করোনা: সর্বশেষ পরিস্থিতি কী

0
165

করোনাভাইরাসের বিস্তার পৃথিবীকে এক অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এরই মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৬ হাজার ৫১৬ জন। এখনও পর্যন্ত প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৫২ জন।

এমতাবস্থায় আক্রান্ত ১৫৭টি দেশসহ অন্যান্য দেশগুলোতে নানান সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও করোনা প্রতিরোধে কিছুটা কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এরই মধ্যে দেশে ৮ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে তিনজন সুস্থ্য হয়ে ঘরে ফিরেছেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে বিদেশে থেকে বাংলাদেশে যে কেউ এলে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন থাকতে হবে বলে অনুশাসন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুশাসন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বিদেশ থেকে যারা আসবে- সরকারি প্রোগ্রাম, ট্রেনিং বা সাধারণ লোকজন যেই আসুক তাকে অবশ্যই ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন থাকতে হবে, এ বিষয়ে কোনো এক্সজামশন নেই, পরিষ্কার। এটা ডিসি সিভিল সার্জন, এসপি, ইউএনও, মেয়র, চেয়ামারম্যান, মেম্বার, মসজিদের ইমামদের বলে দেওয়া হয়েছে, তারা তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে এগুলো প্রচার করবেন এবং নিশ্চিত করবেন। যদি কেউ কোথাও এর কোনো ভায়োলেশন করে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যে কোনো অফিসার বা প্রাইভেট লোক হোক, যারাই বিদেশ থেকে আসবে, যে দেশ থেকে আসবে ১৪ দিন অবশ্যই কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। যদি তার কারণে, যেই হোক সে, কোনো কিছু ঘটে তাকে আইনানুগভাবে ফেস করতে হবে।

বিদেশি বা দেশের যে নাগরিক হোক না কেন সবার জন্যই এটা প্রযোজ্য হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

অন্যদিকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে অভিভাবকেরা নিশ্চিত করবেন যে তাদের ছেলেমেয়েরা একাকী যেন বাইরে ঘুরে না বেড়ায়। তাদের ছুটি দেয়াই হচ্ছে সেফটির জন্য। বাইরে ঘোরাফেরা করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। একা একা যেন বাইরে না যায়, অভিভাবকদের সঙ্গে যেতে পারে।

তিনি বলেন, আরেকটা জিনিস অনুরোধ করি- মসজিদ, মাদরাসা ও পেপারের মাধ্যমে বলে দেবেন- যদি কারো জ্বর এবং সর্দি-কাশি হয় তিনি যেন কোনো পাবলিক প্লেসে না আসেন। মসজিদ বা অফিসেও না। আমরাও অফিসে বলে দিয়েছি জ্বর এবং সর্দি-কাশি থাকলে সে অফিসে আসবে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বলে দেয়া হয়েছে জ্বর এবং সর্দি-কাশি থাকলে সে যেন মসজিদে না আসে।

ম্যাস গ্যাদারিং, প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে সব প্রতিষ্ঠানকে বলে দেয়া হবে।

কোয়ারেন্টাইনের পরিবেশ নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা আগেই গাইডলাইন দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পুরান সাব-জেলখানা কি আক্রান্তদের রাখার সিদ্ধান্ত আছে- প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিভিল সার্জন ওনারা লোকাল বিবেচনায় যেটা কমফোর্টেবল মনে করবেন সেখানে রাখবেন।

এদিকে যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের অন্য কোনো দেশ থেকে যাত্রী আনার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু তারপরেও ইউরোপ থেকে ৩০৪ যাত্রী নিয়ে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট। ওই ফ্লাইটে ইতালির ৬৮ জনসহ ইউরোপের মোট ৯৫ জন যাত্রী ছিল।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে ফ্লাইটটি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যদিও যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের অন্য কোনও দেশ থেকে যাত্রী আনার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, মানবিকতার খাতিরে ফ্লাইটটিকে বাংলাদেশে অবতরণ করতে দেওয়া হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিতে ফ্লাইটটিকে অবতরণ করতে দেওয়া হয়েছে। এরপর ইউরোপের আর কোনো ফ্লাইটকে পূর্বের অনুমতি ছাড়া নামতে দেওয়া হবে না।

কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটটি ইতালি থেকে ছেড়ে এসেছে বলে জানান বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ। ফ্লাইটটি কাতারে ট্রানজিট নেয়।

তিনি আরো জানান, ফ্লাইটের যাত্রীদের আশকোনা হজ ক্যাম্পে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। তাদের উপসর্গ না থাকলে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।

এর আগে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে রবিবার (১৫ মার্চ) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার দুপুর ১২টা থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত লন্ডন বাদে ইউরোপ থেকে যাত্রী আনতে পারবে না কোনো এয়ারলাইনস।

প্রসঙ্গত, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৫২ জন এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। ৬ হাজার ৫১৬ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনা। এছাড়া ৭৭ হাজার ৭৫৩ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

এখন পর্যন্ত ১৫৭টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র চীনেই এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৮৬০ এবং সেখানে মারা গেছে ৩ হাজার ২১৩ জন।

চীনের পর করোনাভাইরাসে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ইতালিতে। সেখানে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ হাজার ৭৪৭ এবং মারা গেছে ১ হাজার ৮০৯ জন। দেশটিতে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৫৯০।

এরপরেই রয়েছে ইরান। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ৯৩৮ এবং মৃতের সংখ্যা ৭২৪। অপরদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ২৩৬ এবং মৃতের সংখ্যা ৭৫।

স্পেনে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ৮৪৫ এবং মৃতের সংখ্যা ২৯২। জার্মানিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৮১৩ এবং মারা গেছে ১১ জন।

ফ্রান্সে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৪২৩ এবং মারা গেছে ১২৭ জন। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৭৭৩ জন এবং মারা গেছে ৬৯ জন।

মালয়েশিয়ায় এই ভাইরাসে নতুন করে আক্রান্ত ১৯০। ফলে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪২৮ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। অপরদিকে কাতারে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০১, সৌদি আরবে ১১৮, ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ১১২ এবং মারা গেছে ২ জন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৯৮। ওমানে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২২ এবং মারা গেছে ২ জন। অপরদিকে, বাংলাদেশে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫।