মাথা উঁচু করে বলতে পারি, আমরা বাঙালী

0
365

আজ মহান বিজয় দিবস। এ দিনটি বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিবস। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নাম জানান দেয়ার দিন। শুধুমাত্র কয়েকটি শব্দ বা বাক্য প্রয়োগ করে এই দিনটির মাহাত্ম বর্ণনা করা যায় না। আজকের এই বিজয় দিবস যে শুধুমাত্র একটি জাতীয় দিবসই নয়, বরং দল-বল নির্বিশেষে যে দিনটি আমাদের স্বাধীনতার পরম সুখের স্পর্শ দিয়েছিল, আজ সেই দিন; আজ বিজয়ের দিন।

এত ত্যাগ আর আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে যে দেশটির জন্ম, সে দেশটির উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছানো এখন কেবল সময়ের দাবি মাত্র। স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যত অপশক্তি ছিল, আজ তা কঠিন হাতে প্রতিহত করে কেবলই সামনে এগোবার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলছে দেশ। আজ এই স্বাধীন দেশের আলো বাতাসে শান্তির নিশ্বাস নিয়ে আমার শুধুই মনে পরছে সেই মহামানবের কথা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা। শুধু আমিই নই, এ দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য প্রথমেই এবং বারবার সকলের কাছেই যে নামটি উচ্চারিত হবে তা হল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার অস্তিত্ব না থাকলে আমাদেরর এই স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন কেবলই অলীক থাকতো, আজ এই স্বাধীনতা উদযাপনের লগ্নে আমরা দৃঢ়চিত্তে বলতে পারি, তার স্বপ্নের সোনার বাংলা আমার গড়ে তুলবো, তারই আদর্শের সাথে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, যে কোনো বড় বিষয় অর্জন করা কঠিন কাজ। কিন্তু অর্জিত বিষয়টিকে রক্ষা করা তার চেয়েও কঠিন, গুরুত্বপূর্ণ ও দরকারি কাজ। এই নীতিটি যদি আমাদের স্বাধীনতার সঙ্গে, রাষ্ট্রের অর্জিত স্বাধীনতা ও স্বাধীন অস্তিত্বের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয় তাহলে সেটি আরও জোরালোভাবে ধরা পড়ে। কষ্টার্জিত এই স্বাধীনতার ৪৯ বছর পূর্তিকালে দেশপ্রেমে অনড় থেকে আমাদেরকে এই স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে।

স্বাধীনতার এত বছর পরও বিদ্যমান অনেক প্রতিবন্ধকতা মনে বিষন্নতার জন্ম দেয়। স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও আমরা অনেক সময় সত্য প্রকাশ করতে অনীহাবোধ করি। আমরা আমাদের দেশ থেকে দুর্নীতিকে আজও বিদায় দিতে পারছি না। এর জন্য সব অশান্তি সৃষ্টিকারী মহলকে আইনের মুখোমুখি করতে হবে। দেশ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ লঙ্ঘনকারীদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনতে হবে। স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হয়েও আমরা স্বাধীনতাকে সঠিকরূপে মূল্যায়ন করতে পারছি না। এর থেকে বড় লজ্জার আর কি আছে। শুধুমাত্র নিজের নয়, দেশের কল্যাণে ব্রত হয়ে আমাদের সত্যের পথে লড়তে হবে আজীবন।

বিজয়ের এই ৪৯ বছর অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়েছে বাঙালী জাতি। কখনো সামনে এগিয়েছে, আবার পিছিয়ে গেছে নানা রাজনৈতিক টানাপোড়নে। তবুও হতোদ্যম হয়নি বাঙালী জাতি। দেরীতে হলেও শুরু হয়েছে ইতিহাসের দায়-মোচনের প্রচেষ্টা। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার সম্পন্ন হয়েছে, চলছে একাত্তরের মানবতা বিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। এর মধ্যে অনেকের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে । হার না মানা বাঙালি অর্থনৈতিক-সামাজিক এবং ক্রীড়াতেও উড়াচ্ছে বিজয় নিশান। আর এভাবেই বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে যেন আমরা বলতে পারি, আমরা বিজয়ী জাতি, আমরা বাঙালী জাতি, এই হোক আমাদের বিজয় দিবসের ব্রত। এগিয়ে চলুক বাংলাদেশ, এগিয়ে চলুক বাঙালী জাতি। জয় বাংলা।

| সারজান ফারাবী
ওয়েব ডেভেলপার ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব