বরিশালের পাপিয়া বাহিনীর মূলহোতাসহ গ্রেফতার ১০

0
192

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে মিলছে একটি গ্রুপভিত্তিক ভয়ানক প্রতারক চক্রের সন্ধান। চক্রটি সুন্দরী তরুণীদের ব্যবহার করে সমাজের উচ্চবিত্তদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে। এবং শারীরিক সম্পর্কের প্রলোভনে আবাসিক বাসায় নিয়ে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ শেষে ভয়ভীতি দেখিয়ে সর্বস্ব কেড়ে নেয়। সম্প্রতি বরিশাল শহরের বগুড়া রোডের বাসিন্দা পেশায় ঠিকাদার এক যুবক তাদের প্রতারণার শিকার হয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে একটি অভিযোগ করেন। মূলত সেই অভিযোগের সূত্র ধরে মঙ্গলবার দিনভর ডিবি পুলিশের বিশেষ একটি টিম অভিযান চালিয়ে এই চক্রের শেকড় খুঁজে পায়। এবং চক্রের মূলহোতা ৫ নারীসহ অন্তত ১০ জনকে গ্রেপ্তারেও সফলতা আসে। তবে এ চক্রের সাথে বরিশাল সরকারি ব্রজমোনহন (বিএম) কলেজছাত্রীসহ আরও অন্তত ৩০ জনের বেশি জড়িত, অনুমান।

ডিবি পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে- ভয়ানক এই চক্রের কোন এক তরুণী সদস্য ধনকুবের ব্যক্তিকে টার্গেট করে তার সাথে প্রথমে মুঠোফোনে কথা বলা শুরু করে। ধীরে ধীরে তাদের মাঝে সম্পর্ক গভীর হলে একপর্যায়ে সুন্দরী তরুণীর প্রস্তাবে উভয়ের মাঝে দেখা সাক্ষাত হয়। পরে ব্যক্তিকে অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর প্রস্তাব দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় নির্দিষ্ট কোন একটি আবাসিক ভবনে। মুলত সেখানে নেওয়ার পরে ওই ব্যক্তিকে শারীরিক সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে বিবস্ত্র করলে তরুণী সঙ্গী দুজন পুরুষ এসে নিয়ে ডিবি পরিচয় দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার হুমকি দেয় এবং ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থসহ সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে তাকে মুক্তি দেয়।

অভিন্ন তথ্য দিয়ে ডিবি পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, বগুড়া রোডের বাসিন্দা সোহেল আল মাসুদের ক্ষেত্রেও একই ধরণের প্রতারণা হয়েছে। বিএম কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রী মুঠোফোনে ঘনিষ্ট হলে দীর্ঘদিনের আলাপচারিতায় তাদের মাঝে হৃদয়ঘটিত সম্পর্ক হয়। ওই ছাত্রী মঙ্গলবার সকালে শহরের কালিবাড়ি রোডে সরকারি বরিশাল কলেজের সামনে দেখা করে এবং কলেজছাত্রী তার স্বজনের বাসায় মাসুদের সাথে অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর প্রস্তাব দিয়ে নিয়ে যায়। শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের চ্যাটার্জী লেনের লাবু মিয়ার ভাড়াটিয়া বাসায় নিয়ে ঠিকাদারকে আটকে বিবস্ত্র করে এমন সময়ে প্রতারক চক্রের দুই সদস্য জাকির ও মামুন ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে মারধরের একপর্যায়ে বিবস্ত্র শরীর ভিডিও করে। পরে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে ঠিকাদারের কাছ থেকে নগদ ৯ হাজার টাকা ও পরবর্তীতে বিকাশের মাধ্যমে আরও ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। প্রতারণার শিকার মাসুদ পুরো ঘটনাটি উল্লেখ করে ওইদিন পুলিশ কমিশনারের কাছে একটি অভিযোগ করলে তাদের ধরতে মাঠে নেমে সফলতা পায় ডিবি পুলিশ।

অভিযান পরিচালনাকারী ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন মাহি জানান, মঙ্গলবার দিনভর শহরের বিভিন্ন আবাসিক ভবনে হানা দিয়ে চক্রটির মুলহোতা খুশি বেগমকে গ্রেপ্তার করেন। পরবর্তীতে চক্রের অপরাপর সদস্য জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী মঞ্জুয়ারা মনি, মকবুল হোসেন ও তার স্ত্রী লিজা বেগম, মামুন বায়াতী, সেলিম হাওলাদার, আরিফুর রহমান তালুকদার, ফারজানা আক্তার ঝুমুর এবং আশা আক্তারকেও গ্রেপ্তারে সফলতা আসে। তবে এ চক্রের সাথে বিএম কলেজ পড়–য়া নারী শিক্ষার্থীসহ আরও অন্তত ৩০ জনের বেশি জড়িত রয়েছে। এখন তাদেরকেও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এর আগে বুধবার অপরাহ্নে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করেন নগর বিশেষ শাখার উপ-কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দার।’