করোনায় ভীত নয় ইসি, স্থগিত হচ্ছে না ভোট

দেশব্যাপী করোনা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ (চসিক) বেশকিছু সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে বর্তমানে যে কোনো ধরনের জনসমাগম এড়িয়ে চলতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিলেও ভোট আয়োজন নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তেই অটল রয়েছে নির্বাচন কমিশিন। নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সোমবার আয়োজিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সময় ঘনিয়ে আসার কারণ দেখিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেন, আমরা নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবো না। আল্লাহর রহমতে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দূর হয়ে যাবে।

একদিকে করোনা, একদিকে নির্বাচন এ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কেএম নূরুল হুদা বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে আমরা অত্যন্ত শঙ্কিত আছি। আমাদের আশঙ্কা আছে, দুশ্চিন্তাগ্রস্তও আছি। যেহেতু নির্বাচনে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি আছে, সুতরাং ২১ মার্চের নির্বাচন আমরা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবো না। এর মধ্যেই আমাদের কাজ করতে হবে। যারা নির্বাচনে কাজ করবেন তাদেরকে সতর্ক অবস্থায়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা যদি মেনে চলা হয়, তা হলে নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে না।

নির্বাচন স্থগিত না করার পেছনে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা এমন একটা জাতি, যে ন্যাচারাল টলারেন্স, হাজার বছরের অভ্যাস প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকা। জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, মহামারি, কলেরা, বসন্ত, ম্যালেরিয়া, আবার মানবসৃষ্ট দুর্যোগ, যেমন- রানা প্লাজার ধসের ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, হলি আর্টিজানের ঘটনা, মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব দুর্যোগ মোকাবিলা করেছে। পৃথিবীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আমরা একটা মডেল। যে কোনো ক্রাইসিসের সময় লোকজন স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এই স্বতঃস্ফূর্ততা নেই। এই শক্তি আমাদের আছে। এই শক্তিকে সামনে রেখেই বলবো যে, দুর্যোগ যাই আসুক মোকাবিলা করা যাবে। করোনা ভাইরাসও মোকাবিলা করা যাবে। আমরা নির্বাচনটা পেছাতে চাচ্ছি না।

উল্লেখ্য, আগামী ২১ মার্চ ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩, বাগেরগাট-৪ আসনের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এছাড়া ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে চসিক নির্বাচন এবং বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপ-নির্বাচন।