ফেসবুক আইডির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, জানুন নিরাপদ রাখার কৌশল

0
449

সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝে মাঝেই বেশ কিছু আপত্তিকর ঘটনা ঘটে ব্যবহারকারীদের সাথে। এর মধ্যে হ্যাকিং অন্যতম। ব্যক্তিগতভাবে আমি এখনো এর কবলে না পরলেও (আলহামদুলিল্লাহ) ফ্রেন্ডলিস্টের অনেককেই দেখেছি হা-হুতাশ করতে। তাদের মধ্যে বেশিভাগেরই দাবী, টাকার জন্য নয়, বরং সামাজিকভাবে তাদের হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই অবৈধভাবে এ্যাকসেস নেয়া হয়েছিল তাদের সোশ্যাল অ্যাকাউন্টগুলোতে।

| আরো জানুন : রিলিজ হলো ফটোশপ সিসি ২০২০ | দেখুন কি কি নতুন ফিচার

| আরো জানুন : CSS এত জটিল কেন | সারজান ফারাবী

| আরো জানুন : HSC Flow Chart সমস্যার সমাধান – সারজান ফারাবী

হ্যাকাররা ওঁত পেতে থাকে তাদের টার্গেট করা কোন সোশ্যাল অ্যাকাউন্টের দিকে। আর যখনই তারা ওই সকল অ্যাকাউন্টগুলোতে কোন প্রকার দুর্বলতা অর্থাৎ উইক সিকিউরিটি খুঁজে পায়, সাথে সাথে ঝাঁপিয়ে পরে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য। ভাবুন তো, কেউ যদি আপনার অ্যাকাউন্টগুলির ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড পেয়ে যায়? এটি নিঃসন্দেহে ধ্বংসাত্মক একটি ব্যাপার হবে এবং এটি সম্ভবত আপনার ব‌্যক্তিগত ও ব্যবসায়ের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বলে কি আমরা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বাদ দিয়ে দেব? একেবারেই নয়।

ব্যক্তিগত ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবসার সাবলীল গতি ও নিরাপত্তার খাতিরে আপনার অ্যাকাউন্টকে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । আর তাই কীভাবে আপনি আপনার মূল্যবান আইডি’টি নিরাপদ রাখবেন, আজ সে সম্পর্কে লিখতে যাচ্ছি আমি সারজান ফারাবী। কোন হ্যাকার আপনার এ্যাকাউন্টে অবৈধ এ্যাকসেস নিলে কয়েকটি সম্ভাব্য ঘটনা ঘটতে পারে, যেমন:

  • আপনার ফলোয়ারদের লিস্ট নিয়ে নিতে পারবে।
  • ফলোয়ারদের কাছে ফিশিং লিংক পাঠিয়ে তাদের এ্যাকাউন্টকে বিপদগ্রস্থ করে ফেলবে।
  • এমনও হতে পারে, ফলোয়ারদের ব্যক্তিগত তথ্য চেয়ে মেসেজ পাঠাতে পারে।
  • আপনার পরিচিত ব্যক্তিদের ইনবক্সে খারাপ ছবি অথবা টেক্সট পাঠাতে পারে।
  • আপনার খুব কাছের কারো থেকে টাকা নিতে পারে।

কিন্তু, এখন প্রশ্ন হলো, সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার অ্যাকাউন্ট কিভাবে নিরাপদ রাখতে পারবেন? তবে আপনার আইডিটি নিরাপদ রাখার আগে আপনাকে জানতে হবে, আপনি কিভাবে বুঝবেন যে আপনার আইডিটি হ্যাকড হয়েছে।

কেউ যদি আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেন, তা হলে আপনার অ্যাকাউন্টে আপনি নিজেও পাসওয়ার্ড দিয়েও ঢুকতে পারবেন না। তবে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে ইমেইল বা পোস্ট যেতে থাকবে। তখন আপনি বুঝবেন আপনি আপনার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন।

আবার এমনও হতে পারে, আপনি আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছেন কিন্তু আপনার নামে আপত্তিকর মেইল বা পোস্ট দেয়া হচ্ছে; সে ক্ষেত্রে আপনি ধরে নিতে পারেন আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে।

চলুন এবার জেনে নেই সোশ্যাল এ্যাকাউন্ট প্রতিরক্ষা সুদৃঢ় করতে করণীয়:

Third-party App গুলোকে অথরাইজ করা থেকে বিরত থাকুন


আপনি যখন কোনও third-party application যেমন কোনও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট শিডিউলার ব্যবহার করেন, তখন তাদের আপনার অ্যাকাউন্টে অ্যাক্সেসের প্রয়োজন হবে। নিশ্চিত হয়ে নিন যে, আপনি কেবল অ্যাক্সেস পাওয়ার জন্য বৈধ অ্যাপ্লিকেশনগুলিকেই অনুমোদন দিচ্ছেন। আপনি অ্যাক্সেস পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশনটিকে ঠিক কী অনুমোদন দিচ্ছেন তার বিশদটি অবশ্যই পড়তে ভুলবেন না।

কিছু অ্যাপ্লিকেশনগুলিকে কেবল ন্যূনতম অনুমতি দেয়ার প্রয়োজন হবে, যেমন, “Read” এবং “Post” করার ক্ষমতা, তাই অ্যাক্সেস দেওয়ার পূর্বে কি কি পারমিশন দিচ্ছেন, তা ভাল করে পড়ুন। আপনার সমস্ত সামাজিক মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলিতে লগইন করা এবং আপনি বর্তমানে আপনার প্রোফাইলগুলিতে অ্যাক্সেসের জন্য কী অ্যাপ্লিকেশনগুলিকে পারমিশন দিচ্ছেন, তা দেখতে ভাল বুঝে নিবেন।

শক্তিশালী ও জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন
বড় ও জটিল পাসওয়ার্ডগুলি মনে রাখা কঠিন ও ঝামেলাপূর্ণ কাজ মনে হয়। এমনকি ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গও হার্ড পাসওয়ার্ডের খুব বেশি পছন্দ করেননি – যতক্ষণ না তাকে হ্যাক করা হয়েছিল। তাই আপনার পছন্দের আইডি নিরাপদ রাখতে একটি বড় এবং জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। এখানে জেনে রাখা ভালো যে, বেশিরভাগ লোক তাদের পাসওয়ার্ডের সুরক্ষাকে খুব বেশি গুরুত্ব সহকারে নেয় না। বেশিরভাগ লোকেরা মনে করেন, “এটি আমার সাথে কখনও হবে না।”

তবে মনে রাখবেন, এটি অবশ্যই ঘটতে পারে, তাই নিশ্চিত হয়ে নিন যে, আপনি এমন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেছেন যা ক্র্যাক করা কঠিন। How Secure Is My Password এর মতো অনলাইন টুল আপনাকে আপনার পাসওয়ার্ডের শক্তি নির্ধারণ করতে সহায়তা করবে। উদাহরণস্বরূপ, এই পাসওয়ার্ডের কথা ধরুন, “Secure100Password3!”। অটোমেটেড সিস্টেম ব্যবহার করে একজন হ্যাকারের এই পাসওয়ার্ডটি ক্র্যাক করতে ৫৫২ কোয়াড্রিলিয়ন বছর সময় লাগবে!

Anti-Virus সফটওয়্যার ব্যবহার করুন
অনেক Internet Service Provide বর্তমানে তাদের ইন্টারনেট পরিসেবার সাথে প্রফেশনাল অ্যান্টি-ভাইরাস ব্যবহার করে তাদের ক্লায়েন্টদেরকে virus ও malware থেকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে। তবে, বিশেষজ্ঞগণ ডেডিকেটেড anti-virus software ব্যবহার করার জন্য জোরালে ভাবে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। একেবারে কোন anti-virus software ব্যবহার না করার চাইতে ফ্রি ভার্সন হলেও AVG ব্যবহার করা ভাল।

Two-factor authentication ব্যবহার করুন
Two-factor authentication পদ্ধতির মাধ্যমে দুটি ভিন্ন উপায়ে একজন ব্যবহারকারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। সাধারণত অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড এবং একটি নিশ্চিতকরণ কোড, যা ব্যবহারকারীর কাছে SMS বা ইমেলের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয় – এই কম্বিনেশন ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর পরিচয় নিশ্চিত করে।

সত্যি কথা বলতে কি, যারা এই ফিচারটি সদ্ব্যবহার করছেন না, তাদের শতভাগই হ্যাকিং এর শিকার হয়েছেন। Two-factor authentication ব্যবহার করা একটু ঝামেলা মনে হলেও আপনার সোশ্যাল অ্যাকাউন্টগুলি সুরক্ষিত করার জন্য ইন্টারনেট জগতে এর চেয়ে ভাল আর কোন বিকল্প নাই।

এবার চলুন জেনে নেই, অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে করণীয়

১. তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানান আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে। সে ক্ষেত্রে জরুরি সেবার যে নম্বর ৯৯৯ রয়েছে সেখানে জানাতে পারেন।

২. এ ছাড়া ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা পরিবারের কারও অ্যাকাউন্ট থেকে জানাতে পারেন যে আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে।

৩. পরিষ্কার জানিয়ে দেন, আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে যেসব পোস্ট বা ছবি শেয়ার করা হচ্ছে, সেগুলো আপনি করছেন না।

এই টুকিটাকি ব্যপারগুলো মেনে চললে আশা করি অনলাইনে আপনার বিচরণ নিরাপদ হবে।

| সারজান ফারাবী,
ওয়েব ডেভেলপার ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব