৫৭ বছরের বৃদ্ধের সাথে বাল্যবিবাহ হওয়া থেকে রক্ষা পেল ১২ বছরের কিশোরী

0
134

মোঃ জহিরুল ইসলাম মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি।।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের কাছে সোর্স মারফত বাল্য বিয়ের খবর আসার সাথে সাথে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করলে শ্রীমঙ্গলের কালাপুর ইউনিয়নের মাজদিহি পাহাড়ের নারায়নছড়াতে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে তাহমিনা আক্তার ফরিদা (১২) কে উদ্ধার করে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীমঙ্গলের মাজদিহি পাহাড়ের নারায়নছড়াতে তাহমিনা আক্তার ফরিদা নামের ১২ বছরের আনন্দ স্কুল পড়–য়া ৫ম শ্রেণীর শিশুকে মেয়ের পিতা ফখরুল ইসলাম, ঢাকা নিবাসী নজরুল ইসলাম (৫৭), পিতা মৃত আব্দুল মজিদের সাথে বিবাহ সম্পাদনের লক্ষ্যে গায়ে হলুদের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

জানা যায়, তাহমিনার পিতা ফখরুল ইসলামকে ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তার শিশু মেয়েকে বাল্যবিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে ৫০ হাজার টাকা একটি স্বর্ণের চেইন তাহমিনার বাবাকে বরপক্ষ দিয়েছে বলে জানা গেছে।

আজ উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, বিগত ১৯ অক্টোবর শ্রীমঙ্গল উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্মতা মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে তাহমিনার বিয়ে বন্ধ করেন। পরবর্তীতে আবারো অর্থলিপ্সু পিতা গোপনে একই ব্যক্তির সাথে পুনরায় ২৭ অক্টোবর বিয়ের দিন ধার্য করেন। শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের তথ্যের ভিত্তিতে, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহেবা আক্তার, কালাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজুল রহমান চৌধুরী, শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশসহ উদ্ধারকারী টিম তাহমিনার বাড়িতে গেলে তার মা বাবা পালিয়ে যায়। তখন হবু কনেকে গায়ে হলুদের প্রাঙ্গন থেকে উদ্ধার করে উপজেলা কর্মকর্তার অফিসে নিয়ে আসা হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, তামহিনাকে পুলিশের কাছে আজ রাতে হস্তান্তর করা হবে এবং বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে সিলেটে সেইফ হোমে পাঠানোর জন্য কথা রয়েছে।

কণ্যাশিশু তাহমিনা আক্তার জানায়, ‘বাবা মা বলেছে নজরুল ইসলামের (বর) সাথে আমাকে যদি বিয়ে না দেওয়া হয় তাহলে নজরুল ইসলাম বিষ পানে আতœহত্যা করবে। আমি জানি, আমার বাবাকে ৫০ হাজার টাকা একটি স্বর্ণের চেইন দিয়েছে বর। আমি এই বিয়েতে রাজি ছিলাম না তারা আমাকে ভয় দেখিয়েছে সে (বর) আতœহত্যা করবে’।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা জানান, আমরা এর আগে এই মাসের ১৯ অক্টোবর বিকেল ৩ টায় খবর পেয়েছি কালাপুর ইউনিয়নের ফখরুল ইসলামের মেয়ে তাহমিনা আক্তার ফরিদা (১২) ৫৭ বছরের ঢাকার এক লোকের সাথে বিয়ে প্রস্তুতি চলছে। সেখানে গিয়ে তার প্রথম বিয়ে বন্ধ করি। আজ ২৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টায় সেখানে গিয়ে দেখতে পাই। আবার একই ব্যাক্তি সাথে তাহমিনার বিয়ের গায়ে হলুদের ২য় বারের মত বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। সেখান থেকে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহেবা আক্তার বলেন, এর আগেও একবার আমরা মেয়েটিকে বাল্যবিয়ে থেকে মুক্ত করেছি। কিন্তু অর্থলিপ্সু দরিদ্র পিতা পুনরায় মেয়ের বিয়ের আয়োজন করে।

এদিকে এলাকাবাসী সন্দেহ করছে, নজরুল ইসলাম শিশু পাচারকারী বা এ সম্পর্কিত কোন অপরাধের সাথে যুক্ত।