হযরত ঈসা মসিহ (আ.) কর্তৃক মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এর আগমনের সুসংবাদ

0
19
ধর্মীয় ডেস্ক।।

হযরত ঈসা মসিহ (আ.) কর্তৃক মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এর আগমনের সুসংবাদ
আমরা পবিত্র কোরআনে দেখতে পাই যে, হযরত ঈসা মসিহ (আ.) তার পর (আহমদ নামে) মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছেন। এই বিষয়টি কি বর্তমান ইঞ্জিলেও আছে ?
এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে যে আয়াতটি বর্ণিত হয়েছে তা নিম্নরূপ:
« وَ مُبَشِّراً بِرَسُول یَأتِی مِنْ بَعْدِی اسْمُهُ اَحْمَدُ فَلَمّا جاَهُمْ بِالْبَیِّناتِ قالُوا هَذَا سِحْرٌ مُبین; … »
স্মরণ কর, যখন মরিয়ম তনয় ঈসা (আ.) বলল: হে বনী ইসরাইল ! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, আমার পূর্ববর্তী তওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং আমি এমন একজন রাসূলের সুসংবাদ দাতা যিনি আমার পরে আগমন করবেন। তার নাম আহমদ অত:পর যখন সে (আহমাদ) প্রমাণাদি নিয়ে তাদের মাঝে আগমন করলেন তখন তারা বলল: এতো এক প্রকাশ্য যাদু।(১)
পবিত্র কোরআন হযরত ঈসা (আ.) এর যে সুসংবাদ এ আয়াতে বর্ণনা করেছে তা ইউহান্না ইঞ্জিলের ১৪, ১৫ এবং ১৬ তম অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।ইউহান্নার বর্ণনা অনুযায়ী হযরত ঈসা মসিহ (আ.) তার পর “ফারক্লিত” নামে একজন নবীর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছেন এবং বিভিন্ন দলিল এটা প্রমাণ করে যে, সেই ব্যক্তিটি হচ্ছেন ইসলাম ধর্মের মহান নবী হযরত মুহাম্মাদ(সা.)। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার জন্য আমরা ইঞ্জিলের কিছু অংশ তুলে ধরছি:
“তোমরা যদি আমাকে ভালবাস, তাহলে আমি তোমাদের জন্য যে বিধান এনেছি তা পালন করবে। আর আমি পিতার কাছে আবেদন করবো, তিনি যেন তোমাদের জন্য আরও একজন “ফারক্লিত” প্রেরণ করেন। যিনি সর্বদা তোমদের সাথে থাকবেন। তিনি সত্য ও সঠিক আত্মা, যাকে বিশ্ববাসী কবুল করবে না।কেননা তারা তাকে চেনে না ও জানে না। কিন্তু তোমাদেরকে তিনি চিনবেন।কেননা তিনি তোমাদের কাছে থাকবেন এবং তোমাদের মধ্যেই থাকবেন।”(২)
“আমি এই কথাগুলো তোমাদেরকে তখন বলেছি যখন আমি তোমদেরমাঝে ছিলাম। কিন্তু ঐ “ফারক্লিত” যাকে পিতা (আমার নামে) অবশ্যই পাঠাবেন, তোমাদেরকে সকল কিছু শেখাবেন এবং আমি তোমাদেরকে যা কিছু শিখিয়েছি সেগুলোকে স্মরণ করিয়ে দিবেন।”(৩)
“বিষয়টি ঘটার পূর্বেই আমি তোমাদেরকে সংবাদ দিলাম যাতে করে তোমরা যখন ঘটনাটি ঘটবে তার উপর ঈমান আন।”(৪)
“যখন ঐ ফারক্লিতকে আমি পিতার পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য প্রেরণ করব। আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সত্য আত্মাটি আসবে সে আমার সম্পর্কে সাক্ষ্য দিবে।”(৫)
“সত্যি বলছি আমি চলে গেলেই তোমাদের জন্য ভাল, কেননা আমি না গেলে ঐ ফাক্লিত তোমাদের কাছে আসবে না। আমি গিয়ে তাকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করবো। তিনি আসলে বিশ্ববাসীকে গোনাহ, সত্যবাদিতা এবং ইনসাফ করতে বলবেন। গোনাহ; কেননা তারা আমার উপর ঈমান আনবে না।সত্যবাদিতা; কেননা আমি পিতার কাছে চলে যাব এবং তোমরা আমাকে আর দেখতে পাবে না। ইনসাফ; কেননা এই বিশ্বের নেতার নির্দেশ বাস্তবায়িতহয়েছে এবং তোমদেরকে আমার আরো অনেক কিছু বলার আছে কিন্তু এখন তা সহ্য করতে পারবে না। তবে তিনি যখন আসবেন তিনি তোমদেরকে সকল সত্য সম্পর্কে জানাবেন। কেননা তিনি নিজের থেকে কোন কথা বলবেন না,বরং (পিতার কাছ থেকে) যা শুনবেন তাই বলবেন। তিনি তোমাদেরকে ভবিষ্যতের খবর বলবেন এবং আমার অনেক প্রশংসা করবেন। কেননা তিনি আমার সকল বিষয় সম্পর্কে জানেন এবং তোমাদেরকে তা জানাবেন। পিতার সকল কিছুই আমার জিনিস। এটা এজন্য বললাম যে, তিনি আমার সকল কিছু নিয়ে তোমাদেরকে জানাবে।(৬)
এখানে আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, হযরত ঈসা মসিহর পর যিনি আসবেন তিনি একজন নবী ও রাসূল রুহুল কুদুস নন:
– প্রথমে আমাদেরকে খেয়াল করতে হবে যে, ইসলামের পূর্বে খ্রিষ্টানআলেম ও ইঞ্জিলের মুফাস্সিরদের নিকট স্পষ্ট ছিল যে, হযরত ঈসা মসিহর পর যে ফারক্লিত আসবে তিনি হচ্ছেন মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)। এমনকি অনেক সুবিধাবাদীরা এই সুযোগে নিজেকে ফারক্লিত হিসাবে পরিচয় দিয়েছে।
যেমন: “মুন্তাসের” যে একজন সাধক ছিল এবং সে দ্বিতীয় শতাব্দীতেবসবাস করতো। সে ১৮৭ খ্রিষ্টাব্দে এশিয়াতে নিজেকে নবী বলে দাবী করেছিলএবং বললো: আমিই সেই ফারক্লিত যার আগমন সম্পর্কে হযরত ঈসা মসিহ সুসংবাদ দিয়েছিলেন এবং কিছু লোক তার আনুগত্যও স্বীকার করেছিল।(৭)
– ইসলামি ইতিহাস থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, যখন রাসূল (সা.) এর নবুয়ত ঘোষিত হয় তখন খ্রিষ্টান বিশ্বের ওলামা ও রাজনৈতিকরা অধির আগ্রহে ইঞ্জিলে বর্ণিত প্রতিশ্রুত নবীর অপেক্ষায় ছিল। এ কারণেই রাসূল (সা.) এর দূত যখন হাবাশার বাদশার হাতে নবীর চিঠিটি তুলে দেয়, সে চিঠিটি পড়ে পত্র বাহককে উদ্দেশ্য করে বললো: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি সেই নবী যারপ্রতীক্ষায় আহলে কিতাবরা অধির আগ্রহে অপেক্ষমাণ রয়েছে। যেভাবে হযরত মুসা (আ.) হযরত ঈসা (আ.) এর নবুয়তের এবং তার আগমনের সুসংবাদ দিয়েছিলেন, হযরত ঈসাও (আ.) শেষ জামানার নবীর নবুয়তের সুসংবাদ দিয়েছেন এবং তার আলামত ও নিদর্শন সম্পর্কে বলেছেন।(৮)
যখন কাইসারের হাতে রাসূল (সা.) এর চিঠিটি পৌঁছুল এবং সে চিঠিটি পড়ে রাসূল (সা.) সম্পর্কে গবেষণা করে চিঠির উত্তরে লিখেছিল: আপনার চিঠি পড়েছি এবং আপনার দাওয়াত সম্পর্কে অবগত হয়েছি। আমি জানতাম যে একজন নবী আসবেন কিন্তু আমার ধারণা ছিল যে, সেই নবী সিরিয়া থেকে আসবেন … ।(৯)
ইতিহাসের এই সকল দলিল থেকে প্রমাণিত হয় যে, তারা সকলেই একজন নবীর অপেক্ষায় ছিল এবং সেটা তারা ইঞ্জিল থেকেই জানতে পেরেছিল।
– হযরত ঈসা মসিহ “ফারক্লিত” এর যে বর্ণনা দিয়েছেন এবং যে সকল শর্ত সাপেক্ষের কথা বলেছেন, তা থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, এখানে “ফারক্লিত”বলতে মহানবী হযরত মুহাম্মাদকে (সা.) বোঝানো হয়েছে রুহুল কুদুস নয়। এর ব্যাখ্যা হল:
(ক) হযরত ঈসা (আ.) তার কথাকে এভাবে শুরু করেছেন: “তোমরা যদি আমাকে ভালবাস, আমার সকল বিধি -বিধান মান্য কর আমি পিতার কাছে আবেদন করব যেন আরেক জন ফারক্লিত তোমাদের জন্য প্রেরণ করেন।”
প্রথমত: হযরত ঈসা (আ.) প্রথমে তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে,তোমাদের সাথে আমার সম্পর্ক ভাল। তবে অনেকে হয়ত তার এই সুসংবাদকে মান্য নাও করতে পারে। তাই তিনি তাদেরকে বলছেন তোমরা যদি আমাকেভালবাস এবং আমার সকল বিধি -বিধান মান্য কর। যদি এখানে ফারক্লিত বলতে রুহুল কুদুসকে বোঝানো হত (যেমনটি খ্রিষ্টানরা মনে করে) তাহলে এতভূমিকার কোন দরকার হত না।
কেননা রুহুল কুদুস অবতীর্ণ হওয়ার পর এমনভাবে সবার অন্তরে প্রভাব বিস্তার করে যে কেউ তাকে অস্বীকার করতে পারে না। কিন্তু উদ্দেশ্য যদি প্রতিশ্রুত নবী হয়, তাহলে এমন ভূমিকার খুব বেশী প্রয়োজন। কেননা প্রতিশ্রুত নবীর ভালবাসা প্রচারের মাধ্যমে অন্তরে প্রথিত হয়। তাই বিচার বিবেচনা করে অনেকে নবীর প্রতি ঈমান আনে আবার অনেকে ঈমান আনে না।
হযরত ঈসা শুধু এতটা বলেই ক্ষান্ত থাকেন নি বরং অধ্যায়: ১৪, বাক্য: ২৯ তে দৃঢ়তার সাথে তিনি বলেছেন: “বিষয়টি ঘটার পূর্বেই আমি তোমাদেরকে সংবাদ দিলাম যাতে করে তোমরা যখন ঘটনাটি ঘটবে তার উপর ঈমান আন।”কিন্তু রুহুল কুদুসের প্রতি ঈমান আনার জন্য কোন তাগিদ দেয়ার প্রয়োজন হয় না, আর দৃঢ়তার তো প্রশ্নই আসে না !
দ্বিতীয়ত: তিনি বলেছিলেন আর একজন ফারক্লিত তোমাদের জন্য প্রেরণ করবেন। যদি বলি উদ্দেশ্য আর একজন নবী তাহলে সম্পূর্ণ সঠিক কিন্তু যদি বলি এর উদ্দেশ্য রুহুল কুদুস তাহলে কোন অর্থই হয় না। কেননা রুহুল কুদুস একজনই সেখানে অন্য রুহুল কুদুসের কোন অর্থই হয় না।
(খ) “আমি তোমাদেরকে যা কিছু শিখিয়েছি তিনি তোমাদেরকে তা স্মরণ করিয়ে দিবেন।(১০) যে সত্য আত্মা পিতার পক্ষ থেকে আসবে তিনি আমার সম্পর্কে সাক্ষ্য দিবেন।”(১১)
বলা হয় হযরত ঈসাকে (আ.) শুলে চড়ানোর ৫০ দিনের মাথায় রুহুল কুদুস অবতীর্ণ হয় তাহলে কি হাওয়ারিউনরা এত অল্প সময়ে ঈসা মসিহর সকল নির্দেশ ভুলে গিয়েছিল যে, রুহুল কুদুস তা স্মরণ করিয়ে দিবেন ?
হযরত ঈসার সাহাবীদের কি প্রয়োজন ছিল যে, রুহুল কুদুস আবার তার সম্পর্কে সাক্ষ্য দান করবেন ! কিন্তু যদি ফারক্লিত বলতে প্রতিশ্রুত নবী বুঝি তাহলে দুটো বাক্যই সঠিক। কেননা হযরত ঈসার উম্মত সময়ের ব্যবধানের কারণে এবং ইঞ্জিলে আলেমদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তার অনেক নির্দেশই ভুলে গিয়েছিল। আবার অনেকে সব ভুলে গিয়েছিল। হযরত মুহাম্মাদ (সা.)সকল কিছু স্মরণ করিয়ে দেন এবং হযরত ঈসা (আ.) এর নবুয়তের সাক্ষ্যদানকরে বলেন: তিনিও আমার মত একজন নবী ছিলেন, তার মাতা মরিয়ম পুত -পবিত্র ছিলেন এবং হযরত ঈসা খোদা নন বরং আল্লাহর প্রেরিত নবী ছিলেন।
(গ) “আমি যদি চলে না যাই তাহলে ফারক্লিত তোমাদের কাছে আসবে না।”(১২) তিনি ফারক্লিতের আগমনকে তার যাওয়ার উপর শর্তাধীন করেছেন।যদি উদ্দেশ্য রুহুল কুদুস হত তাহলে তার যাওয়ার কোন দরকার ছিল না। কেননা হযরত ঈসা থাকা অবস্থায় রুহুল কুদুস অবতীর্ণ হতেন।(১৩)
সুতরাং রুহুল কুদুসের আগমন কোন অবস্থাতেই হযরত ঈসা মসিহর যাওয়ার উপর শর্তাধীন ছিল না। কিন্তু যদি বলি উদ্দেশ্য একজন নবী যিনি শরীয়ত নিয়ে আসবেন তাও আবার বিশ্বজনীন, সে ক্ষেত্রে তার আগমন হযরত ঈসার গমনের উপর শর্তাধীন হতে বাধ্য।
(ঘ) ফারক্লিত আসলে তিনটি কাজ করবে: বিশ্বকে গোনাহ, সত্যতা এবং ইনসাফে পূর্ণ করবে।(১৪) গোনাহ; কেননা আমার উপর ঈমান আনবে না।
আমরা জানি যে, খ্রিষ্টানদের বিশ্বাস হল হযরত ঈসাকে (আ.) শুলে চড়ানোর ৫০ দিনের মাথায় রুহুল কুদুস হাওয়রিউনদের কাছে অবতীর্ণ হয়। কিন্তু তিনি তাদেরকে গোনাহ, সত্যতা এবং ইনসাফে পূর্ণ করতে বাধ্য করেন নি। এটা থেকে বোঝা যায় যে, রুহুল কুদুস তাদের উপর অবতীর্ণ হত যারা হযরত ঈসাকে (আ.) মানতো না কেননা হাওয়ারিউনতো সর্বদা হযরত ঈসাকে বিশ্বাস করত। কিন্তু যদি বলি যে, এখানে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) কে বোঝানো হয়েছে তাহলে দেখবো যে তার মধ্যে এর সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিল।
(ঙ) “ফারক্লিত আমার (হযরত ঈসা মসিহ) সম্পর্কে সাক্ষ্য দিবেন।”(১৬)
“তোমাদেরকে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে খবর দিবেন এবং আমার প্রশংসা করবেন।”(১৭)
ফারক্লিত হযরত ঈসা মসিহ সম্পর্কে সাক্ষ্য দিবেন এটা প্রমাণ করে যে, তিনি রুহুল কুদুস নন। কেননা হাওয়ারিউনদের সাক্ষ্যের কোন প্রয়োজন নেই। অনুরূপভাবে বলা হয়েছে যে, তোমাদেরকে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে খবর দিবেন এবং আমার প্রশংসা করবেন। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) হযরত ঈসা মসিহর প্রশংসা করেছেন এবং তার শরীয়তকে পূর্ণ করেছেন। এর চেয়ে বড় প্রশংসা আর কি হতে পারে !
এই সকল দলিল প্রমাণ আমাদেরকে মুসলমান পণ্ডিতগণ যে হকিকতের কথা বলেছেন তাতে উপনীত হতে সহায়তা করে। তবে দলিল -প্রমাণ এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং আরও গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করলে আরও অনেক প্রমাণাদি পাওয়া যাবে।
সব শেষে ফ্রান্সের ইন -সাইক্লোপিডিয়ার ২৩তম খণ্ডের ৪১৭৪ পৃষ্ঠায় এ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার দিকে পাঠকগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি:
“মুহাম্মাদ দ্বীন ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আল্লাহর রাসূল এবং সর্বশেষ নবী।মুহাম্মাদের অর্থ হচ্ছে যার অধিক প্রশংসা করা হয়েছে। মুহাম্মাদ শব্দটি হামদ শব্দমূল থেকে নেয়া হয়েছে, যার অর্থ প্রশংসা ও মহিমা। আশ্চর্যের বিষয় হল অপর যে নামটি হামদ শব্দমূল থেকে নেয়া হয়েছে এবং মুহাম্মাদের প্রতিশব্দ তা হচ্ছে আহমাদ। আবার খ্রিষ্টানরা আহমাদকে সেই প্রতিশ্রুত ফারক্লিত মনে করেন। আহমাদ অর্থাৎ অধিক প্রশংসিত এবং অতি উজ্জ্বল। মুসলমানমনিষীরাও বার বার বলে আসছেন যে, এটার অর্থ প্রতিশ্রুত ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)। পবিত্র কোরআনও বিস্ময়কর ভাবে স্পষ্টভাবে সূরা সফে তা বর্ণনা করেছে।(১৮)
উল্লেখ্য, এই প্রবন্ধটি লেখার ক্ষেত্রে আনিসুল আ’লাম গ্রন্থের সহায়তা নেয়া হয়েছে, যার লেখক হচ্ছেন ফাখরুল ইসলাম।
তথ্যসূত্র:
১। সূরা সফ, আয়াত: ৬।
২। ইঞ্জিল ইউহান্না, অধ্যায় ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, যা ১৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দে লন্ডনে ছাপা হয়েছে। অন্য বাক্য গুলোও এই ছাপা থেকে বর্ণনা করা হয়েছে এবং অন্যান্য ফার্সি অনুবাদের সাথেও মিলিয়ে নেয়া হয়েছে।
৩। ইঞ্জিল ইউহান্না, অধ্যায়: ১৪, বাক্য: ২৫ -২৬।
৪। ইঞ্জিল ইউহান্না, অধ্যায়: ১৪, বাক্য: ২৯।
৫। ইঞ্জিল ইউহান্না, অধ্যায়: ১৫, বাক্য: ২৬।
৬। ইঞ্জিল ইউহান্না, অধ্যায়: ১৬, বাক্য: ৭ -১৫।
৭। আনিসুল আ’লাম, ২য় খণ্ড, পৃ:১৭৯; ইতিহাস গ্রন্থ লিম মিউর ১৮৪৮খ্রীষ্টাব্দ।
৮। তাবাকাতে কুবরা, ১ম খণ্ড, পৃ: ২৫৯, এবং সিরাতে হালাবি, ৩য় খণ্ড, পৃ: ২৭৯।
৯। তারিখে কামেল, ২য় খণ্ড, পৃ: ৪৪।
১০। ইঞ্জিল ইউহান্না, অধ্যায়: ২৬, বাক্য: ১৪।
১১। ইঞ্জিল ইউহান্না, অধ্যায়: ১৫, বাক্য: ২৬।
১২। ইঞ্জিল ইউহান্না, অধ্যায়: ৭, বাক্য: ১৫।
১৩। ইঞ্জিল মাত্তা, অধ্যায়: ১০,বাক্য: ২৯; এবং লুকা, অধ্যায়; ১০, বাক্য:১৭।
১৪। পুরাতন ইঞ্জিলসমূহে দায়িত্বের পরিবর্তে ভৎর্সনা বলা হয়েছে। দ্বিতীয়টা যুক্তিসংগত। খ্রিষ্টান মুফাসসিরগণ যখন এই বাক্যটি পড়ে তখন তারা কোনভাবেই এটাকে রুহুল কুদুসের সাথে মিলাতে পারে না। তাই তারা বলে যে এখানে বিশ্বের নেতা বলতে শয়তানকে বোঝানো হয়েছে। কেননা সে মানুষকে গোনাহ করতে বাধ্য করবে। এর দলিল হচ্ছে এই যে, হযরত ঈসা মসিহবলেছেন: বিশ্বের নেতা আসবে কিন্তু সে আমার উপর কোন কর্তৃত্ব করতে পারবে না।
এ ধরণের ব্যাখ্যা শয়তানী ছাড়া কিছুই নয়। কেননা যদি ধরেও নেই যে, এধরণের এক শয়তান মানুষকে গোনাহ করতে বাধ্য করবে তাহলে কিভাবে সে সততা ও ইনসাফের দাওয়াত দিবে ?
১৫। ইঞ্জিল ইউহান্না, অধ্যায়: ১৮, বাক্য: ৯ ও ১০।
১৬। ইঞ্জিল ইউহান্না, অধ্যায়: ১৫, বাক্য: ২৭।
১৭। ইঞ্জিল ইউহান্না, অধ্যায়: ১৬, বাক্য: ১৪ ও ১৫।
১৮। মুহাম্মাদ খাতামে পায়াম্বারান, ১ম খণ্ড, পৃ: ৫০৪।
সূত্রঃ ইন্টারনেট