৬০ লাখ টাকা আত্মসাত করলেন শায়েস্তাবাদের চেয়ারম্যান মুন্না

0
1953

বরিশাল অফিস।।
রহস্যজনকভাবে বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন আড়িয়াল খাঁ নদী রামকাঠী খেয়াঘাটের ইজারা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান মুন্না। একটানা গত ছয় বছর ধরে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে খেয়াঘাটের উত্তোলনকৃত টোলের অর্থ গিলে খাচ্ছে চেয়ারম্যান মুন্না। বিষয়টি নিয়ে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের অধিকাংশ বাসিন্দার মাঝে সমালোচনার ঝড় বইলেও ক্ষমতার দাপটে মুন্না নির্বিঘেœ চালিয়ে যাচ্ছে টোল উত্তেলনের ব্যবসা। ঘটনাচক্রে ফুটে উঠেছে, গত ২৩/০৩/২০১৭ তারিখে বরিশাল জেলা প্রসাশক বরাবর “শায়েস্তাবাদ রামকাঠি খেয়াঘাট” সম্পর্কে লিখিত আবেদন করেন ওই

ইউনিয়নের ৪ জন বাসিন্দা। লিখিত আবেদনে দক্ষিণ চরআইচা গ্রামের মৃত আবদুল ওহাব রাঢ়ির ছেলে মো. মশিউর রহমান উলেখ করেন, তার  জানামতে বিগত দিনে ওই ইউনিয়ন পরিষদ ঘাট ইজারা বাবদ ২০/৩০ হাজার টাকা দেখানো হতো। কিন্তু তিনি ৩ লাখ ৫২ হাজার ৫শত টাকা সরকারকে  দিয়ে ওই খেয়াঘাট পরিচালনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একইভাবে কামারপাড়া গ্রামের হাকীম চৌকিদারের ছেলে মো. সহিদ চৌকিদার তার লিখিত আবেদনে উলেখ করেছেন, বিগত দিনে এই নদী পারাপারে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ইজারা দেখানো হয়েছে। কিন্তু তিনি সরকারকে ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা দিয়ে ঘাট ইজারা নিতে রাজি রয়েছেন। এমনকি তিনি বর্তমান ভাড়া (টোল) রাখবেন বলে আবেদনে উলেখ করেছেন। হবিগঞ্জ গ্রামের মৃত সোনামদ্দিন হাওলাদারের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা জলিলুর রহমান তার লিখিত আবেদনে উলেখ করেছেন, ঘাটটি ইজারা নেয়া হয়েছে ২০ হাজার টাকায়। কিন্ত কমপক্ষে হওয়া উচিৎ ছিলো  ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। চুড়ামন গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান মৃধার ছেলে আব্দুল মালেক মৃধা তার লিখিত

 

আবেদনে উলেখ করেছেন, ঘাট ইজারা নেয়া হয় ২০ হাজার টাকায়। কিন্তু কমপক্ষে হওয়া উচিৎ ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ মার্চ ০৫.১০.০৬০০.১১২.০১৬.২০১৫-১৯৯ নং স্বারকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. জাকির হোসেন বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারনে তা থমকে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে একটি সূত্র। একাধিক বাসিন্দা বলছেন, মুন্না চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস নেই কারো। তার বিরুদ্ধে যে কথা বললে তার লাশ রাস্তার আনাচে-কানাচে পরে থাকতে পারে। প্রতি বছর কমপক্ষে সরকারকে  ৮/১০ লাখ টাকার ক্ষতি করে গত ৬ বছরে সে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে গেছে। সরকারকে একটান গত ৬ বছর ঠকিয়ে আসছে। নগরীর প্রাণ কেন্দ্র সদর রোডে আবাসিক হোটেলও আছে। সেখানেও চলে অবৈধ ব্যবসা। অপর এক সূত্র নিশ্চিত

 

করে জানিয়েছে, বরিশাল সদর উপজেলার নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবীর সত্যতা যাচাই করার জন্য গত বুধবার সকালের দিকে ছুটে যান শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের রামকাঠি খেয়া ঘাটে। যাচাই বাচাই এর এক পর্যায়ের এক পর্যায় ওই কর্মকর্তা ইজারা সম্পর্কে জানতে চাইলে চেয়ারম্যানের মুন্না বলেছে, সরকারী নিয়ম অনুযায়ি ইজারা দেয়া হয় না।  জানা গেছে, চেয়ারম্যান নিজে এবং তার লোকজন এর মধ্যে খেয়া ঘাটে দায়িত্ব পালনের ভাগ বন্টন করে দেয়। গত ৬ বছর এর মধ্যে ১ বছর মাত্র ৮ লক্ষ টাকা ইজারা নেয়া হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত খেয়াঘাটে নিয়মানুযায়ী ইজারা সম্পন্ন হয়নি। চলতি বছরের ইজারা সম্পর্কে চেয়ারম্যান মুন্না বলেন, গ্রামে নাকি ঢোল বাজিয়ে ইজারা ঘোষনা করা হয়। কিন্তু অধিকাংশ স্থানীয় বিষয়টি সম্পর্কে জানেই না। অনেকেই বলেছেন, এ খেয়া ঘাট মুন্না চেয়ারম্যান’র পেটে।  পেট চিড়ে না বেড় করলে খেয়াঘাট পেটেই থেকে যাবে।