সাদিক আব্দুল্লাহর নামে অটোরিক্সা থেকে মোর্শেদ ও নিজাম মুন্সির চাঁদাবাজি!

0
462

আল আমিন গাজী ॥ বরিশাল নগরীতে জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না সাধারন খেটে খাওয়া অটো চালকরা। কারো না কারো রোষানলে পড়ে জীবন তাগিয়ে তাদের পেট চালাতে হিমসিম খাচ্ছে চালকরা। কারন নতুন নতুন ভূইফোঁর সংগঠনের নেতারা চালকদের কাছ থেকে চাঁদার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নগরীতে সাধারন অটো চালকদের জিম্মি করে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর নাম ব্যবহার করে প্রায় ১৪শ হলুদ ও নীল অটোরিক্সা থেকে ৩শ টাকা করে চাঁদা উত্তালন করেন কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোড এর বাসিন্দা মোর্শেদ ও নিজাম মুন্সি।

অভিযোগে আরো জানা যায়, গত ৯ই মার্চ নগরীতে অটো প্রতিটি অটোরিক্সা থেকে ৩শ টাকার করে চাঁদা উঠনার অপরাধে কাউনিয়া থানা পুলিশ দুই চাঁদাবাজ নিজাম মুন্সি ও মোর্শেদকে আটক করেন। নগরীতে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা ইজিবাইক মালিক সমিতি জেলা ও মহানগর লেখা সম্বলিত সদস্য কার্ড ও স্টিকার দিয়ে গাড়ি প্রতি ৩শ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন মোর্শেদ ও নিজাম মুন্সি। ট্রাফিক বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ও ক্ষমতাশীন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে অটোরিক্সা মালিক সমিতির ও অটোরিক্সা শ্রমিক লীগের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে এই স্টিকার বাণিজ্য চলে আসছে।

তবে চাঁদা তোলার বিষয়টি বিসিসি মেয়র সেরনিবাত সাদিক আব্দুল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তার মুঠোফোন তিনি রিসিভ করে নি। এদিকে একাধীক অটোরিক্সা চালকরা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, নিজাম মুন্সি বিএনপির রাজনীতির সাতে যুক্ত ছিলেন। পরে পিট বাচাঁনোর জন্য আওয়ামীলীগের সাইন বোড লাগিয়ে অটো শ্রমিক লীগ ও অটো মালিক সমিতি নামক ভূইফোঁড় সংগঠন খুলে প্রায় ১৪শ স্টিকার বিক্রি করে ৪ লক্ষ টাকা গায়েব করে দিলেন নিজাম ও মোর্শেদ।

তবে এবিষয় বরিশাল মহানগর শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাস বিষয়টি অস্বিকার করে জানান, নগরীতে অটোরিক্সা শ্রমিকলীগ নামক কোন সংগঠন নাই বা আমরা এ নামে কোন সংগঠনের অনুমতি দেই নাই। তবে কেউ যদি আ-লীগের সাইন বোড লাগিয়ে চাঁদাবাজি করে তা হলে তাদের পুলিশে ধরিয়ে দেয়া হবে। মামুন নামে এক অটোরিক্সা চালক জানান, টাকা দিলে গাড়ি চালাতে দিবে নয়তো নগরীতে অটো গাড়ি চালাতে দিবে না ।

তবে সেই চাঁদাবাজির অপরাধে মিজান ও মোর্শেদকে আটক করেছে কাউনিয়া থানা পুলিশ। তবে মিজান মোর্শেদের ভয়ে সাধারন কোন অটো চালকরা তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা বা অভিযোগ দিতে সাহস পাইনি। এদিকে জেল থেকে বেড়িয়ে থেমে নেই মিজান ও মোর্শেদ। আবারো অটো মালিক সমিতি ও আটো শ্রমিক লীগের সাইনবোড ব্যবহার করে পূর্নরায় চাঁদাবাজিতে মেতে উঠেছে। আর তাই গরীবের রক্তচোষা এই সব ভূঁইফোড় সংগঠনের নেতাদের কাছে অসহায়ত্ব বরণ করেছে গরীব অসহায় অটো চালকরা।

বর্তমানে বরিশাল নগরীতে মোর্শেদ, মিজান, তারেক,রব ও মিন্টুর নেতৃত্বে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সায় স্টিকার লাগিয়ে এই চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এই চাঁদার প্রভাব পড়ছে ’’দিন আনে দিন খায়’’ সেই সব গরীব অটো চালকদের ওপর। এইভাবে নিত্য নতুন চাঁদার ভারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে অসহায় সাধারণ অটো চালকদের জীবন। এ বিষয় অটো মালিক সমিতির মিন্টু জানান,তার কাছে টাকা হিসাব নাই।

তবে অভিযোগের বিষয়টি স্বিকার করে আরো জানান,নিজাম মুন্সি ও মোর্শেদ আপনাদের সাথে দেখা করবে । আপনি সংবাদটা লিখবেন না। অপরদিকে কাউনিয়া থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই তানজিল জানান, পুলিশের হাতে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে কোন লিখিত অভিযোগ না থাকায় মোর্শেদ ও মিজানকে ৮০৯ এর (ঘ) ধারায় আদালতে সোর্পদ করা হয়েছিলো। অপর দিকে এ বিষয় অভিযুক্ত চাঁদাবাজ নিজাম মুন্সি ও মোর্শেদ বলেন তারা যে টাকা উঠিয়েছে তা তাদের খরচ হয়ে গেছে। আর অটো চালকদের এখন কোন ঠাকা ফেরত দেয়া সম্ভব না।