বিরক্ত করার কেউ নেই, রাস্তায় ঘুমিয়ে নিচ্ছে সিংহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো দক্ষিণ আফ্রিকাতেও লকডাউন চলছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সবার বাইরে বের হওয়া নিষেধ। তাই রাস্তা-ঘাটে মানুষের আনাগোনা কম। আর এই সুযোগে একটু বাইরে ঘুরেফিরে নিচ্ছে পশুরা।

সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার রাস্তায় দেখা গেছে, একদল সিংহ ফাঁকা রাস্তার উপর বসে জিরিয়ে নিচ্ছে। গত সোমবার (১৫ এপ্রিল) দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কের রক্ষী রিচার্ড সোরি সিংহগুলোর কয়েকটি ছবি দিয়ে টুইট করেন।

টুইটে তিনি বলেন, এই সিংহগুলো কেম্পিয়ানা কন্ট্রাক্টাল পার্কে থাকে। এদিকে খুব একটা যান না ক্রুগার পর্যটকরা। এ কারণে সিংহগুলো চোখেও পড়ে না। এদিন বিকেলে অর্পেন রেস্ট ক্যাম্পের পাশের রাস্তায় শুয়ে ছিল সিংহগুলো।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা গত ২৩ মার্চ থেকে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছেন। এর প্রেক্ষিতে গত ২৫ মার্চ থেকে ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কসহ অন্যান্য পার্ক বন্ধ রাখা হয়েছে।

ক্রুগার ন্যাশনাল পার্ক উত্তর-পূর্ব দক্ষিণ আফ্রিকার প্রায় ২ মিলিয়ন হেক্টরজুড়ে বিস্তৃত। মহিষ, হাতি, চিতাবাঘ, সিংহ এবং গণ্ডারসহ অসংখ্য বন্যপ্রাণী রয়েছে এই পার্কে।

২০০৫-০৬ সালে করা এক পরিসংখ্যানের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কে ১৬০০ সিংহ রয়েছে।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে দক্ষিণ আফ্রিকাতে এখন পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এতে মৃত্যু হয়েছে ৪৮ জনের।

বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় দক্ষিণ আফ্রিকা অপেক্ষাকৃত দ্রুত, কার্যকর এবং অনেকটা কঠোরভাবে তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। করোনা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ভয়ানক একজন নেতা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন।

নেতা হিসেবে সহানুভূতিশীল, ধীর স্থির চরিত্রের অধিকারী হলেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও বেসরকারি খাত থেকে সাহায্যের প্রবাহ নিশ্চিত করে পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রেসিডেন্টের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুয়েলি এমখিজেও তার কর্মচঞ্চল ও পরিস্থিতি বিবেচনায় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি মার্জিত ও ওয়াকিবহাল দৈনিক সংবাদ সম্মেলনের জন্য বিশ্বব্যাপী নন্দিত হয়েছেন।

নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা লকডাউন বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক সময় পুলিশ এবং সেনাবাহিনী লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জোহানেসবার্গ এবং অন্যান্য এলাকার রাস্তায় সাধারণ মানুষকে পেটানো, অসম্মানজনক আচরণ থেকে শুরু করে গুলিও করছেন।