ধর্ষণ মামলার আসামীদের ছেড়ে দিয়ে স্বাক্ষীকে আটক: পর্ব – ১

0
155

এম. লোকমান হোসাঈন ও মো:ফরহাদ হোসেন ফুয়াদ : ধর্ষণ মামলার আসামীদের ছেড়ে দিয়ে মামলার স্বাক্ষীকে থানায় ঢেকে রাতভর নির্যাতন: অত:পর পুলিশের নানান নাটকীয়তার পর মামলার স্বাক্ষীকে যৌন হয়রানির মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। বরিশাল সদর উপজেলার ২ নং কাশিপুর ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ড পূর্ব বিল্ববাড়ীর মো: কবির হোসেনের ছোট মেয়ে গত মাসের ২৪ তারিখ বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. রায়হানুর রহমান বিপি-৯৪১৯২২৪৩৬৩, তিনি ধর্ষণ মামলার ২ নং সাক্ষী পলাশ প্যাদাকে থানায় ডেকে নিয়ে রাতভর নির্যাতন চালায়। পরের দিন ওই মামলার বাদীর বড় বোনকে দিয়ে একটি রম্য রচনা লিখে সাক্ষী পলাশসহ ধর্ষণ মামলার ৪ জন সাক্ষীকে বিবাদী করে একই থানায় ১০, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩ তৎসহ ১৯৪/ ৩৪১/৩২৩ ও ৫০৬ পেনাল কোড-১৮৬০ ধারায় মামলা দায়ের করে পলাশ প্যাদাকে জেল হাজতে প্রেরণ এসআই রাহয়ানুর রহমান।

তদান্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাহয়ানুর রহমান, বরিশাল বিজ্ঞ মেট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আমলী আদালতে পলাশ প্যাদাকে কোর্টে সোপর্দ করণ প্রসঙ্গে লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেন, ১/২৬৪ মামলার এজহার নামীয় ধৃত ১ নং আসামী পলাশ প্যাদাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হলো। সেখানে উল্লেখ করেন, গত ৪ নভেম্বর তারিখ রাত সাড়ে ৯ টার দিকে মোবাইল নাইট-ডিউটি কালীন সময়ে অত্র মামলার সাক্ষীগণের সাথে আসামী পলাশ এয়ারপোর্ট থানাধীন গণপাড়া পাকার রাস্তার উপর অত্র মামলার ঘটনার বিষয় চিল্লাপাল্লা শুনিয়া তিনি ঘটনা স্থালে যান। উক্ত ঘটনার সন্দেহে ফৌজ:কা:বি: ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যান।

পরে রাত ১০টা ১০ মিনিটের সময় বাদী একটি জিডির করেন। যাহার জিডি নং-১৪৩। পরের দিন সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে মামলার বাদী এজহার দিলে অফির্সাস ইনচার্জ অত্র মামলা রুজু করিয়া এসআই রায়হানুরের কাছে তদন্তভার দেন।

পরবর্তীতে গত ৫ তারিখ ওই মামলায় পলাশকে গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। সময়ের বার্তার অনুসন্ধানে দেখা যায়, পলাশ প্যাদাকে যে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, উক্ত মামলার সাক্ষী যথাক্রমে, ঢাকার নারায়ঞ্জের ফতুল্লার বাসীন্দা মো.আলী চাঁনের ছেলে মো. ইমন (৩০), বরিশাল ২নং কাশিপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড বিল্ববাড়ীর বাসীন্দা মো. আলীর ছেলে মো. হাসান (২৪) ও রমজান (২৩) ও একই এলাকার বাসীন্দা মো. কালুর ছেলে মো. মিজান (২৩)। এই ৪ জন সাক্ষীরা হচ্ছে গত মাসের ২৪ তারিখ কবির হোসেনের ছোট মেয়ে কর্তৃক দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলার আসামী। যাহার মামলা নং-২৭/২৫৬।

ধর্ষণ মামলার তদান্তকারী কর্মকর্তা এসআই রায়হানুর রহমান কর্তৃক পলাশ প্যাদাকে আদালতে সোপর্দ করার সময়ে লিখিত আবেদনে উল্লেখিত সাক্ষীরা যথা: ঢাকার নারায়ঞ্জের ফতুল্লার বাসীন্দা মো.আলী চাঁনের ছেলে মো. ইমন (৩০), বরিশাল ২নং কাশিপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড বিল্বাবাড়ীর বাসীন্দা মো.আলীর ছেলে মো.হাসান (২৪) ও রমজান (২৩) ও একই এলাকার বাসীন্দা মো. কালুর ছেলে মো. মিজান (২৩) এদের সাথে পলাশের চিল্লাপাল্লা করার সময়ে পলাশকে সন্দেহ করে গ্রেফতার করেন। অভিযোগ উঠে পলাশ যাদের সাথে চিল্লাপাল্লা করেছেন তারা সবাই ধর্ষণ মামলার আসামী।

রহস্যজনক ভাবে ধর্ষণ মামলার আসামীদের ছেড়ে দিয়ে মামলার সাক্ষীকে গ্রেফতার দেখায়। পরের দিন ধর্ষণ মামলার বাদীর বড় বোনকে দিয়ে একটি রম্য রচনা তৈরী করে একটি মামলা সাজিয়ে জেল হাজতে প্রেরন করেন। ধর্ষণ মামলার আসামীদের ছেড়ে দেয়ার বিষয় জানতে চাইলে তদান্তকারী কর্মকর্তা এসআই রায়হানুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার মো.ফজুল করিমের সাথে কথা বলার পরার্মশ দেন। পরবর্তিতে এই কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে এবিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন মামলার নথি না দেখে কোন মন্তব্য করতে পারবেন না।

পলাশ প্যাদার পরিবারের দাবী একই এলাকার বাসীন্দা কবির হোসেনের ছোট মেয়ে কর্তৃক থানায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলার সাক্ষী দিতে সেচ্ছায় থানায় গেলে পুলিশ সাক্ষীর বক্তব্য না নিয়ে আসামীদের বাচাতে উল্টো পলাশকে মারধর করে একটি মিথ্যা মামলায় জেল হাজতে প্রেরণ করেন। উল্লেখ্য, এয়ারপোর্ট থানায় ধর্ষণ মামলার সাক্ষী পলাশকে আটক করে মারধর করা হচ্ছে এমন অভিযোগ পেয়ে সময়ের বার্তার অনুসন্ধানী টিম রাত ১০ টার দিকে থানায় উপস্থিত মারধরের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে থানা অফিসার্স ইনচার্জ এস এম জাহিদ বিন আলমের কাছে মারধরের বিষয় জানতে চাইলে মারধরের কথা অস্বিকার করেন।

সাক্ষী পলাশকে কেন আটক রাখা হয়েছে জানতে চাইলে ধর্ষণ মামলার তদান্তর সার্থে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, সময়মত ছেড়ে দেয়া হবে। ঘটনার দিন রাত ১১টা ৪৮ মিনিটে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো: শাহাবুদ্দিন খানকে (বিপিএম-বার) মুঠোফোনে সাক্ষীকে আটক রাখা ও নির্যাতনের বিষয় অবগতি করলে তিনি বলেন, মারধর করার কোন নিয়ম নেই। বিষয়টি তদান্ত করে দেখবো।