একটিমাত্র সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন বঙ্গবন্ধু

0
216

এ দেশের ভৌগলিক স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মুক্তি ও বিকাশের স্বপ্ন দেখতেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই আজীবন শিল্প ও সাহিত্যের মানুষদের তিনি ভালোবেসেছেন। বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী, অভিনয় শিল্পীদের সবসময় উৎসাহ দিতেন বঙ্গবন্ধু। পছন্দ করতেন গান-কবিতা, সেই প্রমাণ পাওয়া গেছে তাকে নিয়ে নানা গবেষণা ও লেখায়।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অনন্য এক নাম বঙ্গব্ন্ধু। এদেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়নে আমৃত্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বঙ্গবন্ধু। শুধু তাই নয়, তিনি সিনেমা দেখতেনও। তিনি রূপবান ও নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছবি দুটো দেখেছেন বলে তথ্য পাওয়া যায়।

একটি চমকপ্রদ তথ্য হলো বঙ্গবন্ধু নিজে সিনেমাতে অভিনয়ও করেছেন! ‘সংগ্রাম’ নামের সেই ছবির পরিচালক ছিলেন প্রয়াত নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ‘সংগ্রাম’ ছবিতে ছোট্ট একটি ভূমিকায় হাজির হয়েছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। সে সময়ের চিত্রনায়ক কামরুল আলম খান খসরু ও চাষী নজরুল ইসলামের অনুরোধ রক্ষা করতেই এই ছবির শেষ দৃশ্যে অভিনয় করেন বঙ্গবন্ধু।

এই ছবির চিত্রনাট্যের শেষ দিকে ছিল, মুক্তিযুদ্ধের পর সদ্য স্বাধীন দেশের সামরিক বাহিনী বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে স্যালুট করছে। এই দৃশ্য কীভাবে ধারণ করা যায় সে নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম। একপ্রকার দুঃসাহস নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন খসরু।

প্রথমে না করলেও পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মান্নানকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে অভিনয়ের জন্য বঙ্গবন্ধুকে রাজি করান খসরু। চাষী নজরুল ইসলামের পরিচালনায় সুচন্দা, খসরু ও বঙ্গবন্ধু অভিনীত মুক্তিযুদ্ধের ছবি ‘সংগ্রাম’ মুক্তি পায় ১৯৭৪ সালে।

বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই এদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চলচ্চিত্রের যাত্রা। ১৯৫৭ সালে ৩ এপ্রিল প্রাদেশিক আইন পরিষদের অধিবেশনের শেষ দিন বঙ্গবন্ধু ‘পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা’ বিল উত্থাপন করেন। বিলটি উত্থাপনের পর পরিষদের সদস্যরা কিছু সংশোধনী আনেন। পরে সংশোধিত বিলটি বিনা বাধায় আইন পরিষদে পাস হয়। যাত্রা করে পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা, যা আজকের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা বা এফডিসি নামে পরিচিত। ২০১২ সাল থেকে প্রতি বছর ৩ এপ্রিলকে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে।