স্টেডিয়াম কলোনীতে ইউএনও’র উপস্থিতে নৌকা-দোকান ভাঙচুর!

0
29

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে প্রায় ১০টি নৌকা ও নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকাতে দোকান ভাঙচুর, ভিক্ষুক ও শিশুসহ ৪ জন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির নৌকা ভাঙচুর করাটা অপরাধ বলে নিজেই স্বীকার করে নেন।

তবে তার দাবী ইলিশ ধরার সময় জেলেরা অভিযান পরিচালনার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ আইনশৃঙ্খরা বাহীনির উপর হামলা করার কারনেই তারা বাধ্য হয়ে কেডিসিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে কিন্তু লাঠিচার্জে কোন ভিক্ষুক বা শিশুর উপর হামলা করা হয়নি। গতকাল বিকাল ৪টায় কীর্তনখোলা নদীতে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে নামেন প্রশাসন।

প্রশাসনেরটের জেলেরা জাল ফেলে কীর্তনখোলা নদী সংলগ্ন নগরীর বঙ্গবন্ধু বাস্তহারা (স্টেডিয়াম) কলোনীতে পালিয়ে জান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলেরা পাল্টা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এসময় পুলিশ নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতে কলোনীতে লাঠিচার্জ করেন।

লাঠিচার্জে ৮০ বছরের বৃদ্ধ আকলিমা নামের একজন ভিক্ষুক, ১০ বছরের রাসেদ নামের শিশু সহ ৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানাগেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে নৌ পুলিশ নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় কীর্তনখোলা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে।

এসময় নদীতে মাছ শিকার করতে থাকা ২টি ট্রলারকে ধাওয়া করে তারা। ট্রলার দুটিকে ধরতে ব্যর্থ হয়ে নগরীর বঙ্গবন্ধু বাস্তহারা কলোনী সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর তীরে বাঁশের খুটির সাথে বাঁধা ১০টি নৌকা ও ১টি কাঁচা সবজি বহনকারী ট্রলারে হামলা এবং ভাংচুর করে নৌ পুলিশ সদস্যরা। এমনকি তারা তীড়ে উঠে নদীর পাড়ে থাকা ৫/৭টি চায়ের দোকান ভাংচুর ও এলোপাথারী লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্থ নৌকার মাঝি কবির, বেলাল ও ছালাম সহ আরো অনেকের।

তারা বলেন, পুলিশের লাঠিচার্জে কলোনীর বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা ভিক্ষুক আকলিমা, একই এলাকার বাসিন্দা ১০ বছরের শিশু রাসেদ সহ বেশ কয়েক জনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এর মধ্যে রক্তাক্ত জখম হওয়া শিশু রাসেদকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে দাবী করেন।

তাছাড়া বরগুনা থেকে বরিশালে বেড়াতে আসা ঘটনাস্থল হতে সুজন নামের অপর এক যুবককে আটক করে নৌ পুলিশ। ওই যুবক বরগুনার কালাম মৃধার ছেলে। বঙ্গবন্ধু কলোনীতে নানীর কাছে বেড়াতে আসে।

দাড়িয়ে থেকে পুলিশের লাঠিচার্জের দৃশ্য প্রত্যক্ষকালে তাকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বরিশাল সদর নৌ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. বেল¬াল হোসেন বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে ততটা অবগত নই।

শুনেছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা’র নেতৃত্বে কীর্তনখোলা নদীতে মা ইলিশ রাক্ষায় অভিযান চলছিলো। এসময় তীড়ে থাকা জেলেরা তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযানের নেতৃত্বে থাকা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, জেলেরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আত্মরক্ষাতে কলোনীতে অভিযান করা হয়েছে।

কিন্তু ভিক্ষুক বা কোন শিশুর উপর হামলা করা হয়নি।তিনি আরো জানান, কিছু সংখ্যক লোকের স্বার্থের জন্য নয়, বৃহত্তর স্বার্থে এই অভিযান পরিচালিত হয়। সরকারী কাজে সরকারী কর্মকর্তাদের উপর হামলার ঘটনা কেন মামলা করা হয়নি এবিষয় তিনি জানান, বড় ধরনের জামেলা এড়াতে কোন মামলা করা হয়নি তবে নৌকা শুধু ছিদ্র করে দেয়া হয়েছে।

যদিও নৌকা মালিকদের সাথে এটা আমাদের অন্যায় হয়েছে বলে ভুল স্বীকার করেন এই কর্মকর্তা। কলোনীর একাধিক লোক জানায়, পুলিশের এমন কর্মকান্ডে ক্ষিপ্ত তারা। তা ছাড়া তাদের প্রায় ৪ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করেন তারা।