শিগগিরই নিষিদ্ধ হচ্ছে ‘নব্য জেএমবি’

0
291
সময়ের বার্তা ডেস্ক।।

সাম্প্রতিক সময়ে টার্গেটেড কিলিংয়ে আলোচনায় আসা জঙ্গি সংগঠন ‘নব্য জেএমবি’কে নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

শনিবার (০৮ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি)  মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শুক্রবার (০৭ এপ্রিল) রাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের (এবিটি) শরিয়া বোর্ডের সদস্য মো. মাকসুদুর রহমান ওরফে আবদুল্লাহকে গ্রেফতার করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি দক্ষিণ) সদস্যরা।

এ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি’র প্রধান জানান, জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবিকে নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সিটিটিসি’র পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পুলিশ সদর দফতরের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

কেন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে নব্য জেএমবিকে- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি দল যখন নিষিদ্ধ ঘোষণা হয়, তখন ওই দলটির কর্মী সংগ্রহ করতে বেগ পেতে হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনে কেউ কাজ করতেও চান না। ফলে সাংগাঠনিক ভাবে দলটি দুর্বল হয়ে পড়ে’।

তিনি বলেন,  ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য হওয়াটাই একটি অপরাধ। ফলে অপরাধী হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সুবিধা ও সুযোগ তৈরি হয়। মানুষের মনেও একটি ধারণা তৈরি হয়, কেন তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য হবেন? তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে, কারা এ সংগঠনে আছেন’।

‘আপনারা জানেন যে, গত মাসে আনসারুল্লাহ বাংলাটিমকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে’।

২০০৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি নিষিদ্ধ হওয়া জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) একটি অংশ ২০১৩ সাল থেকে ‘নব্য জেএমবি’ নামে আত্মপ্রকাশ করে। প্রথম দিকে সংগঠনটি মধ্যপ্রাচ্যের ইরাক ও সিরিয়ায় জিহাদি পাঠানো শুরু করে। ২০১৪ সালের ২৯ জুন ইরাক-সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) খেলাফত ঘোষণার পর নব্য জেএমবি ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে বিদেশি নাগরিক, ভিন্ন মতাবলম্বী ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের টার্গেট ও হত্যা শুরু করে।

গত বছরের ০১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে দেশি-বিদেশি ২০ নাগরিক ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার পর নতুন করে আলোচনায় আসে সংগঠনটি।