সাবরেজিস্ট্রি অফিসে টাকা দিলে পাগলেরও দলিল মেলে!

0
181

এম. লোকমান হোসাঈন ॥ শুক্কুর পাগলার জমি বিক্রি! বরিশাল সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কর্র্তৃক জমির দলিল প্রদান এবিষয় সময়ের বার্তায় সংবাদ প্রকাশের পর বেড়িয়ে এসেছে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানে দেখে যায় নগরীর নগরীর সার্কুলার রোড় এলাকার বাসীন্দা হাজেরা বিবির ছেলে শুক্কুর পাগলা। বয়স ৫৫ থেকে ৬০ বছর। তিনি ছোট কাল থেকেই পাগল ও একজন প্রতিবন্ধী!

বরিশাল সাবরেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে দেখা যায়, শুক্কুর পাগলা ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসের ১০ তারিখ মায়ের রেখে যাওয়া সাড়ে তিন শতাংশ সম্পত্তি সাবরেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে নগরীর সাগরদী এলাকার বাসীন্দা মোঃ রাইভিউল কবির (স্বপন) সহ একাধিক ব্যক্তির কাছে বরিশাল সাব রেজিষ্ট্রি এর মাধ্যমে বিক্রি করে দেন শুক্কুর পাগলা। যার দলিল নম্বর ১০১১৯। সরকারী নির্দেশ অনুযায়ী কোন পাগল বা প্রতিবন্ধী তার প্রাপ্ত সম্পত্তি বিক্রি বা দানপত্র অথবা অন্য কাউকে পাওয়ার মূলে দলিল দেওয়ার বিধান নাই। এমন সংবাদে প্রকাশের পরপরই বেড়িয়ে আসে থলের বিড়াল। জমির খতিয়ান ও দাগ নম্বার নিয়ে অনুসন্ধান করা হয় বরিশাল সিটি কলেজস্থ বিএম তহসিল অফিসে।

তহসিল অফিস সূত্রে দেখা যায়, এস.এ খতিয়ানের ৩৯৬১ নং ও ৬৫৭৭ দাগের মোট মোট ৬৪ শতাংশ জমির মালিক হাজেরা বিবি। উক্ত জমি জীবিত থাকা কালীন তার প্রাপ্ত সম্পর্ত্তি হাজী এছরাইল সহ একাধিক ব্যক্তিদের কাছে অধিকাংশ জমি বিক্রি করে দেন। সর্বশেষ হাজেরা বিবি ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাসের ৩০ তরিখ মোসাদ্দেক মাহামুদ গাজীর নিকট ৩ শতাংশ জমি বিক্রি করেন।

হাজেরা বিবির দলিলাদী অনুসন্ধান করে দেখা যায় বিভিন্ন সময় একাধিক লোকজনের কাছে তার প্রাপ্ত সম্পর্ত্তির সাড়ে তিন শতাংশ সম্পত্তি রেখে বাকী সকল সম্পত্তি বিক্রি করে দেয়। অথচ, ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাসের ৩০ তারিখই হাজেরা বিবির মেয়ে তাছলিমা বেগম ও তাছলিমার মেয়ে সানজিদাকে দানপত্র দলিলে মোট আটঁ শতাংশ জমি দলিল করে দেন। যেখানে অথাৎ হাজেরা বিবির দলিলে থাকা সাড়ে তিন শংতাশ জমিরস্থলে আরো সাড়ে ৪ শতাংশ জমি বেশী দলিল দিয়ে যায়। বর্তমানে হাজেরা বিবি কোন সম্পাত্তি না রেখেই মারা যায়। বিএম তসিল সূত্রে দেখায় হাজেরা বিবির ওয়ারিশ সূত্রে কোন জমি নাই। তাহলে শুক্কুর পাগলা কি করে কার জমি দলিল দিছেন।

 

এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে যোগাযোগ করা হয় বরিশাল সাবরেজিস্ট্রি অফিসার মো. রফিকুল ইসলামের সাথে। রফিকুল ইসলামের কাছে এমন প্রশ্ন করা হলে হতম্বব হয়ে কোন জবাব না দিয়ে তিনি বলেন এটা কর্মচারীরা করেছেন । এখানে তার কোন হাত নেই। জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে যদি কেউ দলিল করেন তাহলে যিনি দলিল নিচ্ছে তিনি ক্ষতিগস্থ হচ্ছেন। এখানে যিনি জমি ক্রয় করবেন তাহাদের উচিৎ যাছাই-বাচাই করে জমির দলিল নেওয়া। আর এভাবেই জমি থাক বা না থাক ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে কর্মচারী শাহিন এর যোগসাজেশ দলিল করিয়ে দিচ্ছেন বির্তকিত সাবরেজিস্ট্রি অফিসার রফিকুল ইসলাম। যার বিনিময় কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা (চলবে…)