্ধা পার্ক’ মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল ৪ আসনের সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ উপরোক্ত মন্তব্য করে তার বিরুদ্ধে ওঠা সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়ে তা খন্ডন করেন। সাংসদের এই উদ্যোগের দুইদিন আগে স্থানীয় কাজিরহাট থানা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পেশায় নরসুন্দর সঞ্জয় চন্দ্র দলীয় নেতা পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির একাধিক অভিযোগ উপস্থাপন করে তার অঢেল সম্পদ অর্জনের অষ্পষ্ট বর্ণণা দিয়েছিলেন। বরিশাল শহরের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সাংসদ পঙ্কজ মিডিয়ার মুখোমুখি হলেন এ ধারনা করা হলেও গোটা আয়োজনজুড়ে কীভাবে, কারা কখন থেকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ তুলেছিল এবং তা মিডিয়ায় পৌঁছে দেওয়ার নেপথ্যের রহস্য ভেদ করার যুক্তিকতা তুলে ধরেন।

 

এসময় তিনি বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের শীর্ষে থাকা নেতৃবৃন্দের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি পরিস্কার করার চেষ্টা করেন। সাংসদ পঙ্কজের দাবি- তিনি সঠিক পথে অবস্থান নেওয়ায় দুর্নীতির সাথে সংশি¬ষ্ট হয়ে পড়া জেলার দায়িত্বশীল নেতারা তাকে কোনঠাসা করতেই দীর্ঘদিন ধরে তৎপর। এসময় তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুসকে প্রকাশ্যে দায়ী করলেও একই কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল¬াহকে পরোক্ষভাবে এর সাথে জড়িত বলে উলে¬খ করেন। জেলার এই দায়িত্বশীল নেতাদের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্য ও থানা- ইউনিয়ন কমিটি গঠনের অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ার উল্টো অভিযোগ তোলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সদস্য অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় দলীয় প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট মুনসুর আহম্মেদকে মনোনয়ন পাইয়ে দিয়ে দলীয় বিভেদ তৈরি করা হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

তার দাবি- বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহফুজ উল আলম লিটনের পক্ষে ভোট বিপ¬ব ঘটেছিল। জেলা আ’লীগ চেয়েছিল মুনসুর আহম্মেদকে মাঠে নামিয়ে একটি আবহাওয়া তৈরি করে তাকে বিতর্কিত করা। নির্বাচন পূর্ব সংসদ ভবন এলাকায় অনুষ্ঠিত এক গোপন বৈঠকে মুনসুর আহম্মেদকে কোন এক নেতা ছেড়া পাঞ্জাবী পরে ঢাকায় ওঠার পরামর্শ দেওয়ার প্রমাণ উপস্থাপন করে সংবাদ সম্মেলনে জেলা নেতৃবৃন্দ কীভাবে তাকে ঠেসে ধরে চলেছে তার একটি কায়দাও তুলে ধরেন। এমনকি সেই মুনসুর আহম্মেদকে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর বরিশালে ডেকে নিয়ে সাংসদ পঙ্কজের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে মেহেন্দিগঞ্জের উপজেলা নির্বাচন বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়। জেলা কমিটির এই নেতরাই সঞ্জয় চন্দ্রকে পুনরায় মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করে গত সোমবার তার বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ তুলতে কৌশল নেয়।

 

এর আগে একই ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জে সন্ত্রাস নৈরাজ্যর অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। এই ভুমিকায় জেলা কমিটি শীর্ষ নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জের সন্তান শাম্মি আক্তারের সাথে একট্টা হওয়ার দাবি করেন। সোমবারের ওই সংবাদ সম্মেলনে সঞ্জয় সাংসদ পঙ্কজের বিরুদ্ধে তার নিজ ভাইয়ের স্ত্রীকে দুর্নীতির মাধ্যমে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ, তার ভাইকে ভূমিদস্যু এবং তার বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজিসহ দেশ-বিদেশে দৃশ্যমাণ সম্পদ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নানা উদাহরণ তুলে ধরা হয়।

সাংসদ পঙ্কজের দাবি- ওই অভিযোগসমূহ মনগড়া। একটিরও প্রমাণ নেই দাবি করে তিনি বলেন- নিজ যোগ্যতা ও মেধায় তার ভাইয়ের স্ত্রী কল্যাণী দেবনাথ চাকরি নিয়েছেন। রাজধানী ঢাকার উত্তরায় যে বাড়ি নির্মাণের কথা বলা হয়েছে- সেই স্থাপনা তার নিজের নয়, অনুদান হিসেবে ২০০৪ সালে সরকারের দেওয়া ওই সম্পত্তিতে নিয়ম মেনে তার মা ব্যাংক লোনের মাধ্যমে ভবন নির্মাণ করেন। ধানমন্ডিতে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে তা স্বীকার করে বলেন- সেটি দেড় যুগ আগে ক্রয় করা। ভারতে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং একটি মার্কেট রয়েছে বলে যে কথা প্রচার করা হচ্ছে- তাও ভিত্তিহীন উলে¬খ করে হাস্যরসের মাধ্যমের সাংসদ পঙ্কজ বলেন- ওই সম্পত্তি নিজের তো নয়, উপরন্ত যখন কথা উঠেছে তখন তাকে লিখে দিলে খুশি হতেন। বিশেষ করে ঢাকার সড়কপথে চলা বিহঙ্গ পরিবহন নিয়ে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনে অভিযোগ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে স্পষ্ট করেন যে- ৬ জনের অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে এই পরিবহন ব্যবসার সাথে তিনি যুক্ত।

 

এবং তার জ্ঞাত আয় সম্পর্কিত তথ্যে তা উলে¬খ করা আছে। পারিবারিক ব্যবহারে একটি জিপগাড়ির অস্তিত্ব নিজেই তুলে ধরে বলেন এটি মান্ধাতা আমলের। যা তৎসময়ে ৪ লাখ টাকায় অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ক্রয় করেন সাংসদ হওয়ার আগেই। ভূমিদস্যু ও টেন্ডারবাজির সাথে জড়িত থাকলে তার প্রমাণ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন- হিজলা মেহেন্দিগঞ্জে এই ধরনের রেকর্ড তার নেই। বরং এই জনপদের হাটবাজারের ইজারা বাতিলসহ নৌ-টার্মিনাল ও খেয়াঘাট টোলমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃত্ব থেকে তাকে কেন দূরে রাখা হলো, মিডিয়াকর্মীরা এমন প্রশ্ন রাখার আগে আভাস পেয়েই এ প্রসঙ্গটি তিনি নিজেই সামনে নিয়ে আসেন। এই সাংসদ মনে করেন- দীর্ঘ ১৭ বছর একই পদে থাকায় দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্ভবত বিতর্ক এড়াতেই তাকে সম্মেলনের কার্যক্রম থেকে আপাতত দূরে সরিয়ে রাখতেই এমন নির্দেশনা দিয়েছেন।

 

কিন্তু দেশব্যাপি দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযানের মাঝে এধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনেকের ধারনা হতে পারে- তিনিও দুর্নীতির তালিকায় থাকায় এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পঙ্কজ জোর দিয়ে বলেন- নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, এখানে বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। কিন্তু ইর্ষাকাতর জেলার নেতৃবৃন্দ সুযোগ বুঝে অপপ্রচারের সামিল হওয়ায় মিডিয়ায় বিষয়টি ভিন্নভাবে আসছে। তার ওপর জেলা নেতৃবৃন্দের অবিচারের নমুনা দেখিয়ে বলেন- দুই দফা সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরেও তাকে জেলা কমিটির সদস্য পদ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে জেলা কমিটির বৈঠকেও তাকে ডাকা হচ্ছে না। অনুন্নত ও বিএনপির দুর্গ হিসেবে বিবেচিত সেই হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জে অবস্থার আমুল পরিবর্তন এবং আওয়ামী লীগের ভোট বৃদ্ধির দাবি করে এই সাংসদের অভিমত- ইতিবাচক এই ভুমিকায় জেলার নেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে একপাশে করে রাখায় তিনি রাজনীতিতে বরিশাল নয়, ঢাকামুখী হতে বাধ্য হয়েছেন। এতে আরও সংক্ষুব্ধ জেলার নেতারা যাকে তাকে মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচনে নৌকার ইজ্জত নিয়ে টানাটানি করে তাকে বিতর্কের মধ্যে ফেলতে চায়। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন নির্বাচনে ফলাফল আওয়ামী লীগের অনুকুলে রাখতেই স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বিজয় ঘরে তুলে নিয়ে আসছেন।

 

কিন্তু কেন্দ্রে তা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দলের লোকদের আ’লীগে নিয়ে এসে কমিটিতে স্থান দেওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন- দলে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে তারা চিহ্নিত হলেও অনেকের নাম উহ্য রেখে প্রকৃত বঙ্গবন্ধুপ্রেমীদের এই তালিকায় কৌশলে ঠাই দিয়ে তাকে কোনঠাসা করতে গিয়ে দলকেই দুর্বল করছেন। জেলার নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে তার এই সংবাদ সম্মেলনকে সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপস্থী কীনা এমন প্রশ্নে এই সাংসদের ভাষ্য হচ্ছে- তিনি কারও নাম উলে¬খ করে কথা বলতে চান না। কিন্তু পরিস্থিতি এমন জায়গায় নিয়ে ঠেকিয়েছে যাকে-তাকে দিয়ে তাকে হেয় করতে ঘনঘন সংবাদ সম্মেলন করে নানা অভিযোগ তুলে পত্রিকার শিরোনাম করার ধারাবাহিকতায় তিনি মিডিয়ার মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও ১৫ ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের উপস্থিতিতে মাঠে প্যান্ডেল করে অনেকটা কর্মীসভার আদলে ডাকা বুধবারের এই সংবাদ সম্মেলনে মিডিয়াকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্ন কৌশলে এড়িয়ে গেলেও তার লেজ টেনে জেলার রাজনীতির টানপোড়নের অজানা তথ্য প্রকাশ করে উত্তর সাজাতে এই ঝানু রাজনীতিবিদের কারিশমা দেখা গেছে।’