এ্যাম্বুলেন্সে করে স্ট্রেচারে শোয়া কাঠগড়ার রাজনীতিবীদরা এখন মন্ত্রী-এমপি, অকৃতজ্ঞ রাজনীতিবীদ

 সময়ের বার্তা ডেস্ক।।

এ্যাম্বুলেন্সে করে স্ট্রেচারে শোয়া কাঠগড়ার রাজনীতিবীদরা এখন মন্ত্রী-এমপি, অকৃতজ্ঞ রাজনীতিবীদ
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে (২০০৭-২০০৮) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে দাঁড় করানো হয়েছিল আসামির কাঠগড়ায়।

আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেও তিনি দাঁড়িয়েছিলেন কাঠগড়ায়। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি বার বার অস্বস্থির কথাও জানিয়েছিলেন। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তার বিরুদ্ধে বার্জমাউন্টেড, নাইকো, নভোথিয়েটার, মিগ-২৯ ক্রয় দুর্নীতি মামলাসহ প্রায় ১৫টির বেশি মামলায় আসামি করে। মামলার বিচার হয় তৎকালীন সময়ে জাতীয় সংসদ ভবনে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে।
দেশে জরুরী অবস্থার অন্যতম পদক্ষেপ হিসেবে ২০০৭ সালের ৬ মে স্থাপন করা হয়েছিল বিশেষ জজ আদালত। কারাগারে বন্ধি গুরুতর অসুস্থ আসামিদের বিশেষ জজ আদালতে হাজির করা হতো অমানবিকভাবে।

এ্যাম্বুলেন্সে করে স্ট্রেচারে শোসা অবস্থায় দেশের রাজনীতিবীদদেরকে আসামির কাঠগড়ায় দাড় করানো হয়। সেনা সমর্থিত সরকারের নির্দেশে তখন রাজনীতিবীদদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে।

এই নির্যতনের চিত্র বিশেষ জজ আদালতে সাংবাদিকরা দেখে বা তাদের নির্যাতনের বর্ণনা শুনে তত্তাবধায়ক সরকারের বিশেষ সংস্থার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশ করেছে। আসামি (এখন মন্ত্রী-এমপি) গুরুতর অসুস্থ বলে সাংবাদিকরা নিউজ প্রকাশ করেছে।

পত্রিকার নিউজ বিশেষ জজ আদালতে দেখিয়ে অনেক রাজনীতিবীদরা তখন জামিন পেয়েছেন।

আসামিদের আইনজীবীরা সাংবাদিকদের এই নিউজ লেখার জন্য অনুরোধও করেছিলেন। আসামিদের আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্খীরাও ছিল একই তদবিরে।

নিউজ প্রকাশ করায় কয়েক জন সাংবাদিক হয়রানির শিকারও হয়েছেন। প্রতিদিন নানা ভাবে হয়রানি করা হয়েছে বিশেষ জজ আদালতে নিউজ সংগ্রহ করতে আসা সাংবাদিকদের।

আওয়ামী লীগ সভাত্রেী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের থেকে সব সময় সাংবাদিকদের দুরে রাখার প্রাণপন চেষ্টা করা হয়। তার পরও সাংবাদিকরা পিছপা হননি।

এছাড়া আদালতে প্রবেশ করা নিয়ে প্রায় প্রতিদিন নিরাপত্তারক্ষীদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করতে হয়েছে সাংবাদিকদের। এক সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে গেলে সাংবাদিকরা বাধ্য হয় আন্দোলনে যাওয়ার।

কাঠগড়ায় থেকে শেখ হাসিনা কাঠগড়ায় থেকে ওই আন্দোলনের সমর্থনও জানান।

সাংবাদিকদের কলম বিরতির কারণে দুদিন মামলার শুনানি বন্ধও থাকে। পরে বিচারক ও আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। এদের মধ্যে একজন সংবাদ কর্মী হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ তৎকালীন অন্যান্য আসামিদের বিচার দেখা ও তা কাভার করার সুযোগ হয়েছিল।

আমি তখন দৈনিক সংবাদে কর্মরত ছিলাম।

প্রতিদিন মামলার শুনানি শেষ হলে নিউজ সংগ্রহ করে যাওয়ার সময় আইনজীবীরা তাদের নামটি পত্রিকায় উঠানোর জন্য তদবির করতেন।

অফিসে এসে নিউজ লেখার সময়ও অনেকে ফোন দিতেন।

সম্পর্কের তাগিদে তাদের নামটিও পত্রিকায় প্রকাশ করেছি। এখন তারা সরকারের কেউ কেউ মন্ত্রী-এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয়-নগর নেতা  এবং সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারের পুরুস্কার পেয়েছেন।

তবে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিদায় নেয়ার পর তারা সেসব সাংবাদিকদের খোঁজখবরতো দুরের কথা, দেখা হলেও মূখটি অন্যদিকে ফিরিয়ে নেন।

ধন্যবাদ, এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান স্যারকে। তিনি ভুলেননি সেসব সাংবাদিকদেরকে। তিনি সাংবাদিকদের বিশেষ জজ আদালতে দেখা মাত্রই গরম সিংগারা খাওয়াতেন।

স্যারের কথা সারা জীবন স্বরণ থাকবে। আরো ধন্যবাদ, দৈনিক মানবজমিনের কাজী সোহাগকে। কাঠগড়ায় শেখ হাসিনা বইটি প্রকাশ করায়।

তবে অকৃতজ্ঞ তারা বিশেষ জজ আদালতে আসামিদের নিউজ কাভার করা সাংবাদিকদের মনে রাখেননি যেসব রাজনীতিবীদরা।

শেখ জামাল
স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক ইনকিলাব এবং সাবেক দপ্তর সম্পাদক ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি।