একজন নতুন ওয়েব ডিজাইনারের যে বিষয়গুলো জানা দরকার

দ্রুতই সারাবিশ্বের সাথে বাংলাদেশেও ব্যপকভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট। আর যদি আপনি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এ ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে তো আপনাকে প্রথমেই শিখতে হবে ওয়েব ডিজাইন। কেননা ওয়েব ডিজাইনিং হলো ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার প্রথম ধাপ।

যারা ওয়েব ডিজাইন শিখবেন বা শিখতে চাচ্ছেন তাদের জন্য আজ থাকছে ১০ টি টিপস

১। আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পিএসডি টু এইচটিএমএল প্রাকটিস করে থাকি। তাই আপনার উচিত ভাল মানের পিএসডি নিয়ে প্রাকটিস করা।

২। পিএসডি হাতে পাওয়ার পর হেডার থেকে শুরু করে ফুটার অংশ পর্যন্ত ভালভাবে দেখে নিন। একেকটি অংশ বারবার দেখুন এবং মনের মধ্যে একটি ছক করুন। কিভাবে করবেন। Row কোডিং করবেন নাকি ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করবেন। অবশ্যই আপনি যেটা ভাল পারেন সেটা দিয়ে শুরু করবেন। সেক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখবেন, ছোট ছোট ব্যাপারগুলো সবসময় Row কোডিং করাই ভাল।

আর তুলনামূলক যেগুলো Bootstrap কলাম এ ফেলে সহজে সাজানো যায় সেগুলো Bootstrap দিয়ে করবেন। দেখা যায় অনেকেই অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাজেও Bootstrap কলাম ব্যবহার করে থাকেন। যার ফলে গুলিয়ে ফেলেন কোথায় কত কলাম ব্যবহার করবো। কোথায় অফসেট ব্যবহার করবো। কোথায় করবো না ইত্যাদি ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, Bootstrap এর Column, Row, Container, Navbar, Tab, Button, Carousel প্রভৃতি সম্পর্কে ধারণা রাখার চেষ্টা করতে হবে। মুখস্ত করা লাগবে না। অন্তত কপি-পেষ্ট করেও যেন কাষ্টমাইজ করে নিজের কাজের উপযোগী করে তুলতে পারেন এতটুকু সক্ষমতা থাকতে হবে।

৩। একটি সেকশন শুরু করলে সেটা শেষ করার পর অন্য সেকশনে যান। তাতে আপনার কাজের মধ্যে স্বচ্ছতা পরিলক্ষিত হবে। অনেকেই একটি সেকশন শেষ না হতেই আরেক সেকশনের কাজে হাত দিয়ে থাকেন। যার ফলে ঐ আগের সেকশন অসম্পূর্ণ থাকায় পরের সেকশনে তার প্রভাব পড়ে থাকে।

৪। একটি div শুরু করলে তার শেষ নিশ্চিত করবেন। শুধু div -ই না যেকোন ট্যাগ শুরু করলে তার শেষ নিশ্চিত করতে হবে।

৫। একটি সেকশন শেষ হওয়ার সাথে সাথে তার রেসপনসিভ ব্যাপারটিও সেরে ফেলতে হবে। মনে রাখবেন, কাজ শেষ করে রেসপনসিভ করতে গেলে কোন সেকশনের জন্য কোথায় স্ক্রল পাচ্ছে তা এত্তো এত্তো কোডের মধ্য থেকে খুঁজে বের করা মুশকিল হয়ে পড়ে। যার ফলে, চক্ষু লাল, মাথা গরম, মেজাজ খিটখিটে এমনকি মাথার চুলও ছিঁড়তে হয় কখনও কখনও। তাই একটি সেকশন শেষ হওয়ার সাথে সাথে রেসপনসিভ পার্টটাও সেরে ফেলুন।

৬। দীর্ঘ সময় ধরে একটানা প্রাকটিস করবেন না। মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিন। কোড যখন মিলছে না, পিসির সামনে আর বসে থাকবেন না। বাইরে একটু হাটাহাটি করুন। চোখে মুখে পানির ঝাঁপটা দিন। কারও সাথে একটু অন্য বিষয়ে গল্প করুন। অবশ্যই তা মোবাইল ফোনে করতে যাবেন না এবং গল্প যেন কোডিং সংক্রান্ত না হয়। অথবা একটু গান শুনুন। ছোটদের সাথে মজার কোন গল্প শেয়ার করুন।

ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের সামনে বসে ইউটিউব থেকে বা ফেসবুক থেকে মজা নেওয়ার চেষ্টা করবেন না এই সময়টাতে। একটু রিফ্রেশমেণ্ট নেওয়ার পর কোডটাতে চোখ বুলান দেখেন সামান্য একটি ভুল করে রেখেছেন। সমাধান হয়ে যাবে। অনেকে কোডিং এ error খুঁজতে খুঁজতে অনেক সময় পার করে ফেলেন। অথচ ফলাফল শুন্য দাঁড়িয়ে যায়। অযথা সময় পার না করে স্রেফ ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের সামনে থেকে উঠে যান রিফ্রেশমেন্টের জন্য।

৭। একজন সফল ওয়েব ডিজাইনার হতে হলে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিনঃ
ক) প্রাকটিস করুন খ) প্রাকটিস করুন গ) প্রাকটিস করুন

অবশেষে যে কথাটি না বললেই নয়, ওয়েব ডিজাইনকে যদি পেশা হিসেবে নিতে চান। তাহলে নিজের উপর বিশ্বাস স্থাপন করুন। পরিশ্রম করুন। সময়কে সময় দিন। মহান সৃষ্টিকর্তার উপর সন্তুষ্ট থাকুন।

শেখার ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত পথ পরিহার করুন। সবজান্তা ভাব পরিহার করুন। শেখার নামে আত্নপ্রবঞ্চক হবেন না। (দিনরাত ফেসবুকে সময় পার করছেন আর মা-বাবা ভাই অথবা বন্ধু বান্ধব অথবা আপনার মেণ্টরকে বুঝাচ্ছেন আপনি ওয়েব ডিজাইন শিখছেন)।

আত্মপ্রবঞ্চনা আপনাকেই ঠকিয়ে দেবে। আর সবচেয়ে যে বিষয়টি জরুরী তা হলো, শিখতে হলে প্রশ্ন করতে শিখুন। প্রশ্ন করতে পারলেই শিখতে পারবেন। মনে রাখবেন, যে প্রশ্ন করতে জানে, শেখার অধিকার তারই আছে।

সারজান ফারাবী
ওয়েব ডেভেলপার ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব