পুলিশি দাপটে অসহায় আদালতের আদেশ,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কর্নকাঠিতে জমি দখল

0
710

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আদালতের নির্দেশ থমকে গেছে পুলিশি ক্ষমতায়। জমির প্রকৃত মালিককে চাঁদাবাজী মামলা ফাসিয়ে হাজতে রেখে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কর্নকাঠির বাসিন্দা মৃত আঃ বাকের হাওলাদারের ছেলে দিনমজুর ওসমান গনি হাওলাদরের স্ত্রী রাজিয়া ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টম্বর একই এলাকার বাসিন্দা ও ওসমান গনির নিকটতম আত্মীয় মৃত জবেদ আলী হাওলাদারের ছেলে মোঃ আক্কেল আলী হাওলাদারদের কাছ থেকে কর্নকাঠী মৌজার ৬১১ নং খতিয়ানের প্রায় ৮ শতাংশ জমির মালিকানা পান। জমি ক্রয় করার পর থেকে দখল বুঝে র্দীঘদিন ভোগদখল করে আসছিলেন রাজিয়া।

জমির সাব রেজিস্ট্র দলিল নম্বর ৯৬৭৩। অপরদিকে নগরীর ২৮ নং ওয়ার্ড কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা শাহ আলাম হাওলাদারের ছেলে মাহবুবুল হাসান ২০০৮ সনের নভেম্বর মাসের ২০ তারিখ ৬১০ নং কর্ণকাঠী মৌজার ৫৭ নং জে.এল থেকে ওই এলাকার বাসিন্দা মৃত আছমত আলী হাওলাদারের ছেলে মোঃ শাহাজাহান হাওলাদার গং ও আয়শা বেগমদের অর্থাৎ ১নং দাতাদের কাছ থেকে ২.৫২ শতাংশ, ২নং দাতার কাছ থেকে ৩.০২ শতাংশ, ৩ থেকে ৬নং দাতাদের কাছ থেকে ৩.৩৬ শতাংশ, ৭নং

দাতার কাছ থেকে ০.৫০ শতাংশ, ৮ ও ৯নং দাতার ১.৪০ শতাংশ এবং ১০ থেকে ১৭ নং দাতাদের কাছ থেকে ২.৮০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। হাসানের ক্রয়কৃত সম্পত্তির রেজিস্ট্রিকৃত হাত নকশা ও পরিমাপ অনুযায়ী দেখা যায়, কুয়াকাটা-বরিশাল মহাসড়কের পূর্ব পাশে অর্থাৎ বর্তমান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সরকারের অধিগ্রহণকৃত জমির মধ্যে হাসানের সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি সরকার অধিগ্রহণ করে নিয়ে যায়।

কিন্তু বর্তমানে হাসান তার শশুর (সাবেক পুলিশ অফিসার কোর্ট ইন্সপেক্টর) সুলতান মাহামুদের প্রভাব খাটিয়ে রাস্তার অপর পাশে রাজিয়ার ক্রয়কৃত সম্পত্তি জোড়পূর্বক দখল করে ভবন নির্মাণ করে যাচ্ছেন। জমির মালিক রাজিয়া জানান, প্রথমে বন্দর থানা পুলিশকে জানাই। পুলিশ এবিষয় কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত রাজিয়ার স্বামী ওসমান গণি জমিতে স্থায়ীবস্থা চেয়ে মামলা দায়ের করলে বিচার মামলাটি আমলে নিয়ে বন্দর থানা পুলিশকে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ ও স্ব-স্ব অবস্থানে উভয়কে পক্ষকে স্থিতিশীল থাকার নির্দেশ দেন।

অথচ পুলিশের জামাতা হাসান আদালতের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে বিচারক বরাবর পালটটা আবেদন করলে আদালত তা না মঞ্জুর করে পরবর্তী তারিখ নির্ধারন করেন। এদিকে হাসান ও হাসানের শশুড় সাবেক পুলিশ কর্তা সুলতান মাহামুদ তার স্থানীয় ক্যাডারবাহিনী উপস্থিত রেখে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজিয়ার স্বামী ওসমান গণি আদালতের নির্দেশের অনুকূলে, পুলিশের কাছে একাধিকবার গিয়ে কোন প্রতিকার পাননি বলে জানান। উল্টো নিজের সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে ওসমান গণি ও তার স্ত্রী রাজিয়া বেগম এবং অষ্টম শ্রেণী পড়–য়া ছেলে হানিফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী ও হত্যা চেষ্টাসহ একাধিক মামলা দিয়ে ফাসিয়ে দেন সাবেক কোর্ট ইন্সপেক্টর সুলতান মাহামুদ।

বর্তমানে একটি চাঁদাবাজী ও হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাবরণ করেন ওসমান গণি ও তার ৮ম শ্রেণী পড়–য়া ছেলে হানিফ। তবে ১২ ফেব্র“য়ারী জামিন লাভ করেন হানিফ। বিষয়টি মাহাবুব হাসান ও হাসানের ভাই মিজানের কাছে মুঠোফোনে জানাতে চাইলে উত্তেজিত কন্ঠে বলেন, এর আগে এক সাংবাদিক আসছিলেন। তাকে চাঁদাবাজী মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছি। এনিয়ে আপনার বেশি বোঝার দরকার নাই। যা করার তা পুলিশ করবে।