মৌলভীবাজারে নাসিরপুরে অপারেশন হিট ব্যাক সমাপ্ত জঙ্গি আস্তানায় ৭-৮ জন জঙ্গি ‘আত্মহত্যা’

0
267

মোঃ জহিরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি।।

মৌলভীবাজারে সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের নাসিরপুর গ্রামে একটি বাড়িতে থাকা জঙ্গি আস্তানায় ৭-৮ জন জঙ্গি ‘আত্মহত্যা’ করেছে বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের ডিসি মনিরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার কিছুক্ষণ পরমৌলভীবাজারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এমন তথ্য জানান। তিনি বলেন, অভিযানের শুরুতেই আত্মহত্যা করে জঙ্গিরা। তিনি বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মৌলভীবাজার পুলিশ নাসিরপুরের ফতেপুরের জঙ্গি আস্তানাটি ঘেরাও করে রাখে।

গতকাল বুধবার তারা সেখানে পৌঁছায়। ঘটনাস্থলে আমিসহ সোয়াট ও বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিটের ডিসি এখানে উপস্থিত রয়েছি। গতকাল সোয়াট আসার পরে অভিযানের গুরুত্ব ও যে ধরনের বিস্ফোরকের ভান্ডার সেটি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সিদ্ধান্ত ছিল, ট্যাকটিকাল অপারেশন সোয়াট টিম করবে। আর এপিবিএন, কাউন্টার টেররিজমের অন্যান্যরা সাপোর্টিভ জায়গায় কাজ করবে। এরপর জঙ্গিরা ১২টা বিস্ফোরণ ঘটায়। সোয়াট বুধবার বিকেলে অভিযান শুরুর আগে মাইকের সাহায্যে আত্মসমর্পণের জন্য তাদের বারবার অনুরোধ জানায়। এটা আশেপাশের মানুষও শুনেছেন। আর ওই সময়টাতেই তাদের পক্ষ থেকে প্রচন্ড বিস্ফোরণ শুরু হয়।

মনিরুল আরও বলেন, কিছুক্ষণ আগে (বৃহস্পতিবার দুপুরে) বাড়িটিতে প্রবেশ সম্ভব হয়। বাড়িটিতে গ্রেনেড ও শক্তিশালী বোমা ছড়ানো ছিটানো ছিল। জঙ্গিরা শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। কাল (বুধবার) সোয়াট অভিযান শুরু করলে পালানোর পথ নাই দেখে সম্ভবত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ওরা সপরিবারে আত্মহনন করেছে।

তিনি বলেন, সেখানে সাত আটটি ডেডবডি (মৃতদেহ) হতে পারে। আপনারা চিত্র ধারণ করলেও তা প্রচার করতে পারবেন না এতটাই বীভৎস হয়ে গেছে দেহগুলো।

মনিরুল আরও জানান, আমরা সূত্র ধরে অনুসন্ধান করছিলাম বলে নিশ্চিত হয়েই বলতে পারি, নব্য জেএমবি সদস্যরাই এ বাড়িটিতে আত্মগোপন করেছিল।

বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে চারটার দিকে নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন হিট ব্যাক’ শেষ হয়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অপারেশন হিট ব্যাক শেষ হওয়ার পর বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ওই বাড়িটির ভেতরে প্রবেশ করেছেন। তারা সুইপিং এর কাজ করছেন। এরপর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট বাড়িতে ঢুকবে। পরে সেখানে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে লাশগুলো মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে অপারেশন হিট ব্যাক শুরু করে পুলিশের বিশেষায়িত সোয়াত টিমের সদস্যরা। তবে আলোর স্বল্পতার কারণে রাতে অভিযান স্থগিত রাখা হয়। অভিযান শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে মুহুর্মুহু গুলি চালানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ফের অপারেশন হিট ব্যাক শুরু করেন সোয়াত টিমের সদস্যরা। অভিযানে সিটিটিসির সদস্যরা ড্রোন ব্যবহার করেন বলেও জানা গেছে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সোয়াট বাহিনী নাসিরপুরে নতুন করে অভিযান শুরুর পর পৌনে ১২টার দিকে বেশ কিছু সময় সেখানে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। পরে কয়েকটি বিস্ফোরণেরও শব্দ পাওয়া যায়। পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ও ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ওই বাড়ির কাছেই অবস্থান নিয়ে আছেন। সোয়াট সদস্যদের অভিযান শেষে তাদের কাজ ‍শুরু হবে। তার আগে ড্রোন পাঠিয়ে ভেতরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরিকল্পনা রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের। এদিকে মৌলভীবাজার শহরের বড়হাট এলাকাল অন্য জঙ্গি আস্তানা ঘিরেও চুড়ান্ত অভিযানের প্রস্তুতি চলছে।

লন্ডন প্রবাসী এক ব্যক্তির মালিকানাধীন এ দুটি বাড়ি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বুধবার ভোরে ঘিরে ফেলে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এরপর দিনভর থেমে থেমে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায় দুই এলাকা থেকে। বিকালে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট পৌঁছানোর পর নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় শুরু হয় ‘অপারেশন হিট ব্যাক’। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বৃষ্টির মধ্যেই অভিযান শুরুর পর বাগানঘেরা ওই বাংলো ধাঁচের বাড়ির দিক থেকে টানা গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। তবে সাড়ে ৭টার পর পরিস্থিতি চুপচাপ হয়ে আসে। রাত ১১টার দিকে র‌্যাবের শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের অধিনায়ক এএসপি মো. মাইনুদ্দীন জানান, আলোর স্বল্পতার কারণে অভিযানে বিরতি দেওয়া হয়েছে, ভোরে আবার শুরু হবে। কিন্তু ভোররাতে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে অভিযান আরও বিলম্বিত হয়। সোয়াট সদস্যরা সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নাসিরপুরে এলেও তাদের বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় থাকতে হয়

প্রায় ১৮ কিলোমিটার ব্যবধানে ওই দুই বাড়িরই মালিক লন্ডন প্রবাসী এক ব্যক্তি। দুই বাড়িতে নারী ও শিশুসহ জনা দশেক লোক রয়েছে বলে ধারণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ওই দুই এলাকায় আগের দিনই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ। এদিকে বুধবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ীতে আরও একটি বাড়ি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে ফেলে কাউন্টার পুলিশের টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা। তবে বৃহস্পতিবার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন থাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ভোটের পর সেখানে অভিযান হবে। সেই হিসেবে আজ শুক্রবার কুমিল্লায় অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।