বন্ধ হওয়ার পথে বাকেরগঞ্জ-ঢাকা লঞ্চ সার্ভিস

0
247

বরিশাল অফিস।।

বরিশাল ব্যুরোঃ বাকেরগঞ্জ পৌর মেয়রের খামখেয়ালীপনায় বন্ধ হওয়ার পথে বাকেরগঞ্জ টু ঢাকা সরাসরি লঞ্চ সার্ভিস। অপরদিকে নির্ধারিত টার্মিনালে ঘাট না দিয়ে অন্যত্র ঘাট দেয়ায় নদী ভাঙ্গনের মুখে আগাবারেরের স্মৃতি বিজরীত উপজেলার ঐতিহ্য বাকেরগঞ্জ বন্দর।

ব্রিটিশ শাসনামল থেকেই বাকেরগঞ্জ ছিলো একটি জেলা শহর। বর্তমান বরিশাল জেলা শহর বাকেরগঞ্জ নামেই পরিচিত ছিলো। তখন থেকেই তুলাতলা নদীর তীরে বাকেরগঞ্জ বন্দর এবং সাহেবগঞ্জে এম এ বারী বাজার নামে দুটি বড় বানিজ্যিক বন্দর গড়ে উঠে । প্রায় ২৫ বছর আগে কদম রসুল নামে একটি দ্বিতল লঞ্চে করে বাকেরগঞ্জ থেকে ঢাকার সঙ্গে স্থানীয়রা যাতায়াত ও ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহন করতো।

ওই সময় লঞ্চটি আই ডব্লিউ ডিএর নির্ধারিত স্থান এম এ বারী বাজারে ঘাট দিতো। স্থানীয় সংসদ সদস্য বেগম নাসরিন জাহান রতনার একান্ত প্রচেষ্টায় গত ঈদের কয়েকদিন আগে অর্থাৎ ২৫ রমজান থেকে ঢাকা টু বাকেরগঞ্জ সরাসরি লঞ্চ সার্ভিস শুরু হলে আশার আলো দেখতে শুরু করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বন্ধ থাকা ঢাকা টু বাকেরগঞ্জ সরাসরি লঞ্চ সার্ভিস পুনরায় চালু হওয়ায় উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার হাজার হাজার জনসাধারণ ও শত শত ব্যবসায়ী নির্বিঘেœ স্বল্প খরচে যাতায়াতের সুবিধা পেয়েছেন।

কিন্তু বাকেরগঞ্জ পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়ার খামখেয়ালীপনায় বন্ধ হওয়ার পথে বাকেরগঞ্জ টু ঢাকা সরাসরি লঞ্চ সার্ভিস। এমভি সাব্বির-৩ ও এমভি মানিক-৯ নামের লঞ্চ দুটি আই ডব্লিউ ডিএর নির্ধারিত স্থান সাহেবগঞ্জ এম এ বারী বাজারে ঘাট দেয়ার কথা থাকলেও পৌর মেয়র খামখেয়ালী এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে টার্মিনালটি সরিয়ে ভাঙ্গন কবলিত বাকেরগঞ্জ বন্দর সংলগ্ন পুরাতন লঞ্চঘাটে সরিয়ে নেয়।

এমএ বারী মার্কেট থেকে লঞ্চ ঘাটটি সরিয়ে পুরাতন লঞ্চঘাটে সরিয়ে নেয়ায় যাত্রীদের যাতায়াত এবং ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। এতে লঞ্চে করে ব্যবসায়ীরা মালামাল পরিবহনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। তাছাড়া লঞ্চ দুটি আই ডবিøউ ডিএর নির্ধারিত স্থান সাহেবগঞ্জ এম এ বারী বাজারে ঘাট না দিয়ে ভাঙ্গন কবলিত বাকেরগঞ্জ বন্দর সংলগ্ন পুরাতন লঞ্চঘাটে ঘাট দেয়ায় গত কয়েকদিনে বাকেরগঞ্জ বন্দর ও তুলাতলা নদীর আশে-পাশের অনেক জমি নদীতে ভেঙ্গে গেছে। এখান থেকে লঞ্চ দুটি অন্যত্র ঘাট না দিলে বাকেরগঞ্জ বন্দর, তৎসংলগ্ন থানা, জামে মসজিদ, সার্বজনীন দূর্গা মন্দির ও ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে বন্দরের মানচিত্র বিলীন হওয়ার পথে। যে কারণে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে বাকেরগঞ্জ বন্দরবাসী।

তাদের এ ক্ষোভ যে কোনো সময় বিক্ষোভে রুপ নিতে পারে। এ কারণে লঞ্চ সার্ভিসটি পুনরায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বাকেরগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, জনস্বার্থেই সাহেবগঞ্জ এম এ বারী বাজারে লঞ্চ টার্মিনালটি রাখা প্রয়োজন। আর তা না হলে লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সদর রোডের ব্যবসায়ী রফিক সুজের স্বত্তাধিকারী ব্যবসায়ী মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, তাদের মালামাল পরিবহন, নিরাপত্তা বিধান ও বাকেরগঞ্জ বন্দরের ঐতিহ্য রক্ষার জন্য লঞ্চ টার্মিনালটি সাহেবগঞ্জ এম এ বারী বাজারে রাখা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য বেগম নাসরিন জাহান রতনা বলেন, উপজেলার ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনসাধারণ ও যাত্রীদের স্বার্থ বিবেচনা করে ভাঙ্গন কবলিত ঐতিহ্যবাহী বাকেরগঞ্জ বন্দর রক্ষার জন্য আই ডব্লিউ ডিএর নির্ধারিত ঘাট সাহেবগঞ্জ এম এ বারী বাজারে লঞ্চ টার্মিনালটি থাকা প্রয়োজন। তিনি এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলেও জানান।