স্ত্রীকে নির্যাতনকারী ওসি শিশিরের বিরুদ্ধে মামলা

0
153

বরিশালের উজিরপুর মডেল থানার বিতর্কিত অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শিশির কুমার পাল সহ দুই পুলিশ সদস্য’র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নির্যাতনের শিকার রাশিদা বেগম বাদী হয়ে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

আদালতের বিচারক সানা মো. মাহরুফ হোসাইন মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ সুপারকে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অপর অভিযুক্ত হলো- একই থানার কনস্টেবল মো. জাহিদুল ইসলাম। কং নং- ৯৬৮।

বাদী পুলিশের সাবেক এএসআই মরহুম মো. হেলাল মাতুব্বরের স্ত্রী রাশিদা বেগম মামলায় উল্লেখ করেন, ‘অভিযুক্তরা পুলিশ বিভাগে কর্মরত থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন সময় মানুষকে হয়রানী করে আসছে।
এর ধারাবাহিকতায় গত ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় ওসি শিশির কুমার পালের নির্দেশে কনস্টেবল জাহিদুল ইসলাম তার ঘরের মালামাল জব্দ করে।

পরবর্তী একই তারিখে মালামাল ফেরত দেয়ার জন্য তাকে থানায় ডেকে নেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাশিদা বেগম থানা সংলগ্ন বাচ্চুর দোকানে চা পান করতে যায়। এসময় কনস্টেবল জাহিদুল সেখানে এসে তার নাম জিজ্ঞাসা করলে বলতে বিলম্ব হওয়ায় তাকে গালাগাল করে। এর প্রতিবাদ করায় জাহিদুল দোকানের দেয়ালের সাথে চেপে ধরে তাকে দুই গালে ও ঠোটে সিগারেটের আগুনের ছ্যাকা দেয়।

এ ঘটনায় ওসি শিশির কুমার পালের কাছে বিচার দিতে গেলে তিনি বিচার না করে ডিআইজি’র কাছে যেতে বলে। এসময় রাশিদা বেগম তাকে বিচার করার জন্য বললে ওসি তার চুলের মুঠি ধরে গোল ঘরের পাশে নিয়ে যায় এবং মারধর করে। এক পর্যায় তাকে উঠিয়ে আছাড় দিলে রাশিদা বেগম সেখানে মল ত্যাগ করেন।

তখন রাশিদা বেগমের ছেলে এসে প্রতিবাদ করলে তাকে থাপ্পর দেয়া সহ সাদা কাগজে সাক্ষর নেয়। এছাড়াও রাশিদা বেগমের সাথে থাকা ১৩ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়। পাশাপাশি এই ঘটনায় মামলা করলে তাদের অবস্থা আরো ভয়াবহ হবে বলে হুমকি দেয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ওই নারীকে নির্যাতনের ঘটনায় ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত কনস্টেবল জাহিদুল ইসলামকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা তা রিসিভ করেননি। তবে অভিযুক্ত উজিরপুর থানার ওসি শিশির কুমার পাল অভিযোগ অস্বীকার করলেও মামলার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন।