ঝিনাইদহে গমের ব্যাপক ফলন

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ অফিস :

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার তিনশ’ কৃষক উচ্চ ফলনশীল প্রদীপ জাতের গম চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন । এখন শুধু গম ঘরে তোলার অপেক্ষায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, সময়মত ন্যায্যমূল্যে সার ও বীজ পাওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে, আর এতে কৃষকও খুশি।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলায় এই বছর দেড়শ’ হেক্টর জমিতে গম আবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০ হেক্টর বেশি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছয়শ’ মেট্রিক টন থাকলেও ফলন ৯শ’ মেট্রিক টন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুজিবনগর সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলতি বছর তিনশ’ কৃষক প্রদীপ জাতের গমের আবাদ করেন। একই জমিতে একই খরচে সাধারণ জাতের চেয়ে প্রদীপ জাতের গম আবাদ করে ফলন বেশি পাচ্ছেন এই এলাকার কৃষক।

 

রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক রাশেদ আলী জানান, এ বছর তার তিন বিঘা জমিতে প্রদীপ জাতের গমের আবাদ করেছেন। আশা করছেন বিঘা প্রতি ১৬ মণ গম ঘরে তুলতে পারবেন। উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় তিনি এ জাতের গমের আবাদ করেছেন। একই এলাকার কৃষক নিয়ামুল ইসলাম জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর তিনি দুই বিঘা বেশি জমিতে গমের আবাদ করেছেন। উচ্চ ফলনশীল জাতের গম হওয়ায় ফলও ভালো হবে বলে আশা তার। তিনি জানালেন, অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই সেই গম ঘরে তুলবেন।

 

কৃষক টিটন কুমার জানান, প্রদীপ জাতের গম আবাদ করে ফলন বেশি হয়েছে। তাই আগামী বছর আবারো এই গমের আবাদ করবেন তিনি।

নজরুল নামের এক কৃষক জানান, তিনি এ বছর চার বিঘা জমিতে প্রদীপ জাতের গম আবাদ করেছেন। এবার গমের দানা পুষ্ট হওযায় ফলনও বেশি হবে।

কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, মুজিবনগর সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়ায় গমের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী বছর আরো অধিক জমিতে গমের আবাদ হবে বলে তিনি জানান।

 

এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সাজ্জাদ হোসেন জানান, সরকারের দেওয়া যুগোপযোগী ব্যবস্থার কারণে এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। তিনশ’ কৃষক এ জাতের গম আবাদ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তাই আগামী বছরও এই গম আবাদ করবে কৃষক।