পিআইও কামরুজ্জামান’র নামের আগে ‘ডাকাত’ উপাধি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পিআইও কামরুজ্জামান একটা ডাকাত! তিনি এমপির লিস্ট পরিবর্তন করে নিজের মনগড়া তালিকা বানিয়ে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। এমনটাই জানালেন বরিশাল সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শাহীন। ইতিপূর্বে চেয়ারম্যান শাহীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন। এমন ভুড়ি ভুড়ি অভিযোগ বরিশাল সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান এর বিরুদ্ধে। গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষন (টি.আর) প্রকল্পের অনুসন্ধানী সংবাদের ৩ পর্ব সংবাদ প্রকাশ পর পিআইও কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বেড়িয়ে আসে আরো চঞ্চল্যকর তথ্য।

যদিও কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও কোন লাভ হয়নি। তিনি অদৃশ্য ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে একের পর এক দুর্নীতি করে পাড় পেয়ে যাচ্ছেন এই অসাধু কর্মকর্তা। সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ জানান, পিআইও কামরুজ্জামান অর্থের বিনিময়, ২য় কিস্তি কাবির্টা ও টি আর প্রকল্পের সোলার প্যানেল স্থাপন এর জন্য বরিশাল সদর উপজেলার খয়ের দিয়া জসিম উদ্দিন তালুকদার বাড়ী হইতে শেরে বাংলা বাজার পর্যন্ত রাস্তায় ৪ টি রোড় লাইট স্থাপন, চন্ডিপুর মহাম্মদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১টি রোড় লাইট ও খয়ের দিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ টি সর্ব মোট ৬টি রোড় লাইট স্থাপনার জন্য ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮শত টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়।

অপরদিকে টি আর প্রকল্প থেকে ৯নং টুঙ্গিবাড়ীয়া ইউনিয়ন এর ৬নং ওয়ার্ড বিষারদ নামক গ্রামের গাজী বাড়ী হইতে মেয়া বাড়ী হয়ে খালপাড় পর্যন্ত (হেরিংবন রাস্তা) রাস্তা মাটি ধারা মেরামত বাবদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা মোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৮শত টাকার প্রকল্প নিয়ম বর্হিভুত পরিবর্তন করে অন্যতয় কাজ দেয়া হয়েছে। যা সরকারী নির্দেশ অমান্য করা। অবৈধ ক্ষমতার প্রভাব বিস্তারের বিষয় গত বছরের জুন মাসের ২১ তারিখ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন তৎকালীন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শহিদ মোঃ শাহনেওয়াজ।

সময়ের বার্তার অনুসন্ধানে দেখা যায়, টুঙ্গিবাড়ীয়া ইউনিয়নে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ২য় পর্যায় গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষেন টি আর প্রকল্পের কর্মসূচির আওতায় নন-সোলার খাতে নরকাঠী মহসিন হাওলাদার বাড়ী পূর্ব পাশে বিশ^রোড় হইতে সোমরাজী বাজার হাট পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মান ও পুনঃনির্মান বাবদ ২ লাখ ও দক্ষিন বিশারদ মন্নান হাওলাদার বাড়ী হইতে শহীদ মুন্সি বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মান ও পুনঃনির্মান বাবদ আরো ২ লাখ মোট ৪ লাখ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

ওই অর্থ বছর সাধারণ খাতে ১ম (উন্নয়ন) পর্যায় গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষেন টি আর প্রকল্পের কর্মসূচির আওতায় টুঙ্গিবাড়িয়া মিয়ার হাট মসজিদ হতে খেয়াঘাট পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ বাবদ ৫০ হাজার, দক্ষিণ বিশারদ থেকে মজিদ সিকদার বাড়ির মসজিদ পর্যন্ত ৪০ হাজার ও পতাং রশিদ খানের বাড়ীর উত্তর পাশ থেকে শাহাজাহান মাস্টার বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ বাবদ ১লাখ ৫৭ হাজার ৬শত টাকা। একই অর্থ বছরে সাধারণ খাতে ২য় (উন্নয়ন) পর্যায় গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষেন টি আর প্রকল্পের কর্মসূচির আওতায় পুর্ব পতাং চৌধুরী বাড়ী থেকে নেমানিয়া খালের পুল পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার বাবদ ১লাখ ৫০ হাজার ও সামরাজী বিশ^রোড থেকে দক্ষিণ সামরাজী মন্দির পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার বাবদ ৯৭ হাজার টাকা।

এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের টি আর আরেকটি প্রকল্প থেকে একই অর্থ বছরে টুঙ্গিবাড়ীয়া ইউনিয়নে ধোপাকাঠী গ্রামে আব্দুল গনি মিয়া সাহেবের জামে মসজিদ উন্নয়ন ও টুঙ্গিবাড়ীয়া চাষী পতাং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে গাজী বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার বাবদ ৮৭ হাজার ৫শত ২০ টাকা বরাদ্দর অধিকাংশ স্থানে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় পুকুর চোরির দৃশ্য। কোন কোন যায়গায় কাজ না করেই অর্থ আত্মসাত করেছেন আবার কোথায়ও নামেমাত্র কাজকরে সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাত করেছেন। স্থানীয় একাদিক ব্যক্তিরা জানান, কত টাকার বরাদ্দ এসেছে আর কত টাকার কাজ সে বিষয় স্থানীয়রা কিছুই জানেন না।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, এমপির বরাদ্দকৃত অর্থ স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দেয়ার জন্য প্রতিবছর বরাদ্ধ দেয়া হয়ে থাকে। সরকারী টাকা উত্তোলন করতে হলে যেকোন একটি খাদ দেখিয়ে উত্তোলন করতে হয়। টি আর,কাবির্টা ও কাবিখা এর একটি অংশ। কাজ না করে সরকারী অর্থ উত্তোলনের কোন আইনে আছে জানতে চাইলে কোন জবাব দিতে পারেন নাই এই কর্মকর্তা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন, সরকারের বরাদ্ধকৃত অর্থ আত্মসাত করার কোন সুযোগ নাই। সে যেই হুক না কেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা কামরুজ্জামান এর বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শহিদ মোঃ শাহনেওয়াজ কর্তৃক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগের বিষয় স্বীকার করে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, গত বছর অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তধীন আছেন। রিন্টু আরো বলেন,পিআইওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার একতিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের। পাশাপাশী তিনি আরো বলেন, টি আর-কাবিখা-কাবির্টা মূলত এমপির কোটায় বরাদ্ধ দেয়া হয়ে থাকে। তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে কাজ সকলের মাঝে বন্টন করে থাকেন, তবে কাজ না করে কেউ বিল উত্তোলন করলে সে ধায়বার প্রকল্প কর্মকর্তার।