৯৮০ কোটি টাকা মেরে দিয়েছে খালেদার পরিবার

0
216

সময়ের বার্তা ।।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বজনরা ব্যাংক থেকে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আর ফেরত দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তাদের (খালেদা পরিবার) সম্পদের অভাব নেই, তারপরও তারা মানুষের সম্পদ লুটপাট করে।বৃহস্পতিবার বিকালে ঠাকুরগাঁও জেলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। গত ৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর এটি তার পঞ্চম জনসভা।

গত কয়েক বছর ধরেই ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে তা মেরে দেয়ার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে সারা দেশে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দুই সন্তান এবং ভাই ইস্কান্দর মির্জাও ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে তা ফেরত দেননি।এ নিয়ে মামলাও চলছে। তবে এই বিষয়টি গণমাধ্যমে সেভাবে উঠে আসেনি। প্রধানমন্ত্রী তার জনসভায় খালেদা পরিবারের ‘দুর্নীতি’, ‘লুটপাটের’ কথা তুলে ধরতে গিয়ে কথাটি জানান।১৭ বছর পর শেখ হাসিনা এলেন ঠাকুরগাঁওয়ে। উত্তরের এই জেলায় তাই গত কয়েক দিন ধরেই আওয়ামী লীগে নেতা-কর্মীরা ছিল উৎফুল্ল। নেত্রীর জনসভায় তারা দলে দলে যোগ দিয়েছে। বিরাট ময়দান লোকে লোকারণ্য হয়েছে। আর ময়দান ছাড়িয়েও মানুষের ভিড় আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়েছে।

৪০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে দেয়া এই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের আমলের উন্নয়ন, বিএনপি আমলের পরিস্থিতি, তুলে ধরেন। বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়ন করেছে, দারিদ্র্য বিমোচন করছে। আরও উন্নয়ন হবে, আরও দারিদ্র্য বিমোচন হবে।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মার্কা নৌকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নৌকা মার্কাই দেবে উন্নতি, নৌকা মার্কা দেবে আপনাদের শান্তি, নৌকা মার্কাই করবে আপনাদের জীবন মান উন্নত।’দীর্ঘ বক্তব্যে বিএনপি সরকারের আমলে নানা ব্যর্থতা ও দুর্নীতির কথাও তুলে ধরতে গিয়ে খালেদা পরিবার ও স্বজনদের ব্যাংকের টাকা ফেরত না দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।বিএনপি ‘লুটপাটেই ব্যস্ত, তারা তো দুর্নীতিতেই ব্যস্ত’ এমন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) ছেলেরা ৯৮০ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ব্যাংক থেকে লুট করে নিয়ে গেছে। একটা টাকাও এখন পর্যন্ত তারা ফেরত দেয় নাই, ফেরত দেয় না। অথচ তাদের তো সম্পদের অভাব নাই। প্রচুর সম্পদ বানিয়েছে দেশে বিদেশে।’

খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তার দুই ছেলে তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোর বিদেশে অর্থপাচারের ঘটনাটি ধরা পড়ার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়া ও তার ছেলেরা অর্থ সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। এ কথা আমি বলছি না তা, আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা তা বের করেছে।’‘আমেরিকার কোর্টের রায়ে বেরিয়েছে, সিঙ্গাপুরে ধরা পড়েছে তার ছেলেদের টাকা লুটপাট। সেখান থেকে টাকা আমরা ফেরত পর্যন্ত এনেছি। আমরা জনগণের কাজে সেই টাকা লাগাচ্ছি।’জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার সাজার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশ থেকে টাকা এসেছে এতিমখানা বানানোর জন্য। আপনারাই বিবেচনা করুন, ৯১ সালে সে টাকা এসেছে। একটা টাকাও এতিমের হাতে তুলে দেয় নাই। সব টাকা নিজের মধ্যে রেখে দিয়েছে, সব টাকা আত্মসাৎ করেছে।’

‘মামলা দিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। কোর্ট রায় দিয়েছে। এতিমের টাকা লুটেপুটে খেলে এটা তো কোরআন শরিফের কথা, এই এতিমের হক না দিলে পরে তার জন্য আল্লাহই শাস্তির বিধান করে দিয়েছে।’

‘এতিমখানার নামে টাকা এসেছে, একটা টাকাও এতিমদের দেয় নাই। কোর্ট রায় দিয়েছে, আজকে সাজাপ্রাপ্ত। তার জন্য আবার আন্দোলন করতে চায়। যে এতিমের টাকা চুরি করে, তার জন্যে আবার আন্দোলন কিসের?’বিএনপি সরকারের সারের দাবিতে আন্দোলন করা ১৭ জন কৃষককে গুলি করে হত্যার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে এই ঘটনাটি ঘটেছিল।

তবে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর সার ব্যবস্থাপনায় নতুন পদ্ধতি চালু করে। ফরে আর সংকট তৈরি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন কৃষককে সারের পেছনে ছুটতে হয় না। কৃষকের ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় সার।

বিএনপি সরকারের আমলে বিদ্যুতের জন্য হাহাকারের বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিমান প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ঠাকুরগাঁও লাগোয়া সৈয়দপুর বিমানবন্দর, রাজশাহী বিমানবন্দর, বরিশাল বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়া, বিমানের আর্থিক দুরাবস্থার কথা তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ প্রধান।শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয়, বিএনপি আসলে হয় না। এর কারণটা আর কিছুই না। যার সঙ্গে ওই যুদ্ধাপরাধী, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, যারা বাংলাদেশের উন্নতি চায় নাই, যারা বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায় নাই, যারা মানুষকে গরিব করে রাখতে চেয়েছে, তারা এ দেশের উন্নয়ন করতে পারে না।’