হেমন্তেই শীতের আমেজ

0
83

সময়ের বার্তা ।।

প্রকৃতিতে এখন নবান্নের ঋতু হেমন্ত। শেষ হয়নি অগ্রহায়ণের প্রথমপক্ষ। ছোট হয়ে এসেছে দিন। বেলা না গড়াতেই দ্রুত দিন ফুরিয়ে নামছে সন্ধ্যা। ক্রমশ: কমছে তাপমাত্রা। বাতাসে হিমের ছোঁয়া। রাতে মৃদু কুয়াশা। একটু আগাম এসে গেছে শীত। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অনেক জনপদে দিনভর নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া, রাতে কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহ হানা দিচ্ছে। কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে চরাচর। রাজধানীতেও শুরু হয়েছে পৌষের আমেজ। শেষ রাতে কাঁথা গায়ে দিতে হচ্ছে। সকালে অফিসগামী অনেককেই ওম মিলবে এমন পোশাক পরতেও দেখা গেছে।
গতকাল শনিবার আবহাওয়া দফতর জানায়, প্রায় সারাদেশেই শীত নেমেছে। গতকাল চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি এবং রাজশাহী ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড  করা হয়েছে। সারাদেশের তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। হিমেল হাওয়ায় শীতের অনুভূতি বাড়ছে প্রতিদিনই। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ২ ডিগ্রি। সকাল ৬টায় রাজধানীর বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৬০ শতাংশ। কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম ছাড়া প্রায় সব জেলায়ই মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে।
আবহাওয়া অফিস পূর্বাভাসে বলেছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তত্সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। আবহাওয়া অধিদফতরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, দেশের নদী অববাহিকায় ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, রংপুর, ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগসহ সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
একজন আবহাওয়া বিজ্ঞানীর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ধকলে ঋতুর কাল বদলে যাচ্ছে। এবার তো গ্রীষ্ম আর বর্ষা একাকার হয়ে গেছে। প্রকৃতির পালাবদলের সঙ্গে বদলে যায় মানুষের জীবনধারা। প্রকৃতির মধ্যে সাড়া পড়ে যায় বদলে যাওয়া সময়ের স্বাভাবিকতা ও অস্বাভাবিকতায়। ঠাণ্ডা হাওয়ার কম্পন জাগছে সর্বত্র। ঘন কুয়াশা আচ্ছন্ন করে রাখছে রাত্রিকালীন এই চরাচর। এবার সারাদেশে হাড় কাঁপানো কনকনে শীত নামতেও পারে। আবহাওয়াবিদ রফিজুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে এমন বিরূপ প্রভাব পড়েছে।