দুদকের নাম ভাঙিয়ে ফোনে চাঁদাবাজি

দুর্নীতি দমন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে একাধিক প্রতারকচক্র টেলিফোনের মাধ্যমে টাকা দাবি করছে। তারা কাল্পনিক মামলা ও অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে পরবে বলে প্রতারণা করছে। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তর বা সংস্থায় অনৈতিক তদবিরের মাধ্যমেও অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে চক্রটি।

বুধবার দুদকের পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পুলিশ-র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় এসব প্রতারকদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে আদালতে মামালা চলছে। নাগরিকদের সচেতন করার লক্ষ্যে গণমাধ্যমসহ কমিশনের নিজস্ব আউটরিচ প্রোগ্রামের মাধ্যমেও প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তারপরও এসব প্রতারকদের সম্পূর্ণভাবে নিবৃত করা যাচ্ছে না। প্রতিনিয়তই এ জাতীয় প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এসব প্রতারকদের আইন-আমলে আনা একটি জটিল প্রক্রিয়া। যা কমিশন নিরলসভাবে পরিচালনা করছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। কারণ দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন অনুসারে কোনো একক ব্যক্তির অভিপ্রায় অনুসারে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার যেমন কোনো সুযোগ নেই, তেমনি অভিযুক্ত হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া কমিশনের কর্মকর্তাদের অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত বিষয়ে শুধু পত্রের মাধ্যমেই যোগাযোগের নির্দেশনা রয়েছে, টেলিফোন বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নয়।

এ প্রেক্ষাপটে যদি কোনো ব্যক্তি কমিশনের কর্মকর্তা কিংবা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে টেলিফোন করে বা ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে কমিশনের কর্মকর্তা বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বজন পরিচয় দিয়ে অনৈতিক কোনো বিষয়ে তদবির করে বা অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে তাহলে এই টেলিফোনের সত্যতা অথবা ওই ব্যক্তির পরিচয়ের নিশ্চয়তা এবং প্রতিকার পাওয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে দুদকের পরিচালক (গোয়েন্দা) মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী ( মোবাইল নং- ০১৭১১-৬৪৪৬৭৫) অথবা পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য (মোবাইল নং-০১৭১৬-৪৬৩২৭৬) এর সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ জাতীয় প্রতারকদের সঙ্গে আর্থিক বা অন্য কোনো লেনদেনের দায়-দায়িত্ব দুদক বহন করবে না। দুদক প্রতারকদের প্রতিরোধ করার জন্য সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বলে জানান তিনি।