সারা দেশে বজ্রপাতে নিহত- ১৪

0
111

সময়ের বার্তা ।।

দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় বজ্রপাতে বাবা-ছেলে ও দুই কলেজছাত্রসহ ১৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এসময় বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন।

রবিবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বজ্রপাতে এসব হতাহাতের ঘটনা ঘটে। সারাদেশ থেকে ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি’র প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন:

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের তিন উপজেলায় বজ্রপাতে বাবা-ছেলে ও দুই কলেজছাত্রসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলেও জানা গেছে।

নিহতরা হলেন- শাহজাদপুর পৌর এলাকার ছয়আনিপাড়া মহল্লার ফারুক হাসানের ছেলে নাবিল হোসেন (১৭), রাশেদুল হাসানের ছেলে পলিং হোসেন (১৬), কাজীপুর উপজেলার ডিগ্রি তেকানী গ্রামের মৃত পারেশ মণ্ডলের ছেলে শামছুল মণ্ডল (৫৫) ও শামছুল মণ্ডলের ছেলে আরমান (১৪) এবং কামারখন্দের পেস্তক কুড়াগ্রামের মৃত আহের মণ্ডলের ছেলে কাদের হোসেন (৩৭)।

রবিবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শাহজাদপুর, কাজীপুর ও কামারখন্দ এই উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ সূত্র গণমাধ্যমকে এসব হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছেন।

কাজীপুরের তেকানী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. হারুনার রশিদ জানান, সকালে ডিগ্রি তেকানী চরে ছেলেকে নিয়ে বাদাম তুলছিলেন শামছুল। এসময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হয়ে দুজনেই ঝলসে যান। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কাজীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে উভয়েই মারা যান।

এদিকে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স ইনচার্জ আবদুল লতিফ জানান, দুপুরের দিকে শাহজাদপুর উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে বজ্রপাতে নাবিল ও পলিং নামের দুই কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়। নিহত নাবিল হোসেন ও পলিং হোসেন পৌর এলাকার ছয়আনিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। তারা শাহজাদপুর ডিগ্রি কলেজে প্রথম বর্ষে পড়তেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কামারখন্দ উপজেলার পেস্তক কুড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতে বজ্রপাতে কাদের হোসেন নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়।

কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. তানজিলা বেগম স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, ওই কৃষক বাড়ির পাশে ক্ষেতে ধান কাটছিলেন। হঠাৎ করেই বৃষ্টি ও বজ্রপাতে তার শরীর ঝলসে যায়। হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

মাগুরা : মাগুরায় পৃথক বজ্রপাতে তিনজন নিহত হয়েছেন। দুপুরে সদর উপজেলার অক্কুর পাড়া, রায়গ্রাম ও শালিখা উপজেলার বুনাগাতী গ্রামে বৃষ্টিপাতের সময় এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে সদর থানার এসআই আশরাফ হোসেন জানান, সদর উপজেলার অক্কুর পাড়ায় বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির নাম শামীম হোসেন (৪০)। তিনি পেশায় ভ্যান চালক। বজ্রপাতের সময় তিনি ভ্যান চালিয়ে মাগুরা থেকে শ্রীপুরের দিকে যাচ্ছিলেন।

সদর উপজেলার রায়গ্রামে বজ্রপাতে আলম মিয়া (৩৫) নামে অপর এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি সদর উপজেলার বুলুগ্রামের আব্দুর রশিদের পুত্র। মাগুরা শহর থেকে বাড়ি ফেরার সময় তিনি বজ্রপাতের শিকার হন।

জেলার শালিখা উপজেলার বুনাগাতী এলাকায় একটি মোবাইল টাওয়ারে কাজ করার সময় মেহেদী হোসেন (২৫) নামে এক যুবক বজ্রপাতে মারা গেছে। তিনি জয়পুরহাট জেলার মনপুরা এলাকার আলম মিয়ার পুত্র।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : জেলার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের দরুইন গ্রামে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ক্ষেতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আব্দুর রহিম (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রহিমের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায়।

নোয়াখালী : জেলার সদর উপজেলায় স্কুল বন্ধ থাকায় সহপাঠীদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে গিয়ে বজ্রাঘাতে পিয়াল (১৩) নামের এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের বশিরার দোকানের পার্শ্ববর্তী একটি খেলার মাঠে এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

নওগাঁ : জেলার সাপাহার উপজেলার রামাশ্রম গ্রামে বজ্রপাতে সোনাভান (২২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামীসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

গাজীপুর : সকাল ৮টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মাটিকাটা এলাকায় ইনক্রেডিবল ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার সামনে বজ্রপাতে জাফরুল ইসলাম (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। জাফরুল গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার হরিনাথপুর এলাকার মো. আব্বাস আলীর ছেলে। তিনি ওই কারখানার চেকম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এসময় বজ্রপাতে আহত হয়েছেন আরও ৫ জন। আহতরা হলেন- সৌরভ, মনি সামন্ত, লতা, আলেয়া ও তাপসী। এ দুর্ঘটনা ঘটে।

রাঙামাটি : জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় মারিশ্যা ইউনিয়নের মুসলিম ব্লক এলাকায় দুপুরের দিকে বজ্রপাতে মানছুরা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই এলাকার অছির আহম্মেদের স্ত্রী।

সুনামগঞ্জ : বাড়ির পাশে কাজ করার সময় সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে বজ্রপাতে ললিত মিয়া (৩০) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। ললিত সৈয়দপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান মিয়ার ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।