স্ত্রীসহ ক্রিকেটার শাহাদাতের বিরুদ্ধে মামলা

0
106

সময়ের বার্তা ডেস্ক।।

গৃহকর্মী মারধরের ঘটনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পেস বোলার শাহাদৎ হোসেন রাজিব ও তার স্ত্রীকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

খন্দকার মোজাম্মেল হক নামে স্থানীয় এক সাংবাদিক বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দু’জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। এ মামলার অপর আসামি শাহাদৎতের স্ত্রী নিত্য শাহাদত।

এর আগে রোববার (আগস্ট ৬) রাতে ৮টার দিকে রাজধানীর কালশী থেকে পল্লবী থানা পুলিশ মাহফুজা আক্তার হ্যাপী (১১) নামে ওই গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে। তবে বিকেলে শাহাদাত মিরপুর থানায় তার বাসার কাজের মেয়ে হারিয়েছে বলে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে বলে জানায় পুলিশ।

পল্লবী থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার বলেন, মেয়েটিকে গুরুতর আহতাবস্থায় রাস্তায় দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করেছে। ক্রিকেটার শাহাদাত তাকে মারধর করেছে বলে মেয়েটি পুলিশকে জানিয়েছে।

মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হ্যাপীর শরীরের অধিকাংশ স্থানে গুরুতর জখম হয়ে ফুলে গেছে, দু’চোখে আঘাতের চিহ্ন ও সম্পূর্ণ ফোলা, দু’পায়ে জখম ও দাহ্য পদার্থ ও গরম খুনতির ছ্যাকার দাগ রয়েছে।

মিরপুর বিভাগ পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি)কাইয়ুমুজ্জামান রোববার রাতে সাংবাদিকদের বলেন, নির্যাতনকারী যত প্রভাবশালী হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

মামলার বাদী খন্দকার মোজাম্মেল হক জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেয়েটি গুরুতর আহত অবস্থায় কালশীর সাংবাদিক আবাসিক এলাকার রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে এক ছোট ভাই আমাকে খবর দেয়।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটি দেখে আমি পল্লবী থানাকে বিষয়টি অবহিত করি। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে মিরপুর থানায় নিয়ে যায়। ঢাকায় মেয়েটির কোনো আত্নীয় না থাকায়  আমি বাদী হয়ে দু’জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করি।

এ বিষয়ে আসামি শাহাদত হোসেনের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

মিরপুর থানা সূত্রে জানা যায়, মেয়েটির গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলায়। তার বাবার নাম আরব আলী। মামলা শেষে চিকিৎসার জন্য মেয়েটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢামেকে চিকিৎসা নিতে আসা গৃহকর্মী হ্যাপী  জানায়, শাহদাত ও তার স্ত্রী নিত্য তাদের বাচ্চার সুজিতে হলুদ-মরিচ দেওয়ার অপবাদ দিয়ে শিশু হ্যাপীকে মারধর করেছে। তাকে বিভিন্ন অজুহাতে প্রায়ই মারধর করতো বলেও জানায় সে।

ঢামেক সূত্রে জানা যায়, শিশুটির বাস চোখ একেবারে ফুলে গেছে। এছাড়া অন্য চোখ, মাথা ও শরীরের বেশ কিছু স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

সাংবাদিক প্লট এলাকার মিরাজ মাহমুদ নামে বাসিন্দা জানান, নিজের চোখে মেয়েটির কান্না দেখে আমারও কান্না ধরে রাখতে পারিনি। এতো ছোট বাচ্চাকে কেউ এমনভাবে মারতে পারে তা আমার জানা ছিল না।