হাতেম আলী কলেজ চৌমাথায় সাইফুলের প্রতারণার ফাঁদ

0
202

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল শহরের প্রান কেন্দ্র চৌমাথা এলাকায় ফেমাস ইউনানী হারবাল আযুর্বেদিক ঔষধালয় চেম্বারে দিনের পর দিন রোগীদের সাথে চিকিৎসার নামে প্রতারনা করা হচ্ছে। সূত্রে জানা যায় ইউনানী হারবাল আযুর্বেদিক ঔষধালয় চেম্বারে এর ব্যাবস্থাপনায় রয়েছেন ডাক্তার সাইফুল ইসলাম। বর্তমানে বরিশাল সহ সারা দেশে ৮/১০ টি হারবাল প্রতিষ্ঠান রয়েছে যার প্রধান অফিস ঢাকা। সাইফুল ইসলাম ইউনানী হারবাল আযুর্বেদিক ঔষধালয় এর পাশাপাশি রোগীদের সাথে প্রতারনার জন্য বিভিন্ন নামে এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান করে রেখেছে। একই ব্যক্তি সাধারন মানুষের সাথে প্রতারনার জন্য ভুয়া চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র খুলে নামে মাত্র পাশ করা হাকিম বা কবিরাজ এমন কি ম্যানেজার দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

সাধারন মানুষ পত্র পত্রিকায় চোখ জুরানো বিজ্ঞাপন ও গ্যারান্টি দেখে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিতে এসে প্রতারিত হচ্ছে।বরিশাল শহরের প্রান কেন্দ্র চৌমাথা এলাকায় প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন ব্যবসা করছেন সাইফুল ইসলাম। এই প্রতারক তার সকল প্রতিষ্ঠানে একজন পিয়ন ও একজন করে ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন। এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে তার নিয়মিত রোগী দেখার কথা উল্লেখ রয়েছে, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী একজন চিকিৎসক যে বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেছে তাকে শুধু সে বিষয়ে চিকিৎসা অধিকার দেওয়া আছে। অথচ এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠান করে আয়ুর্বেদিক ও হারবাল প্রতিষ্ঠানের একজন মাত্র ভুয়া সার্র্টিফিকেটধারী চিকিৎসক স্বাস্থ্যহীনতা, যৌনদুর্বলতা ও হাপানীসহ ডজনখানিক রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে একাধীক। এক কথায় রোগ যায় হোকনা কেন সকল চিকিৎসা আছে এদের কাছে। রেজিষ্টার্ড ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক নীতিমালা অনুযায়ী বোর্ড একজন হাকীমকে যে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বলে সার্টিফিকেট প্রদান করবে তাকে সে বিষয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে হবে।

এছাড়া হারবাল আইনে কোন হারবাল চেম্বার তার প্রতিষ্টানের সাইন বোর্ড ব্যানার তার বাড়ী ও চেম্বার ছাড়া আর কোথাও ব্যবহার করতে পারবে না। তা ছাড়া বরিশাল বিভাগে ইউনানী হারবাল আযুর্বেদিক ঔষধালয় বিজ্ঞাপনে এমন ভাষা ব্যবহার করা হয় যা মুখে উচ্চারন করার মত নয় । এই বিষয়ে একজন অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে ২য় শ্রেনীতে পড়ে ফেমাস ইউনানী হারবাল আযুর্বেদিক ঔষধালয় চেম্বারের বিজ্ঞাপন দেখে আমাকে প্রশ্ন করে বাবা যৌন দুর্বলতা কি?এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর অভিভাবকরা দিতে পারেন না, যাতে করে এইসব কোমলমতি বাচ্ছাদের মনে আরও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। কোন প্রকার বিজ্ঞাপনের অনুমতি ও নেই এই চিকৎিসকদের নীতিমালা ও আচরন বিধিতে। এসব নিয়মের কোনটাই মানছেন না বরিশালে ফেমাস ইউনানী হারবাল আযুর্বেদিক ঔষধালয় সহ প্রায় ৮/১০ টি প্রতিষ্ঠানের এর ব্যবস্থাপক। প্রতারনার একটি প্রধান শর্ত আমাদের প্রতিষ্ঠানের দেশের আর কোথাও শাখা নেই।

প্রতিটি শাখায় চমকপ্রাপ্ত বিজ্ঞাপন দিয়ে সাইন বোর্ডে উল্লেখ করা হয় যে তাদের কোন শাখা নেই। এ ব্যাপারে ফেমাস ইউনানী হারবাল আযুর্বেদিক ঔষধালয় দাবিকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাক্তার সাইফুল ইসলাম হারবাল চেম্বার বৈধ বলে দাবি করেন। এছাড়া তিনি আরো বলেন প্রশাসনের সামনে ব্যবসা করতে হলে প্রতিমাসে মাসোহারা দিতে হয় । এছাড়া সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতেও প্রতিমাসে কয়েক হাজার টাকা দেয়া লাগে বলে জানান তিনি।

চিকিৎসার নামে প্রতারনা করে অসহায় রোগীদের থেকে প্রতারক দালালদের মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বিভিন্ন ধরনের জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসার জন্য গ্রাম থেকে শহরে আসা সাধারন রোগীদের থেকে। যেখানে একজন বিশেষজ্ঞ এমবিবিএস ডাক্তার রোগ নিরাময়ে কোন গারান্টি দিতে পারে না। সেখানে এই হারবাল চেম্বার শতভাগ গারান্টি সহকারে মাত্র ৭ দিনে জটিল ও কঠিন রোগের স্থায়ী সমাধান দেওয়ার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারন মানুষের সাথে প্রতারনা করে তাদের সর্বশান্ত করছে। ভুয়া প্রতারনাকারী এইসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে সাড়া দেশে বেশ কয়েক গুটি। তার প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র সঠিক কিনা জানতে চাইলে তিনি সব সঠিক বলে দাবি করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান অনেক দিন ধরে একটি রোগের চিকিৎসা নিয়ে আসছে।

বিজ্ঞাপন দেখে ফেমাস ইউনানী হারবাল আযুর্বেদিক ঔষধালয় চেম্বারে ফোন করে চিকিৎসার ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেমাস ইউনানী হারবাল আযুর্বেদিক ঔষধালয় চৌমাথা শাখায় আসতে বলা হয়। চিকিৎসার নামে ডাক্তারি ফি সহ একটি লেবেল বিহিন বোতল ধরিয়ে দিয়ে ২২ শত টাকা দিতে বলে এবং আবার ১০ দিন পরে আসতে বলে। এভাবে কয়েক বার গেলেও আমার চিকিৎসার কোনই পরিবর্তন হয়নি।

এসব হারবাল চিকিৎসার অড়ালে রোগীদের হাতে তুলে দিচ্ছে যৌন উত্তেযক ট্যাবলেট ও মাদক দ্রব্য আর এমটি অভিযোগ করেন সাধারন রোগিরা। গ্যারান্টি সহকারে চিকন স্বাস্থ্য মোটা করন, হাঁপানী, এ্যাজমা, পাইলস, যৌন, চর্ম ও মাত্র সাত দিনে টাক মাথায় নতুন চুল গজানোর বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করে এই প্রতারনা করা হচ্ছে। ক্যাবল টিভিতে যৌন সমস্যা সমাধানে অশ্লিল ভাষা ও খোলা পোষাকের ভিডিও প্রচার করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। যা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। সকল ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার নিষিদ্ধ এই সকল হারবাল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তবুও একটি চক্রকে ম্যানেজ করে এধরনের অশ্লিল বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছে।

চিকিৎসা নিতে আসা এক ব্যবসায়ী জানায়, তিনি দীর্ঘদিন যাবত শারীরিক দুর্বলতায় ও যৌন সমস্যায় ভুগতে ছিলেন যার সমস্যা সমাধানে তিনি চেম্বারে গেলে তাকে যৌন রোগের সমস্যা সমাধানে ২৪ ঘন্টার কথা বলে একটি ট্যাবলেট হাতে ধরিয়ে বলে রাতে ঘুমানোর আগে খেয়ে নিতে তাতেই সকল সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। আর একটি ফাইল দিয়ে বলে আগামী এক সপ্তাহ খাবেন “ এক ফাইলেই যথেষ্ট। এভাবে চিকিৎসার নামে রোগীদের সাথে প্রতারনা করছে হারবাল আইন অনুযায়ী এই সকল চিকিৎসা সেবা যারা দিয়ে থাকেন তারা নামের আগে হাকিম লিখতে হবে। কিন্তু তারা হাকিম না লিখে প্রতারনা করে নামের আগে ডাক্তার লিখে প্রচার করেন।