হত্যা করা হতে পারে আমাকেও…মোমিন মেহেদী

0
166

সময়ের বার্তা ডেস্ক।।

সবার আগে মানুষ আমি মুসলমান তো পরে

কলাম লিখি পত্রিকাতে, কত্ত মানুষ পড়ে

রাজনীতিবিদ রাজপথে রই রাজপথে হয় যুদ্ধ

তাই বলে কি খুন হয়ে যাবো, হবো কারারুদ্ধ?

জবাব দিবেন দয়া করে শেখ হাসিনা খালা

দয়া করে ভাঙবেন না নতুন গাছের ডালা

সত্য কথা বলার সাহস লেখার সাহস যেমন

চাই আপনার শোনার জন্য সাহসখানী তেমন…

‘ইমরান সরকারকে হত্যার হুমকি’ ইনভাইটেড কমা দিয়ে যে শিরোনামটি দেয়া হয়েছে, সেই শিরোনামের আড়ালে লুকিয়ে আছে ‘ নতুনধারার রাজনীতিক কলামিস্ট মোমিন মেহেদীকে হত্যার হুমকি’, ‘ব্লগার অমুককে হত্যার হুমকি’র মত অসংখ্য শিরোনাম। আর এমন একটা পরিস্থিতিতে নিজের জীবন নিয়ে যেভাবে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার; তেমন-ই শঙ্কা প্রকাশ করছি আমি-আমরা। ‘তাকে খুব শিগগিরই হত্যা করা হবে’- মোবাইল ফোনে এমন হুমকি দেয়া হয়েছে বলে তিনি যেভাবে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন; ঠিক একইভাবে আমিও জানিয়েছি এবং জানাচ্ছি যে, যখন তখন হত্যা করা হতে পারে আমাকে-আমাদেরকে, আমাদের আদর্শকে, আমাদের চেতনাকে, আমাদের সংস্কৃতিকে, আমাদের সামাজিক মূল্যবোধকে। আর এর জন্য দায়ী বর্তমান সরকার। কেননা, ইচ্ছে করেই এই সরকারের সর্বোচ্চ শক্তি থেকে শুরু করে তৃণমূল শক্তি পর্যন্ত জিইয়ে রাখছে ইসলামী ব্যাংক-এর জঙ্গী মদদ, জামাত-শিবিরের মত জঘণ্য দেশ বিরোধী চক্র, নতুন কিশোর কন্ঠ-ছাত্র সংবাদ, নয়া দিগন্ত, সংগ্রাম আর ইবনে সিনা হাসপাতালের মত অসংখ্য ধর্ম ব্যবাসায়ী প্রতিষ্ঠান-সংগঠন ও ব্যাক্তিকে।

যে কারনে খুবই আক্ষেপের সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, যে দেশে খুন-ধর্ষণের বিচার হয় না, হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের বিচার হয় না, আদালত অবমাননার মত জঘণ্য বিষয়েরও বিচার হয় না, প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের অধিকাংশকেই বিচারের আওয়াতায় আনা হয় না বরং মন্ত্রী বানিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়, সে দেশে হত্যার হুমকি তেমন বড় কোনো ঘটনা না। তার উপর আমি আবার রাজনৈতিক কোন বড় পরিবার বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তান বা শেখ সেলিমের ভাগ্নে নয় যে আমাকে বাঁচাতে সাথে সাথে পদক্ষেপ নেবে সরকার; বরং সরকার যা করতে পারে তা হলো- বালুর ট্রাক এনে নতুনধারা বাংলাদেশ-এনডিবি’র কার্যালয়কে অবরোধ করে নিরাপত্তার নামে আমাকে বন্দী করতে পারে। কেননা, নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে যে সত্য উচ্চারণ করি রাজপথে-কলামে-পত্রিকাতে; তা সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে সরকার। তবুও বলি, বলতেই হবে বাংলাদেশের রাজনীতি-শিক্ষা-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক কর্মী হিসেবে- ব্লগারদের আপত্তিকর লেখালেখি যথাযথ মনিটর হয় না বলেই ব্লগার ও উগ্রপন্থীদের পেছনে সরকারবিরোধী তৃতীয় গ্রুপ ক্রমশ সমস্যার জাল বুনেই যাচ্ছে। আর এমনটি-ই মনে করছি আমি। কেননা, আইডি’র নাম ‘আবিদ আজম’ অথবা ‘শাকিল মাহমুদ’ অথবা ‘চাপা বাবা’র আড়ালে জামাত-শিবির-যুদ্ধাপরাধীচক্রই ধর্ম নিয়ে অকথ্য ভাষায় লেখালেখি বেশি করে। তাছাড়া অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ও ব্লগারদের আপত্তিকর লেখালেখি সঠিকভাবে মনিটর করলে ব্লগারদের ওপর হামলার ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। ব্লগে ধর্মীয়-রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উসকানিমূলক লেখার পরপরই যদি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয় হয়, সেক্ষেত্রে তারা স্পর্শকাতর লেখা থেকে বিরত থাকবে বলে আমার ধারনা। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, ঘটনা ঘটার পরপরই ব্লগারদের লেখা নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে আইনশৃংখলা বাহিনী।

যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যারা উসকানিমূলক লেখালেখি করেন এবং জঙ্গি- উভয়ই উগ্রপন্থী। তাদের উসকে দিচ্ছে সরকারবিরোধী তৃতীয় গ্রুপ। এখন এ বিষয়টিও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আইনশৃংখলা বাহিনীর ওপর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা রয়েছে। উসকানিমূলক লেখালেখি যারা করবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে জামায়াত-শিবির-জঙ্গি যারা এসব হত্যা ও হামলায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও নেয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা। নিরাপত্তা আইনশৃংখলা বাহিনী জঙ্গি-উগ্রপন্থীদের কঠোরহস্তে দমন করতে সক্ষম হচ্ছে। নতুন নতুন জঙ্গি আস্তানায় গোয়েন্দারা আঘাত হানছে। সম্প্রতি সারাদেশে সহিংসতার পুটলী-পাটলির মত রাজধানীতেও চারটি জঙ্গি ঘাঁটির সন্ধান পেয়েছেন তারা। একইভাবে যারা ব্লগ ও সামাজিক মাধ্যমে উসকানিমূলক লেখা পোস্ট করছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। দু-একটি ঘটনায় নজির স্থাপন করতে পারলে ব্লগারদের মাঝেও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা তৈরি হবে। তখন ধর্ম নিয়ে উসকানিমূলক লেখালেখি করতেও তাদের ভেতরে ভীতি সৃষ্টি হবে। এ ক্ষেত্রে জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার আশংকার মাত্রা অনেকটাই কমে আসবে। তবে বলে রাখা ভালো যে, অভিজ্ঞতের মতে আরও মনোযোগের সঙ্গে তালিকাভুক্ত ব্লগ বা সামাজিক সাইটগুলো মনিটর করা উচিত আইনশৃংখলা বাহিনীর। বিশেষ করে ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের নিরাপত্তার কারণে তা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তাদেরও সতর্ক করা জরুরি। যদি এ সতর্কের পরও তারা কটাক্ষ করে লেখালেখি না ছাড়েন তখন অবশ্যই প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ, উসকানিমূলক লেখার কারণেই খুনের ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য উগ্রপন্থী গ্রুপও তাদের অনুসরণ করে নিয়মিত। এ গোষ্ঠী বিশৃংখলার জন্য যে কোনো ক্লুর অপেক্ষায় থাকে। তবে যতদূর জানি কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছেন, কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ধর্মকে নিয়ে যারা কটাক্ষ করে তারা ভালো লোক হতে পারে না। তাদের কোনো একটা উদ্দেশ্য থাকে। কাজেই যারা এ ধরনের উসকানিমূলক লেখা ব্লগে কিংবা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে তারাও উগ্রপন্থীদের মতোই অপরাধী। ডিএমপির মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইস্যু তৈরি করতে তৃতীয়গোষ্ঠী ব্লগার ও উগ্রপন্থীদের মাঝখানে রয়েছে। এখন তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে অনলাইনস প্রেস ইউনিটি ও ব্লগার্স ক্লাবের তথ্যানুযায়ী ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত সাতজন ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট খুন হয়েছেন। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী ব্লগ বা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ধর্ম নিয়ে যারা কটাক্ষ করে লেখালেখি করেন তাদের বেশ কয়েকজনের তালিকা আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে এসেছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- আসিফ মহিউদ্দিন, আবুল কাশেম, আলমগীর হোসেন, অন্য আজাদ, মম চৌধুরী, বিপ্লব কান্তি দে, দাঁড়িপাল্লা ধমাধম, নিতাই ভট্টাচার্য, ইব্রাহীম খলিল সবাগ, (সুমন সওদাগর) কৈশিক, আহমেদ, নুরনবী দুলাল, পারভেজ আলম, রতন সন্যাসী, সৈকত চৌধুরী, শর্মী আমিন, সৌমিত্র মজুমদার (সৌম্য), আল্লামা শয়তান, (বিপ্লব) শুভজিদ ভৌমিক, সুমিত চৌধুরী, নাজিম হত্যা কান্ড, বড়ুয়া, সুব্রত শুভ, মোমিন মেহেদী ও সুশান্ত দাসগুপ্ত। এই তালিকায় নাম না থাকলেও নাজিম হত্যাকান্ড সংগঠিত হওয়ার পরপরই বন্ধু ও বান্ধবীকে কি এমন জিজ্ঞাসা করে ক্লান্ত হলো সরকার-পুলিশ-প্রশাসন; তা এখন দেখার বিষয়। এটাও দেখার বিষয় যে, কারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়। হত্যাকান্ডের ধরন দেখে ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের সন্দেহ করা হচ্ছে। কিন্তু এর সপক্ষে এখনও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নাজিম কোনো ব্লগে লেখালেখি করতেন- এমন তথ্য মেলেনি। তিনি ফেসবুকে কিছু পোস্ট ও স্ট্যাটাস দিতেন বিভিন্ন সমালোচনা করে। এসব নিয়ে কাদের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, কেউ তাকে হুমকি দিয়েছিল কিনা সেটা জানার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে তার সহপাঠী, বন্ধু ও রুমমেট সোহেল এবং এক বান্ধবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের কাছে মূলত নাজিমের অতীত কর্মকান্ড, বন্ধু-বান্ধব কারা, কেউ তাকে হুমকি দিয়েছে কিনা এসব এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। বলা হয়েছিলো, কমিশনারের অনুমোদন সাপেক্ষে মামলার তদন্তভার ডিবি পুলিশের কাছে নিয়ে আসা হবে। কি নিয়ে আসা হবে, আর কি নিয়ে আসা হবে না, তা আমাদের বিষয় না; আমাদের বিষয় হলো- নিরাপত্তা। আর এই নিরাপত্তা নিয়ে এগিয়ে যেতে না পারায় আরো একটি অঘটন ঘটলো, আর তা হলো রাবি শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা। বলঅ হচ্ছে, হত্যাকান্ডে উগ্রপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী জড়িত ধারণা পুলিশের ক্ষোভে-বিক্ষোভে উত্তাল ক্যাম্পাস। সেই উত্তাল হাওয়ায় ভেসে আসে সংবাদ-এর পর সংবাদ। সেখানে বলা হয়েছে যে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

রাজশাহী নগরীতে বাড়ির কাছেই এই অধ্যাপককে মোটর সাইকেলে আসা দুই যুবক কুপিয়ে পালিয়ে যায়। অতিতে যেভাবে ব্লগারদের কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, ঠিক একই কায়দায় প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক রেজাউল করিমকে হত্যা করা হয়েছে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে-হত্যাকান্ডে কোনো উগ্রপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী জড়িত। আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম অধ্যাপক রেজাউল স্যারকে। তিনি লেখালেখি করতেন, সেই সুবাদে তিনি রাজশাহী শাখা জাতীয় শিক্ষাধারার উপদেষ্টা ছিলেন। সুন্দরম নামে একটি আবৃত্তি সংগঠনের উপদেষ্টা ছাড়াও যুক্ত ছিলেন নতুনধারা’র বিভিন্ন প্রকাশনার সাথে। তিনি শহরের বোয়ালিয়া থানা এলাকার শালবাগানের সপুরা এলাকায় থাকতেন। বাড়ির কাছেই বটতলা মোড়ে আক্রান্ত হন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে বাস ধরার জন্য অধ্যাপক রেজাউল করিম (৬১) শালবাগান মোড়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। বাড়ি থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে আসার পরই দু’জন যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাকে ঘাড়ে কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বাগমারার দরগাবাড়ি এলাকায় এই শিক্ষকের পৈত্রিক বাড়ি। শালবাগানের সপুরা এলাকায় থাকতেন তিনি। প্রিয় শিক্ষককে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী মিছিল, সড়ক অবরোধ, সমাবেশ ও ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি শিবিরের সাবেক নেতা আমীরুল মোমিনীন মানিকসহ সকল শিবির সদস্যদেরকে গোয়েন্দা নজরদারীতে রাখা এখন সময়ের দাবী। কেননা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশত শিবির কর্মী এখন ঘুপটি মেরে আছে মিডিয়ার ঝোপ-ঝাড়ে। যাদের টার্গেট-ই হলো-মিডিয়ার মাঝে থেকে মিডিয়ার বুদ্ধিজীবিদেরকে ধ্বংশ করে দেয়া। আর এজন্য প্রয়োজন নতুন করে ভাবনায় নেমে পড়া। যাতে করে আর কোন ব্লগার-শিক্ষক-শিক্ষার্থী-তনু বা ইতির হত্যার সংবাদ আমাদেরকে পড়তে না হয়; হতে না হয় পত্রিকার পাতায়…