হিন্দুদের বৈবাহিক জীবন – অস্থায়ী যৌন মিলন প্রথা

0
42
হিন্দু ধর্ম অনেক পুরানো ধর্ম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ধর্ম মনে করা হয়। বিভিন্ন ধরনের প্রথানির্ভর এই বিশেষ প্রকৃতির জীবন বিধানে বৈবাহিক আচার এবং রীতিনীতির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে বটে, কিন্তু নারীদের পবিত্রতা রক্ষা এবং একই স্বামীর স্ত্রী হিসেবে অংশীদারবিহীন ব্যবস্থাপনার কোন বিধি বিধান পাওয়া যায় না।
একই স্বামীর সাথে জীবন কাটানো এবং বৈবাহিক মিলনের বিধানে ভিন্ন পুরুষের অংশীদারিত্ব অস্বীকারের কোন সুস্পষ্ট আইন নেই। তাছাড়া তিক্ততা এবং উভয়ের মধ্যে চরম গরমিল হওয়ার পরও উভয়ের জীবনের শান্তি নিরাপত্তার জন্য স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক ছিন্নকরার কোন বিধানকে স্বীকৃতি দেয়া হয় নাই। এরজন্য কোন বিহিত ব্যবস্থাও রাখা হয় নাই।
আর বিবাহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রথার প্রচলনের কারণে যৌন মিলনের অবৈধতার পথ অত্যন্ত স্বীমিত রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই ধর্মে নারীদের অধিকারের কোন অবকাশ নেই। বিশ্বকোষের প্রবন্ধকারের মতে এই ধর্মানুসারী কোন কোন গোত্রে আট প্রকার বিবাহ প্রথা চালু রয়েছে। (৮/৪৫১) এক প্রকার বিবাহ প্রথাকে ‘আসোরা’ বলা হয়।
এক প্রকার নীচু বংশের মধ্যে এই প্রথা চালু রয়েছে, যাদের মধ্যে নারী বেচাকেনাও হয়ে থাকে। আর একটি বিবাহ প্রথাকে তাদের ভাষায় ‘রাকসামা’ বলা হয়। এই প্রথা অনুপাতে নারীকে জোরপুর্বক তোলে নেয়াকে বৈধ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে তাদের ধর্ম গ্রন্থের কিছু তত্ত্ব বিবেচনা করা যেতে পারে, যার মধ্যমে তাদের বৈবাহিক জীবন ব্যবস্থা এবং নারীদের অধিকার সম্পর্কে অবগতি লাভ হবে।
ক.
মনোসমরীতে বলা হয়েছে “নারীদেরকে সর্বদা ক্ষমতা এবং অধিকারহীন করে রাখতে হবে।”( বিশ্বকোষ ৮/৪৫১)
খ.
নিঃসন্তান হলে স্বামীর অনুমতিক্রমে বংশের কোন আত্মীয় অথবা দেবরের সাথে যৌন মিলনের মাধ্যমে সন্তান ধারণ করবে। ইউনানী সমাজ ব্যবস্থাতেও অনুরূপ নির্দেশ রয়েছে। (মাদ্দা হুররিয়্যাতুয যাওজাইন ১/২৮)
গ.
গুরুজনের অনুমতিক্রমে দেহে ঘি মালিশ করত: বিধবার সাথে যৌন মিলন করে সন্তান জন্ম দিতে পারবে,তবে কেবল একটি সন্তানই জন্ম দিবে, এর অধিক জন্ম দিবে না। অবশ্য এদের অনেক পন্ডিতদের মতে একাধিক সন্তান জন্ম দেয়ার মতও বিধিত রয়েছে, কেননা এক সন্তান অনেক সময় সন্তান হীনতার কারণ হয়ে থাকে।
ঘ.
কারো সাথে কোন মেয়ের বিবাহের কথা পাকাপাকী হওয়ার পর যদি পুরুষের মৃত্যু ঘটে তাহলে তার কোন আপন ভাই মৃত ভাইয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়ে পবিত্র এবং সাদা কাপড় পরিধান করত: ঐ মেয়ের সাথে এক বিশেষ পন্থায় যৌন মিলনে মিলিত হবে এতে যে সন্তান জন্ম হবে সেই সন্তান মৃত ভায়ের সন্তান বলে গন্য হবে।
ঙ.
ছোট ভাই বড় ভায়ের স্ত্রীর সাথে যৌন মিলনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিবে,আর ছোট ভাই এই সন্তানের অংশীদার হিসেবে গন্য হবে। অস্থায়ী যৌন মিলন প্রথা বিবাহের মানবতা বিবর্জিত এবং নির্লজ্জ এ সমস্ত প্রথা ছাড়াও হিন্দু ধর্মে স্বামীর অবর্তমানে অন্যের সাথে যৌন মিলনের বৈধতা,অস্থায়ী নিয়োগ অর্থাৎ যৌনমিলন প্রথা নামে এক প্রকার বিবাহ প্রথা চালু রয়েছে, এই সভ্যতা বিবর্জিত প্রথার কথা তাদের নিভরযোগ্য বইপুস্তকে উল্লেখ রয়েছে এবং বর্তমানেও তা আইনষিদ্ধভাবেই চালু রয়েছে।
কেননা হিন্দু ধর্মের এই যুগের বিশেষ পন্ডিত ও সংস্কারক আরিয়া ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা এবং সর্বজন স্বীকৃত নেতা সোয়ামী দিয়ানন্দ সরমোতী তার স্বীকৃতি ভাষণে বলেন, স্বামীর জীবদ্দশায় নিয়োগ বিবাহের অর্থাৎ অস্থায়ী যৌনমিলনের অনুমতি বিধিতরয়েছে, এই অস্থায়ী যৌন মিলন একবার নয়, বরং দশবারও হতে পারে, এরপর তিনি বলেন, দিয়াসজীগুরু চাতরুবিরিয়ার দুই যুবতীর সাথে নিয়োগ অর্থাৎ অস্থায়ী যৌন মিলনের মিলিত হয়েছিলেন।
মনোজীও এরূপ অস্থায়ী যৌন মিলনের নিয়োগ প্রথাকে সমর্থন করেছেন। পুরানো আরিয়া সমাজে নিয়োগ বিবাহ প্রথার বৈধতা এবং ব্যাপকতার পক্ষ্যে মহাভারত গ্রন্থে অগনিত প্রমাণাদি বিদ্যমান রয়েছে। দিয়াসজী একজন বড় ধরনের পন্ডিত এবং গুরু ব্যক্তি, তিনি চতরামগমাদ বেং চতরুভিয়ার স্ত্রীদের সাথে স্বয়ং নিয়োগ প্রথা অনুসারে যৌন মিলনে মিলিত হন। ঐ মিলনের পরই দুইজনের একজনের গর্ভে পাণ্ডো জন্ম গ্রহণ করে, আর এক কালে এই পাণ্ডোর আবর্তমানে তার স্ত্রীও ভিন্ন পুরুষদের সাথে যৌন মিলনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রথার ব্যাপক প্রসারে অবদান রাখে।
সোওয়ামীজী তার ঐতিহাসিক ভাষণে এ সমস্ত তথ্যাবলি উপস্থাপনা করে মোটেই লজ্জিত হন নাই এবং কোন প্রকার অস্বস্থিও বোধ করেন নাই। বরং তিনি বর্তমান যুগে নিয়োগ প্রথার স্বল্পতা এবং শেষ হয়ে যাওয়ার আশংকা বোধ করে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে পরিতাপ ও ও দুঃখের সাথে একথাও হুশিয়ারী করেছেন যে, হিন্দুদের চারিত্রিক অধপতনের একটি অন্যতম কারণ ‘নিয়োগ প্রথার প্রতি তাদের অবহেলা এবং উদাসীনতা’।
যদি ভিন্ন পুরুষের স্ত্রীদের সাথে সমাজের যে কোন পুরুষের জন্য নিয়োগ প্রথা অনুসারে যৌন মিলনের সুযোগ ব্যাপকভাবে গ্রহণ করা হতো, তাহলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মারাত্মক চারিত্রিক অধপতন সাধিত হতো না। সোওয়ামিজী বলেন, নিয়োগ প্রথার মাধ্যমে যৌন মিলন অথবা স্থায়ী বিবাহের ব্যবস্থাপনার অভাবে মানুষের মধ্যে যে অবর্ণনীয় চরিত্রহীনতা এবং ধ্বংসত্ব সৃষ্টি হয়েছে, তা আজবিশ্ববাসী স্বচক্ষে অবলোকন করেছে।
জনাব সোওয়ামিজী এতটুকু বলেই ক্ষ্যান্ত হন নাই বরং স্থায়ী বিবাহ প্রথার তুলনায় অস্থায়ী নিয়োগ প্রথায় যৌনমিলনের বিধানকে অগ্রাধিকার দান করে দ্ব্যর্থহীনভাবে পরিস্কার ভাষায় ঘোষণা করেন, হে আরিয়া সমাজের লোকজন! ভাল করে শুনে রাখ! স্থায়ী বিবাহের তুলনায় নিয়োগ পদ্ধতির যৌন মিলন প্রথা বহুগুনেই উত্তম। মনে রাখতে হবে যে, যদি সমাজে স্থায়ী বিবাহ প্রথা ব্যাপক আকার ধারণ করে, তাহলে নারী সমাজ স্বামীদেরকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে। মজার ব্যাপার হলো, এই নিয়োগ প্রথা মতে ভিন্ন পুরুষের সাথে যৌন মিলনের পরিণামে সন্তান জন্ম নিলে সেই সন্তান যৌন মিলন কারীর নয়,বরং আসল স্বামীর সন্তান বলে গন্য হবে। মিষ্টার সোওয়ামিজী তার ভাষণে স্থায়ী বিবাহ এবং অস্থায়ী নিয়োগ প্রথার মধ্যে পার্থক্যের দিক উন্মোচন করে বলেন এখানে অনেকের মনে এই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, স্থায়ী বিবাহ এবং অস্থায়ী নিয়োগ প্রথার মধ্যে পার্থক্য কী? পার্থক্য এই যে, স্থায়ী বিবাহ প্রথার কারণে স্বামী স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক আজীবনের জন্য অটুট এবং স্থায়ী হয়ে যায়।
আর নিয়োগ প্রথার সম্পর্ক স্থায়ী হয় না,বরং অস্থায়ী হয়। একজন, দুইজন সন্তান হওয়ার পরপরই স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। তাদেরমধ্যে কোন প্রকার সম্পর্ক থাকে না। আর নিয়োগ প্রথায় জন্ম গ্রহণ কারী সন্তান প্রথম স্বামীর সন্তান বলেই গণ্য হয়। জনাব সোওয়ামী নারী সমাজকে দিক নির্দেশনা দিয়ে বলেন, হে নারী সমাজ তোমরা স্বামীর সাথে বিবাহ হওয়ার পর ভিন্ন দশজন পুরুষের সাথে নিয়োগ প্রথামতে যৌন মিলনে মিলিত হও”। এরূপ জীবন বিধান মূলত: একজন নারীর জন্য একসাথে দশজন পুরুষের সাথে যৌন মিলনকে অবৈধ নয় বরং বৈধ করে,অনুপ্রাণিত করে।
যার পরিণাম আপন স্বামী ব্যতীত ভিন্ন পুরুষের সাথে অবাধে যৌন মিলনের পথ প্রসারিত এবং ব্যাপক হতে বাধ্য। বাস্তবেইও যা হওয়ার তাই হয়েছে। তাদের ধর্মগ্রন্থ এবং ইতিহাস এর জলন্ত প্রমাণ। ঐতিহাসিক প্রবন্ধকার মিষ্টার জান্ডিম্যান হিন্দু আইন প্রথা পুস্তকে     লিখেছেন, এই যৌন মিলন প্রথার কারণে একজন নারী একাধিক পুরুষের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অধিকারী হয়।

সূত্রঃ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তরদাওয়াতি সংগঠন মজলিসে দাওয়াতুলহক। এর মৌল উদ্দেশ্য মানব জীবনেসকল ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত ওআদর্শের প্রতিফলন ঘটানো। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামের ইত্তিবা-অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলারইবাদত আনুগত্যের দাবি পূরণ করাই হলএকজন মুসলমানের ইহকালীন জীবনেরমূল উদ্দেশ্য।

সাথে থাকুন সব সময় ।
আল্লাহ্ হাফেজ ।