নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন আরিফুল

অনলাইন ডেস্ক :: জেলে পাঠানোর দুদিন কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগান। পরে আটক ও নির্যাতনের বর্ণনা দেন তিনি।

জামিনের পর সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম বলেন, জামিনের আবেদন তিনি করেননি। চোখ বেঁধে তার কাছ থেকে জোর করে চারবার স্বাক্ষর নেয়া হয়। পরে তাড়াহুড়ো করে কারাগারে পাঠানো হয়। হাসপাতালে আসার আগ পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে তা জোর করে করানো হয়েছে।

তিনি জানান, শুক্রবার মধ্যরাতে তাকে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে নেয়া হয়। বিবস্ত্র করে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। এ নির্যাতন চালায় জেলা প্রশাসনের একটি দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দীন। তার নিজ হাতে বেধড়ক মারধর আর এনকাউন্টারে দেয়ার হুমকির অভিযোগও এনেছেন তিনি।

এসময়, রাষ্ট্রের কাছে নিজের নিরাপত্তার দাবি করেন এই সাংবাদিক।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় জামিন শুনানির শেষে বেলা ১২টায় কারাগার থেকে মুক্তি পান বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল। পরে তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে আরিফুলের পরিবারের কেউ জামিন আবেদন করেননি জানিয়ে তার মামা নবিদুল বলেন, তারা ডিসি অফিসে নথিপত্র তোলার জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তারা জানতে পাররেন আরিফুলের জামিন হয়ে গেছে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন শহরের একটি সরকারি পুকুর সংস্কারের পর নিজের নামানুসারে ওই পুকুরের নাম সুলতানা সরোবর রাখতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে বাংলা ট্রিবিউনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় দশ মাস আগে। এরপর বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক আরিফুলকে শুক্রবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মাদক রাখার অভিযোগে এক বছরের সাজা ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সে রাতেই তাকে পাঠানো হয়েছিল কারাগারে।