১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ

0
404

নিউজ ডেস্ক।।

ইলিশ রক্ষায় প্রধান প্রজনন মৌসুমে আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

সচিবালয়ে রবিবার ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান’ বিষয়ে মতবিনিময় সভার শুরুতে এ তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. ছায়েদুল হক।

গতবছর এ সময় ১৫ দিন হলেও এবার ১৯৮৫ সালের মাছ রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধি (প্রটেকশন এ্যান্ড কনজারভেশন ফিস রুলস, ১৯৮৫) সংশোধন করে এ সময় ৭ দিন বাড়ানো হয়েছে। গত বছরের আগে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের সময় ছিল ১১ দিন।

মৎস্যমন্ত্রী জানান, এ সময়ে ইলিশ ধরা ও বিক্রির পাশাপাশি সরবরাহ ও মজুদও নিষিদ্ধ থাকবে। এ আদেশ অমান্য করলে কারাদণ্ড ও জরিমানা গুণতে হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, চান্দ্রমাসের ভিত্তিতে প্রধান প্রজনন মৌসুম ধরে এ বছর আশ্বিন মাসের প্রথম চাঁদের পূর্ণিমার দিন এবং এর আগে ৪ ও পরের ১৭ দিনসহ মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। এবার ১৬ অক্টোবর আশ্বিন মাসের প্রথম চাঁদের পূর্ণিমা।

ছায়েদুল হক বলেন, ‘এ কার্যক্রমের আওতায় ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত প্রায় ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকাসহ সারাদেশে প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করে আইন জারি করেছে সরকার।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে চাঁদপুর, লক্ষীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, শরীয়তপুরসহ চলতি বছর আরও সম্প্রসারিতভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, মাদারীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, খুলনা, কুষ্টিয়া এবং রাজশাহী জেলার সব নদ-নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে।

‘সারাদেশের মাছের ঘাট, মৎস্য আড়ৎ, হাট-বাজার, চেইনসপে ব্যাপক অভিযান চালানো (নিষিদ্ধ সময়ে) হবে’ বলেন প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, নৌপুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মৎস্য অধিদফতর এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করবে।’

ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের সময়ে জেলেদের ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) দিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ছায়েদুল হক।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে এবারই প্রথম ইলিশের ছড়াছড়ি। অলিগলিতেও ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। গরিব মানুষ যারা ইলিশ খেতে পারত না তারা ইলিশ খেতে পারছে।’

সারাদেশে অবৈধ জাল পুড়িয়ে ফেলে জেলেদের পুনর্বাসনে ৯০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান ছায়েদুল হক।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শওকত আলী বাদশা, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খানসহ অভিযানের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।