বরিশালে গাঁজা গাছসহ সংবাদকর্মীর বাবা আটক

0
67

স্টাফ রিপোর্টার :: বরিশাল নগরীর জনৈক সংবাদকর্মীর বাবাকে দুইটি গাঁজা গাছসহ আটক করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত ৮ মার্চ (রবিবার) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে জিয়া সড়ক এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তবে আটকের পর ডিবি অফিস থেকে রাত ৩ টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। ডিবি পুলিশের এসআই হেলালউজ্জামান ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

আটককৃত ব্যক্তি হলেন নগরীর জিয়া সড়কের মদিনা মসজিদ এলাকার নুরুল ইসলাম (৬০)। তার পুত্র হিরা নিজেকে স্থানীয় একটি অনলাইন পত্রিকা ও একটি টিভি চ্যানেলের সংবাদকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, গত রবিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ডিবির একটি টিম সাংবাদিক হিরার দুলাভাই রাজমিস্ত্রি জাকিরকে নিজ ঘরের পাশে গাঁজাগাছ থাকার অপরাধে আটক করে। এসময় হিরার দুলাভাই ডিবি পুলিশকে জানান, গাঁজা গাছের মালিক তিনি নন, তার শ্বশুরের গাছ এটি। পরে ডিবি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়ে তার শ্বশুর রাজমিস্ত্রি নুরুল ইসলামকে আটক করে ডিবি অফিসে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা আরও বলেন, রাতে আটকের পরের দিন সকালে নুরুল ইসলামকে এলাকায় দেখে অবাক হয়ে যাই। দুটি গাঁজা গাছসহ আটক হয়ে তিনি কিভাবে ছাড়া পেলেন। এবং তার বিরুদ্ধে কোন মামলা হলোনা।

ডিবির এসআই হেলাল জানান, সংবাদকর্মী হিরার বাবা রাজমিস্ত্রি নুরুল ইসলামকে দুইটি গাঁজা গাছসহ আটক করে ডিবি অফিসে নিয়ে আসা হয়েছিলো। কিন্তু ডিবি অফিসে আনার পরে কমিশনার স্যারের সাথে কথা বলে ডিবির ডিসি ও এসি স্যার তাকে ছেড়ে দেন। আমি এর বেশি কিছু জানি না। তাকে ছেড়ে দেয়ার বিনিময়ে কোন আর্থিক লেনদেন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুত্র হিরার জিম্মায় নুরুল ইসলামকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে, এর বেশি কিছু নয়। গাঁজা গাছসহ আটকের পরে কোন ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়া যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খোঁজ খবর নিয়ে জেনেছেন যে নুরুল ইসলাম পান-সিগারেট পর্যন্ত খান না। তাই তাকে তার পুত্রের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। স্থানীয়রা বলছিলেন যে ওই স্থানে গাঁজা গাছ দুটি তিনি নিজেই রোপণ করেছিলেন এবং প্রতিদিন গাছ দুটির পরিচর্যা করতেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নুরুল ইসলামের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, তিনি জানতেন না যে গাছ দুটি গাঁজা গাছ। তিনি মনে করেছেন গাছ দুটি বন্য প্রজাতির। তাহলে গোড়ায় সার দিয়ে রোপণ করা হয়েছিলো কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন ঔষধী গাছ মনে করে তিনি রোপণ করেছিলেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নুরুল ইসলামের জামাই জাকিরের ঘরের পাশেই খুব যত্নসহকারে গোড়ায় জৈব সার দিয়ে গাছ দুটি রোপণ করা হয়েছিলো। স্থানীয়রাও জানান, প্রতিদিনই গাছ দুটির পরিচর্যা করতেন নুরুল ইসলাম। অবশ্য তার প্রমাণও পাওয়া গেছে। যে স্থান থেকে গাছ দুটি ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে এসেছে সে স্থানে জৈব সার দিয়ে রোপণ করার চিহ্নও রয়েছে।

এ বিষয়ে ডিবি’র এসি নরেস চন্দ্র কর্মকার বলেন, মানবিক কারণে ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কারণ ওই ব্যক্তিকে দেখে মনে হয়নি যে তিনি নিজেই গাঁজা গাছ দুটি রোপণ করেছেন। এলাকাবাসী বলেছেন গাছ দুটি পরিচর্যা করে বড় করে তোলা হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্য কেউ হয়তো তার জমিতে গাছ দুটি রোপণ করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। তিনি আরও বলেন, ডিবির ডিসি স্যারের সাথে বিষয়টি আলাপ করেই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে এসি নরেস চন্দ্র কর্মকার বলেন, আমি বরিশাল ডিবি অফিসে যোগদান করার পরে ডিবির বিরুদ্ধে কোন অপকর্মের খবর শুনেছেন? তাহলে বুঝে নিন আমি কিভাবে কাজ করছি!