কুমিল্লার পথ-প্রান্তর চেয়ে গেছে রক্তরাঙা ফুল কৃষ্ণচূড়ায়

0
335

মাসুদ আলম,কুমিল্লা॥

বাংলার ইতিহাসের ১২ মাসে ৬টি ঋতু। প্রথম ঋতু গ্রীষ্ম প্রকৃতির রূপরঙ্গের ও রসে হাড়ি প্রীস্ম। গ্রীষ্মের এই রক্তরাঙা ফুল কৃষ্ণচূড়ার নয়নাভিরাম সৌন্দর্য শহর ও গ্রামের সবুজ প্রান্তর, আঁকাবাঁকা মেঠোপথ ও বাড়ির আঙ্গিনা ছাড়িয়ে রাঙিয়ে তুলেছে সারা বাংলাদেশের মত কুমিল্লা নগরীর পথ-প্রান্তর। কুমিল্লা নগরীর রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে ও গুরুত্বপূর্ণ অফিস, বাসভবনে অসংখ্য কৃষ্ণচূড়া গাছ ডাল-পালা ছাড়িয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এসব গাছে গাছে ফুটে থাকা রক্তরাঙা ফুল পুরো নগরকে রাঙিয়ে তুলেছে।

নগরীর স্কুল-কলেজ, রাস্তার মোড়ে মোড়ে আর বিভিন্ন ভবন ও অফিস পাড়ায় গাছে গাছে কৃষ্ণচূড়ার লালআভা সৃষ্টি করেছে বৈচিত্র্যময় পরিবেশ। নগর সৌন্দর্যকে রমণীয় ও মোহনীয় করে তুলেছে মগডালে ফুটে থাকা রক্তরাঙা কৃষ্ণচূড়া ফুল। কৃষ্ণচূড়া। এ ফুল গাছের আদিনিবাস পূর্ব আফ্রিকার মাদাগাস্কারে হলেও সমগ্র এশিয়া জুড়ে কৃষ্ণচূড়ার জুড়ি নেই।

ভারত ও পাকিস্তানে কৃষ্ণচূড়া গুলমোহর নামেই পরিচিত। বাংলাদেশে কৃষ্ণচূড়ার ডালে এ ফুলের আর্বিভাব ঘটে চৈত্রের শেষের দিকে। আর বৈশাখের শুরুতে চারিদিকে ছড়িয়ে দেয় তার রক্তরাঙা রূপ। বাংলাদেশের সব জেলাতেই কৃষ্ণচূড়ার অস্তিত্ব রয়েছে। গ্রামের সবুজ প্রান্তর ঘিরে নানা গাছগাছালির ভিড়েও দেখা মেলে কৃষ্ণচূড়ার।

এখনতো কেবল গ্রামেই নয়, নগর জীবনেও মানুষের পরম দৃষ্টির সীমানায় স্থান করে নিয়েছে পূর্ব আফ্রিকায় জন্ম নেয়া রক্তরাঙা কৃষ্ণচূড়া। কুমিল্লা নগরীর পথে-প্রান্তরে, ইট-পাথরের বাড়ির আঙ্গিনা, ভবন, অফিসপাড়ায় অহরহ দেখা মিলবে কৃষ্ণচূড়া গাছের। প্রকৃতির রুক্ষভাব নিয়ে যে ঋতু গ্রীষ্মের আগমন ঘটে। সেই ঋতুই কৃষ্ণচূড়ার মোহনীয় রূপ তুলে ধরে নগর সৌন্দর্যকে যেনো আরেক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
কৃষ্ণচূড়ায়
নগরীতে ঘুরলে দেখা যাবে, ছোটরার চিড়িয়াখানার পেছনে জেলা প্রশাসকের বাসভবন ও কার্যালয়ে, পুলিশ সুপারের বাসভবন ও কার্যালয়ে, কুমিল্লা সার্ভ ইনিস্টিটিউট, শিল্পকলা একাডেমি কুমিল্লা প্রেসক্লাব ও গণপূর্ত ভবন চত্বরে, মোগলটুলি টেলিগ্রাফ অফিসের সামনে, ফোজদারী মোড়ের রাস্তার পার্শ্বে, জেলা পরিষদ ও নগর ভবনের রাস্তার পার্শ্বে, রেইসকোর্স সড়কের কৃষি ব্যাংকের সামনে, বাদুরতলা চার্চের সামনে, ধর্মসাগরের দক্ষিণ পাড়ে মহিলা মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে, পার্ক চত্বরে, এতিহাসিক রাণীর কুটিরের ভেতরে ধর্মসাগরের পাড়ে, স্টেশন ক্লাবের গেইটে, ঈদগাহের পেছনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিস আঙ্গিনায় ও ধর্মসাগরের পূর্বপাড়ে, জিমনেসিয়ামের সামনে, কুমিল্লা জিলাস্কুল চত্বরে, বাঙলা রেস্তোরাঁর সামনে, চকবাজার রোডের ঐতিহ্যবাহী আমীরদীঘির উত্তর পাড়ের সড়কের পার্শ্বে এবং হাউজিং এস্ট্রেটের অধিকাংশ বাড়ির সামনেসহ নগরীর অন্যান্য স্থানেও দেখা মিলবে কৃষ্ণচূড়া গাছের।

পুরো গাছের ডাল-পালা জুড়ে কৃষ্ণচূড়া ফুলের রক্তিম জাগরণ পথচারিদের মুহূর্তের জন্য হলেও শিহরণ জাগায়। আবার গ্রীষ্মের ঘামঝরা দুপুরে কৃষ্ণচূড়ার ছায়া ক্লান্তি আর অবসন্নতায় নুয়ে পড়া পথচারি ও বিভিন্ন বাহনের চালকদের এনে দেয় দু’দ- শান্তি। কুমিল্লার বিভিন্ন গ্রাম ও নগরীর কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো যেন পরিপূর্ণ পরিচর্যা নিয়ে টিকে থাকতে পারে এবং নগরীর রাস্তার পার্শ্বে আরো কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করে নগর সৌন্দর্য বৃদ্ধির ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসবেন এমন প্রত্যাশা নগরবাসীর।

কৃষ্ণচূড়ার রক্তরাঙা ফুলের সমাহার অপুলকভাবে দেখেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কর্মব্যস্ত নগরীর মানুষ ছুটাছুটি করতে গিয়েও যেখানে কৃষ্ণচূড়া দেখেছেন সেখানেই থমকে দাঁড়িয়েছেন। আবার হয়তো কেউ কেউ পরনো স্মৃতিতে ফিরে গিয়ে কৃষ্ণচূড়া গাছে হেলান দিয়ে গুনগুন সুর তুলেন‘এই সেই কৃষ্ণচূড়া-যার তলে দাঁড়িয়ে হাতে হাত, চোখে চোখ রেখে কথা যেতো হারিয়ে’…।