নলছিটিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বিদেশফেরত ব্যক্তিরা

0
101

নলছিটি প্রতিনিধি
নলছিটির পৌর এলাকার সূর্যপাশা গ্রামে কয়েকদনি আগে সৌদি আরব থেকে এসেছেন এক ব্যক্তি। আসার পরপরই তাকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরার্মশ দেয়া হলেও তিনি ভ্রুক্ষেপ করেনি। এক পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা তাকে কোয়ারেন্টিনে নেয়ার জন্য খোঁজা শুরু করলে তিনি পালিয়ে বেড়ান।

সোমবার সকালে তার জেষ্ঠ্য পুত্র জ্বর,গলা ব্যাথা ও কাশি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে স্বজনরা তার বাবার বিদেশ থেকে ফেরার তথ্য গোপন করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের তৎপরতায় বেড়িয়ে আসে ওই ব্যক্তির কোয়ারেন্টিনে না থেকে পালিয়ে বেড়ানো খবর। এ চিত্র ঘোটা উপজেলা জুরে। বিদেশ ফেরতরা কোয়ারেন্টিনে না থেকে প্রকাশ্য ঘুরে বেড়ায়। কেউ কেউ প্রভাবশালী হওয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাদের কোয়ারেন্টিনে থাকতে বাধ্য করতে পারছেন নাা। আর এতে স্থানীয়দের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে করোনা সংক্রমন ভাইরাস।

ঝালকাঠির নলছিটিতে বিদেশফেরত সবাইকেই হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করলেও সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খুঁজে বেড়াচ্ছে অনেকেই। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদেশফেরত ব্যক্তিরা বাইরে অবাধে ঘোরাফেরা করছেন। এঁদের মধ্য অনেকে প্রভাবশালী হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা তাদের হোম কেয়ারাইন্টানে পাঠাতে ব্যর্থ হচ্ছে। তবে তালিকা অনুযায়ী অন্যদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা। এদিকে বিদেশ ফেরতদের খুঁজে বের করতে তৃণমূল পর্যায়ে চেয়ারম্যানদের নেতৃত্বে প্রতিটি ইউনিয়নে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ও স্বাস্থ্য কর্মীরা যৌথভাবে বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের তালিকা তৈরি করে হোম কোয়ারাইন্টানে থাকার জন্য উদ্ধুধ করে যাচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শিউলী আক্তার বলেন, নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি আইসোলেশন কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। কক্ষে চারটি করে বিছানা রাখা আছে। তবে এখনো কেউ ভর্তি হয়নি। স্বাভাবিক জ্বর ও সর্দি-কাশি নিয়ে প্রতিদিন অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে। তবে এদের মধ্যে কারোরই করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা যায়নি। আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত ৪৩ জনের তালিকা রয়েছে। তাঁরা সবাই হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৭জন বিদেশ ফেরত বাকিরা তাদের পরিবার পরিজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিনিধি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকার সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের তালিকার কোনো মিল নেই। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা কোথাও বিদেশফেরত ব্যক্তিরা ঘুরে বেড়ানোর খবর দিলে স্বাস্থ্য বিভাগ হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠায়। জেলা প্রশাসনকে জানালে তারা জরিমানা করে। কিন্তু এখনো যাঁরা আত্মগোপনে রয়েছেন বা গ্রামাঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাঁদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন থেকে ঝালকাঠি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে বিদেশফেরত ৯৬০ জনের তালিকা পাঠানো হয়। এঁদের মধ্যে অনেককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে সম্প্রতি যাঁদের খুঁজে পাওয়া গেছে, তাঁদের মধ্যে ১৬১ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছিল। এদের মধ্যে ২৮জন হোম কোয়ারাইন্টাই থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।

বর্তমানে ১২৯জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তবে এঁদের মধ্যে কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে। এর পরও কোথাও বিদেশফেরত ব্যক্তিদের সন্ধান পাওয়া গেলে তাঁদের তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন সিভিল সার্জন। যাঁরা আইন লঙ্ঘন করে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি জানান তিনি।
নলছিটির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদার বলেন, বিদেশ থেকে আসা কেউই আপাতত ঘর থেকে বের হতে পারবেন না। তাঁদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। কেউ আইন অমান্য করলে জেল-জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।