হলিউডের যৌন দেবী নেই

0
130
লা ডলস ভিটা তারকা আনিতা একবার্গ মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩। রোববার সকালে রোমে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আনিতার ব্যক্তিগত আইনজীবি। গত ক্রিসমাস থেকেই তিনি ধারাবাহিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ছিলেন।

সুইডিশ বংশোদ্ভূত এই নায়িকাকে হলিউডের ‘সেক্স গড্ডেস’ বা ‘যৌন দেবী’ নামে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। ১৯৬০ সালে নির্মিত পরিচালক ফেডরিকো ফেলিনির সিনেমা লা ডলস ভিটাতে অভিনয়ের পর তাকে ওই উপাধি দেওয়া হয়।
ওই সিনেমায় স্ট্র্যাপলেস বা কাঁধের সঙ্গে আটকানোর ফিতাহীন পোশাক পরে রোমের ট্রেভি ফাউন্টেনের পানি দিয়ে হেঁটে যাওয়া তার অভিনীত একটি দৃশ্যকে সিনেমার ইতিহাসে অবিস্মরণীয় কিংবদন্তীর দৃশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

১৯৩১ সালে সুইডেনের মালমোতে জন্মগ্রহণকারী আনিতা একবার্গ ২০ বছর বয়সে মিস সুইডেন খেতাব পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানেই তিনি পরিচালক ফ্রেডরিকো ফেলিনির সাক্ষাৎ পান।
পরিচালক ফ্রেডরিকো ফেলিনি তাকে তার বিখ্যাত সিনেমা লা ডলস ভিটার কেন্দ্রীয় চরিত্র সিলভিয়া চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নির্বাচন করেন। সিনেমাটির গল্পে সিলভিয়াকে সময়ের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সৃষ্ট সবচেয়ে সুন্দরী নারী হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়, যার পেছনে সব সময় ফটো সাংবাদিকরা লেগে থাকেন।

এই সিনেমাতেই প্রথম তারকাদের পেছনে ঘুরঘুরকারী ফটো সাংবাদিকদেরকে ‘পাপারাজ্জি’ নামে আখ্যায়িত করা হয়। অথচ মজার ঘটনা হল, ওই সিনেমায় অভিনয়ের পর থেকে আনিতা একবার্গের পেছনেই সব সময় ফটো সাংবাদিকরা লেগে থাকতো।এরপর থেকে হলিউডের নেতৃস্থানীয় লোকদের সঙ্গে প্রেম রোমান্সের জন্য তিনি প্রায়ই সংবাদপত্রের শিরোনাম হতেন। অ্যারোল ফ্লাইন, ইয়ুল ব্রাইনার এবং ফ্রাঙ্ক সিনাত্রার মতো বিখ্যাত সব হলিউড অভিনেতারা তার প্রেমিকের তালিকায় ছিলেন।

লা ডলস ভিটা ছাড়াও আনিতা একবার্গ বব হোপস নির্মিত হাস্য-রসাত্মক সিনেমা প্যারিস হলিডে (১৯৫৭) ও কল মি বোয়ানাতে (১৯৬৩) অভিনয় করেছেন। এ ছাড়া ব্লাড অ্যালি (১৯৫৬), হলিউড, বাস্ট (১৯৫৬) এবং ঐতিহাসিক মহাকাব্যিক সিনেমা ওয়ার এণ্ড পিস (১৯৫৬) এর মতো বিখ্যাত সিনেমাগুলোতেও অভিনয় করেছেন আনিতা।
কিন্তু আনিতা একবার্গ খুব বেশিদিন তার খ্যাতি ধরে রাখতে পারেননি। ১৯৭০ এর দশকের শেষদিকে আনিতা একবার্গ রুপালি পর্দার জগৎ থেকে একপ্রকার উধাও হয়ে যান। এরপর তাকে কদাচিৎ ইউরোপীয় কয়েকটি সিনেমায় দেখা গেছে। তবে ১৯৮৭ সালে ফেলিনির নাটকীয় স্মৃতিকথা ইন্টারভিস্তায় একটি চরিত্র হিসেবে আবির্ভুত হন আনিতা একবার্গ।

গণমাধ্যমের বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মৃত্যুর আগে শেষ জীবনে তিনি প্রায় কপর্দকশুন্য হয়ে পড়েছিলেন।