ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিথি কমছে যে কারনে

আব্দুল আওয়াল,ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রতিনিধি ।। 

স্কুলের মাঠ পরিস্কারে ঘাম ঝড়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১৪৪নং নারগুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।  ফলে অসুস্থ্যতার পাশাপাশি স্কুলে উপস্থিথি কমছে।

স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, সপ্তাহের চারদিন স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে স্কুলের মাঠ থেকে শুরু করে টয়লেট পর্যন্ত পরিস্কার পরিছিন্নতার কাজে তাদের ব্যবহার করছেন।  এতে কোমলমতি শিশুরা ধুলোবালি কারনে মাঝে মাঝে অসুস্থ্য হয়ে পরছে।

ফলে অনেক সময় স্কুলে পাঠানো সম্ভব হয় না। আবার অনেক শিক্ষার্থী কাজের ফয়ে স্কুল ফাঁকি দিচ্ছে। ওই স্কুলের শিক্ষার্থীর রয়েছে ১৬৫জন।  গত মঙ্গলবার ওই স্কুলে গিয়ে দেখা গেছে ১৬৫জনের মধ্যে অর্ধেকেও উপস্থিত হয়নি বিদ্যালয়ে।

আর স্কুলের প্রধাণ শিক্ষক দাঁড়িয়ে থেকে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের ড্রেস পরা অবস্থায় স্কুল মাঠ পরিস্কার করার কাজে লাগিয়েছেন।  শিক্ষার্থীরা গরমে ঘেমেও পাতা পরিস্কারের কাজ করছে।

এসময় স্কুল পড়ুয়া প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী লুফা রহমান,মায়সা, সাজিদ জানায়, স্যার আমাদের দিয়ে প্রতিদিন মাঠ পরিস্কার করে নেন।  তাই পাতা কুড়াই।

এ কাজ আমাদের ভালো লাগে না। দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র আলিফ রেজা জানায়, আমি স্কুলের টয়লেটও পরিস্কার করি না করলে স্যার রাগ করেন।  আর পঞ্চম শ্রেণীর রাকিব জানায়, আমরা সবাই এসব কাজ করি।

সপ্তাহে চার দিন আমরা স্কুলের মাঠসহ অন্যান্য অনেক কাজ করি।  এসব কাজ করে নাকে ধুলোবালি ঢুকে অসুখে পরতে হয় অনেককে। বিদ্যালয়ের প্রধাণ শিক্ষক মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, স্কুল পরিদর্শনে উপজেলা থেকে উর্ধতন কর্মকর্তগন আসবে বলে স্কুল পরিস্কারে শিক্ষার্থীদের কাজে লাগানো হয়েছে।

স্কুলটি পরিস্কার দেখলে উনারাও খুশি হবেন।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার লিয়াকত আলী খাঁন জানান, স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের কাজ করেছে এতে কোন সমস্যা নেই।  এ বিষয়ে ট্রেনিংও দেয়া হয়। বিদ্যালয়ের কাজ শিক্ষার্থীদের দিয়ে করানো যাবে না এমন কোন নিয়ম নেই।

আমি মনে করি শিক্ষার্থীদের দিয়ে পরিস্কার পরিছিন্নতার কাজ করানো হলে বিদ্যালয়টি দেখতেও ভালো লাগবে।