সোনাদিয়ায় প্রভাবশালীর দখলে দেড় হাজার একর প্যারাবন

0
334
সময়ের বার্তা ডেস্ক।।
প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী সোনাদিয়ার প্যারাবন। সোনাদিয়ায় একের পর এক প্যারাবন নিধন করে উক্ত স্থানে গড়ে তোলা হচ্ছে চিংড়ি ঘের। ইতোমধ্যে মহেশালীর ৩ প্রভাবশালীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে দেড় হাজার একরের মত প্যারাবন। আর দেড় হাজার একর প্যারাবন দখলে নিয়ে প্রতিদিন শতাধিক শ্রমিক দিয়ে আর স্কেভেটরের মাধ্যমে প্যারবন নিধন করে সেখানে চিংড়ি ঘের নির্মাণের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালীরা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার চেষ্টা করেও অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে প্যারাবন উদ্ধার করতে পারেনি। ফলে এ বিষয়টি নিয়ে গত ২২ মার্চ উপজেলা আইন শৃংখলা ও সমন্বয় সভায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি উপস্থাপন করলে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে ব্যবস্থা নিতে জানানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে জানা গেছে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে-গত কয়েক মাসের ব্যবধানে মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেলের ঘটিভাঙ্গার হারা বাইন্ন্যার চর এলাকায় ন্যাচারাল বন, সৃজিত বন, খাস জায়গা দখলের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে চিহ্নিত ওই  প্রভাবশালী মহলটি। শুধু তাই নয়, ভাগ বাটোয়ারায় পক্ষে-বিপক্ষে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শক্তির মহড়া দেয় তারা।
এনিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে অজানা আতংক বিরাজ করছে। ঘটিভাঙ্গা বিট অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রথমে দখলে আসে মোস্তফা আনোয়ার, পরে মহেশখালী পৌরসভার মেয়র মকছুদ মিয়া এবং সাবেক সাংসদ আলমগীর ফরিদের ভাইপো হাবিব উল্লাহ। রেঞ্জ অফিস সূত্র জানায়, মোস্তফা আনোয়ারের চিংড়ি ঘের নির্মাণে ব্যাপক বাধা প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু তা সফল হয়নি। মহেশখালী থানায় এবিষয়ে ৬ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ। মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার দাশ (পিপিএম) মামলাটি নথিভুক্ত করার কথা স্বীকার করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটিভাঙ্গা বিট অফিসার মোস্তফাকে নানা হুমকির সম্মুখিনও হতে হয়েছিল বলে জানান এই প্রতিবেদককে।
তবে গত উপজেলা আইন-শৃংখলা ও সমন্বয় সভায় মেয়র মকছুদ মিয়া ও হাবিব উল্লাহ’র বিষয়টি আসলেও মোস্তফার বিষয়টি রহস্যজনক কারণে সভায় উপস্থাপন হয়নি। কেন হয়নি তার জবাবে মহেশখালী রেঞ্জ অফিসার বক্তব্যে না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। উপজেলা রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা গেছে-প্রায় দেড় হাজার একর জমি এখন তিন দাগে প্রভাবশালীদের দখলে। এরমধ্যে প্রায় ৫’শ একর জমির অবৈধ দখল করে চিংঘি ঘের চাষের জন্য প্রস্তুত করেছে মোস্তফা আনোয়ার। আর প্রায় ১ হাজার একরের মত জমি দখল করে মেয়র মকছুদ মিয়া এবং হাবিব উল্লাহ এখনো কাজ করে যাচ্ছেন স্কেভেটর আর শতাধিক দিয়ে।
উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন-অবৈধ দখল উচ্ছেদে আমি নিজে পুলিশ নিয়ে ৫ বার অভিযানে গিয়েছি। থানায় অভিযোগও করেছি। তিনি আরো বলেন-১৯ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার পুলিশ নিয়ে অভিযান করেছি। এই অভিযানে ৫ রাউন্ড গুলিও চালাতে হয়েছে অবৈধ দখলকারীরাদের বিরুদ্ধে। প্যারাবন দখলে মেয়র মকছুদ মিয়া ও হাবিব উল্লাহ’র নাম স্বীকার করে তিনি বলেন-চিংড়ি ঘের নির্মাণের আগে মেয়র মকছুদ মিয়া আমাকে ডেকে বলেছিলেন আমার কতগুলো লিজ জায়গা আছে আমি বাঁধ নির্মাণ করব আপনার সহযোগিতা দরকার তখন আমি বলেছিলাম যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সার্ভে করে কাগজ দিন আমি সহযোগিতা করব। মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কালাম বলেন গত আইন-শৃংখলা সভায় এবিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।
ডিএফও হুমায়ুন কবির জানান-‘স্থানীয় প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা দিচ্ছে। আমি এবিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ এবং প্রয়োজনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে বিহিত ব্যবস্থা নিব। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে হাবিব উল্লাহ বলেন-সে এসবের সাথে জড়িত নয় এবং এ বিষয়ে সে কিছুই জানেন না। অন্যদিকে মেয়র মকছুদ মিয়া বলেন-তিনি কোন প্যারাবন দখল করেনি। তিনি আগের জায়গাটি রোয়ানুতে ভেসে যাওয়ায় তা পুর্ন: নির্মাণ করছে।