আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনসার নিয়োগে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

0
415

 মারুফ মোল্লা,আগৈলঝাড়া।।

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় দূর্গা পূজা মন্ডপে নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য নিয়োগে ঘুষের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা ক্ষিতিশ চন্দ্র ফলিয়ার বিরুদ্ধে। নয় শত আনসার নিয়োগে সাড়ে তিন লাখ টাকার উপরে ঘুষ নিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে দরিদ্র আনসার সদস্যেদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অফিসের ধার্যকৃত টাকা পরিশোধ না করলে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়নি।

ঘুষের টাকার ভাগ উপর মহলে দিতে হয় এমন কথা বলেন এক আনসার। আনসার সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ১৪০ টি পূজা মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এই সব পূজামন্ডপে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার লক্ষ্যে পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি শুধু পূজার ক’দিনের জন্য ৯ শত আনসার সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অধিক গুরুত্বপূর্ন স্থানে ৮ জন, গুরুত্বপূর্ন স্থানে ৬ জন ও সাধারন স্থানে ৪ জন করে আনসার সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে হতদরিদ্র ২ শত ৮০ জন মহিলা সদস্য ও ৬ শত ২০ জন পুরুষ সদস্য রয়েছে। প্রতিটি পূজামন্ডপে আনসার সদস্যের মধ্যে একজন করে পিসি রয়েছে।

উপজেলার ৯ শত আনসার সদস্যের নিয়োগ দেয়ার সময় গৈলা ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার আবু হানিফ মৃধা ও বাকাল ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার কালাচাঁদ জয়ধরের সহযোগীতায় আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা ক্ষিতিশ চন্দ্র ফলিয়া প্রতিজন আনসার সদস্যের কাছ থেকে ৪ শত টাকা ঘুষ আদায় করেছে। তাতে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতি বছরই এভাবে সদস্যের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আনসার সদস্যরা জানান। এ ব্যপারে বাকাল ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার কালাচাঁদ জয়ধর সংবাদিকদের বলেন, আপনারা যা পারেন লিখেন তাতে আমাদের কিছু হবেনা।

এরভাগ উপর মহল পর্যন্ত পায়। আনোয়ার নামে এক আনসার বলেন, আমরা যে টাকা দেই তার অর্ধেক টাকা বরিশালে দিতে হয়। গৈলা ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার আবু হানিফ মৃধা বলেন, আমার যা কিছু করি পরে আমরা সাংবাদিকদের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি মিটিয়ে নিবো। এ ব্যাপারে আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা ক্ষিতিশ চন্দ্র ফলিয়া জানায়, আনসারদের কাছ থেকে আমি সরাসরি কোন টাকা তুলি নাই, এ ব্যাপারে আবু হানিফ মৃধা জানেন। যে ভাবে ভালো হয় আবু হানিফ সাংবাদিকদের সাথে যোগাযোগ করবেন।

আনসার নিয়োগে টাকা নেওয়ার ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশ্রাফ আহমেদ রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, টাকা নেওয়ার কোন বিধান নাই। আমি এখন পর্যন্ত টাকা নেওয়ার কোন অভিযোগ পাইনি। কোন আনসার সদস্য অভিযোগ করলে প্রায়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।